মেডিটেশনের ৬টি প্রচলিত প্রশ্ন | 6 Common Questions of meditation in bengali

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি আজ জানতে পারবেন Meditation নিয়ে ৬টি অজানা তথ্য সম্পর্কে এবং সেগুলোর পাবেন যথাযথ উত্তর | দেখুন বর্তমান যুগে মেডিটেশন কথাটা তো সবাই শুনেছে | কিন্তু এই সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক কোনো ধারণা নেই |

কিন্তু এই নিয়ে চিন্তা করার আর আপনাকে অন্তত দরকার নেই কারণ এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে আপনি আজ Meditation সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে যাবেন | তা চলুন সেগুলো তবে জেনে নেওয়া যাক |

প্রশ্ন নাম্বার এক: মেডিটেশন করার অর্থ কি নিজের মস্তিষ্কের চিন্তা করার শক্তিকে পুরোপুরি Blank করে দেওয়া?

এই প্রশ্নটা সবথেকে জনপ্রিয় | আজও অনেক মানুষ মনে করেন মেডিটেশন করলে নাকি তাদের চিন্তা একদম গায়েব হয়ে যাবে | মস্তিস্ক পুরোপুরি blank আর শান্ত হয়ে যাবে | দেখুন শেষের ধারণাটা তো ঠিক, এটা সত্যিই আপনার মস্তিস্ককে তথা মনকে শান্ত করে দেবে |

কিন্তু মস্তিষ্কের মধ্যেকার চিন্তা করার শক্তিকে কখনই blank করে দেবেনা | এরকম সত্যিই যদি আপনি করতে চান, তাহলে আপনি কোমায় যাওয়ার ভাবনায় মেতে আছেন | কারণ এটা একমাত্র সেই অবস্থাতেই সম্ভব | আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করার ধরন মোটেই এরকম নয় |

আপনি যা কিছুই practice করুন না কেন আপনার মস্তিষ্কে 60 থেকে 70 হাজার চিন্তা প্রতিদিন আসবেই | এটাকে কেউই আটকাতে পারবেনা | 

মেডিটেশনের কাজ হলো আপনার অতিরিক্ত চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ওয়ার্ক লাইফের সাথে আপনার স্বাভবিক জীবনকে ব্যালান্স করানোর চেষ্টা করা |

আপনার জীবনে সকল অশান্তির মূল কারণ হলো আপনার অতিরিক্ত চিন্তা নাকি অন্য কেউ | সবাই একে অপরকে নিয়ে বা নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে চলেছে বলেই প্রত্যেকের জীবনে এত স্ট্রেস বা অশান্তি |

Balance লাইফস্টাইল আপনার জীবন থেকে এইসব স্ট্রেস বা অশান্তি দূর করে দিতে পারে | শুধু এটাকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিটের মেডিটেশন |


প্রশ্ন নাম্বার দুই: মেডিটেশন চোখ খুলে করা উচিত নাকি চোখ বন্ধ করে?

এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দুটোই | আপনি চোখ খুলেও meditation করতে পারেন আবার চোখ বন্ধ করেও মেডিটেশন করতে পারেন | choice আপনার উপর |

কিন্তু আমি মনে করি মেডিটেশন সবার প্রথমে চোখ বন্ধ করে practice করা উচিত | কারণ আপনি যদি প্রথমেই চোখ খুলে মেডিটেশন করা শুরু করেন তাহল আপনি খুব সহজে আপনার মনকে ফোকাস করতে পারবেন না | যারফলে আসবে বিরক্তির ভাব |

মেডিটেশন করার অর্থ কিন্তু সর্বদা ফোকাস থাকা সেটা চোখ খুলেই হোক কিংবা চোখ বন্ধ করে | কিন্তু এই ফোকাসের লেভেলকে বাড়ানোর জন্য আপনার অনেকদিনের প্র্যাকটিসের প্রয়োজন, মিনিমাম তো ৩ মাসের প্রয়োজনই প্রয়োজন |

যখন আপনি automatically চোখ বন্ধ অবস্থায় মেডিটেশনের মাধ্যমে নিজের ফোকাসকে একটা লেভেল পর্যন্ত বাড়িয়ে নেবেন | তখন আপনার পক্ষে যেকোনো অবস্থায় মেডিটেশন করা কোনো সমস্যাই হবেনা |

আপনি সর্বদা তখন ধ্যানের অবস্থাতেই থাকবেন অর্থাৎ সহজ কথায় যদি বলি আপনি একদম highly focused মানুষে পরিনত হয়ে যাবেন আর অবশ্যই হবেন ধৈর্য্যশীল ও শান্ত |


প্রশ্ন নাম্বার তিন: মেডিটেশন করার সঠিক জায়গা কোনটা?

Meditation করার সঠিক জায়গা যেকোনো হতে পারে কিন্তু এখানে শর্ত মাত্র একটাই সেই জায়গাটা অবশ্যই যেন একদম শান্ত অথবা নিরিবিলি হয় | যেখানে মানুষের অতিরিক্ত কোলাহল সেখানে মেডিটেশন না করাই ভালো কারণ অতিরিক্ত কোলাহলের মধ্যে মেডিটেশন করলে আপনি এর থেকে কোনো প্রকার আন্তরিক উপকার পাবেন না |

তাই এমন একটা জায়গা খুঁজুন যেটা আপনার মতে শান্ত অথবা নিরিবিলি | সেটা আপনার বাড়ির যেকোনো ঘরও হতে পারে বা  আশপাশের কোনো পার্ক বা মাঠও হতে পারে |


প্রশ্ন নাম্বার চার: কতক্ষণ ধরে আমাদের মেডিটেশন করা উচিত?

অনেকের মনের মধ্যেই এই প্রশ্নটা আসে যে, মেডিটেশন একজন মানুষ কতক্ষন ধরে করবে | একটা কথা জেনে রাখবেন, মেডিটেশন আপনি যতক্ষন ধরে করতে পারবেন ততই আপনার পক্ষে ভালো | কিন্তু অনেক্ষন ধরে না করতে পারলে অন্তত ১৫ মিনিট করাই উচিত | এর থেকে কম সময়ের মধ্যে শেষ করলে আপনি এর থেকে বেনিফিট অনেক দেড়িতে পাবেন |

কিন্তু একটা কথাই বলে রাখি, আপনি যদি এর আগে কোনোদিন মেডিটেশন না করেন তাহলে জোর করে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করার কোনো দরকার নেই | আপনি আগে কিছুদিন ৫ মিনিট করে রোজ মেডিটেশন করুন তারপর ধীরে ধীরে সেই ৫ মিনিটকে ৭ মিনিট, তারপর ১০ মিনিট ও তারও পর ১৫ মিনিটে নিয়ে যান |

এর যখন আপনার মনে হবে, ১৫ মিনিট করে মেডিটেশন আপনি অনায়াসে করতে পারছেন তখন আবার নিজের এই প্র্যাকটিসের সময়কে বাড়ান |

আর হ্যাঁ এরজন্য অবশ্যই মোবাইলে টাইমারের সাহায্য নিন |


প্রশ্ন নাম্বার পাঁচ:  আমি কি কোনো ধরনের হালকা music চালিয়ে meditation করতে পারি? আর এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আমি কোণ ধরনের music চালাবো?

আপনি হয়তো এটা শুনেছেন যে music আমাদেরকে ভিতর থেকে heal করতে পারে | একটা ভালো ধরনের music এর মধ্যে কিন্তু সত্যিই সেই ক্ষমতা থাকে |

মেডিটেশন করার সময়ে আপনি কিন্তু music এর ব্যবহার করতে পারেন | Youtube-এ আপনি সার্চ করলেই বিভিন্ন ধরনের মেডিটেশনের জন্য music পেয়ে যাবেন | এছাড়াও আপনি white noise music শোনার মাধ্যমেও মেডিটেশন করতে পারেন |

এবার আপনি যদি white noise কথাটা জীবনে প্রথম শুনে থাকেন তাহলে আপনাকে এর অর্থ সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিই | white noise হচ্ছে এমন ধরনের সাউন্ড যেটা প্রাকৃতিক | উদাহরণ স্বরূপ: ঝিজিপোকার ডাক, নদী বা সমুদ্রের কলতান কিংবা পাখির ডাক ইত্যাদি |

আর youtube-এ সার্চ করলেই আপনি বিভিন্ন ধরনের white noise music পেয়ে যাবেন | আমার পার্সোনাল মত অনুযায়ী মেডিটেশন music শুনে মেডিটেশন করার চেয়ে white noise music শুনে মেডিটেশন করা অনেক ভালো |

যেহেতু এগুলো এক একটা ন্যাচারাল সাউন্ড তাই আপনার মস্তিস্ক এক্ষেত্রে ভীষনভাবে distracted হবেনা | কিছুক্ষণ এই ন্যাচারাল সাউন্ডের মাধ্যমে মেডিটেশন করলে আপনার মস্তিস্ক এমনিতেই শান্ত আর focused হয়ে যাবে |

কিন্তু আমার কথা মানার আগে সবার প্রথম নিজে আগে যাচাই করে নেবেন | আপনার কোন musicটা বেশি ভালো লাগছে মেডিটেশন  করার সময় |

আরেকটা কথা বলে রাখি, সর্বদা music চালিয়েই কিন্তু আপনি কখনই মেডিটেশন করবেন না | সপ্তাহে এক দুবার ঠিক আছে কিন্তু প্রতিদিন করা ঠিক নয় | নরমালভাবে মেডিটেশন করারই সর্বদা চেষ্টা করো |


সবশেষে প্রশ্ন নাম্বার ছয়: Meditation করার সঠিক বয়স কত? এবং বাচ্চারাও কি মেডিটেশন করতে পারে?

মেডিটেশন করার নির্দিষ্ট কোনো বয়স হয়না | এটা করা কেউ দশ বছর বয়স থেকে শুরু করতে পারে আবার ষাট থেকে সত্তর বছর বয়সে গিয়েও করতে পারে | এক্ষেত্রেও choice একদম তার |

বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজ আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে এই ভুল ধারণাটা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, মেডিটেশন তারাই করে যারা অনেক বয়স্ক হয় |

যেই কথাটা কিন্তু একদমই সত্যি নয় |

শুনুন মেডিটেশন হচ্ছে একধরনের মাইন্ড ট্রেনিং যেটা সকলেরই সবার আগে করা প্রয়োজন কারন আমি এই লেখার প্রথমেই বলেছি আমাদের জীবনে যা কিছু সমস্যা হচ্ছে তার মূল উৎস হচ্ছে আমাদের মন আর আমাদের অনিয়ন্ত্রিত চিন্তা |

তাই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অতিরিক্ত চিন্তাকেও নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রাচীন পদ্ধতি হলো এই মেডিটেশন |

এবার, বাচ্চাদেরকে মেডিটেশনকে করানোর advice হিসাবে আমি বলতে পারি যে, সাত বছরের নীচে কোনো বাচ্চাকেই মেডিটেশন করানো উচিত নয় কারণ তার আগে পর্যন্ত তাদের মানসিক বিকাশ তেমন একটা হয়না |

কমপক্ষে সাত বছর বয়স যদি না হয় আপনার সন্তানের, তাহলে তাকে কখনোই জোর করে মেডিটেশন করানোর চেষ্টা করবেন না | মেডিটেশন কিন্তু জোর করে করার জিনিস নয় বা জোর করে করানোর জিনিস নয় এটা সর্বদা মাথায় রাখবেন |


আশা করি মেডিটেশন নিয়ে আপনার সমস্ত doubt আমরা clear করতে পেরেছি | লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই এটিকে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানান আপনার মতামত |


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

মেডিটেশন ও এর উপকারিতা | What is Meditation and Its Benefits in Bengali

Meditation বা ধ্যান কী ?

এখনকার সময়ে খুবই প্রচলিত একটা কথা হলো ধ্যান বা মেডিটেশন।  সবাই এই ধ্যান বা Meditation শিখতে চায় কিন্তু এই ধ্যান কিন্তু কোনো শেখার জিনিস নয় বরং এটা একটি অবস্থার গুণ স্বরূপ। আপনি বা আমি ধ্যান করতে পারি না বরং আমরা ধ্যান মগ্ন হতে পারি।

যদি আমরা গভীর ভাবে বুঝতে চাই তবে ধ্যান একটি গাছের ফলের মতো | যদি আমরা মাটি, জল ও সার ইত্যাদি দিয়ে সেই গাছকে ঠিক ভাবে খেয়াল রাখি তবে সেই গাছ  নিশ্চিত ফল দেবে।

তেমনি মেডিটেশন বা ধ্যান একটি অবস্থা যা আপনার ইমোশন, আপনার মন ও আপনার শরীরকে নির্দিষ্ট বাতাবরণ প্রদান করে যাতে আপনি তার ফল স্বরূপ ধ্যানস্থ হতে পারেন।

“Meditation” এই শব্দটি অনেক গভীর এবং আজ পর্যন্ত এর সঠিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা কেউ দিয়ে যেতে পারেনি, কারণ এটি একটি উপলব্ধির বিষয় মাত্র। 

প্রতিটি মানুষের উপলব্ধি এক হতে পারেনা কারণ আপনি কত উপলব্ধির গভীর স্তরে গেছেন সেটি মাপার কোনো যন্ত্র এখনো অবধি আবিষ্কার হয়নি।

ধ্যান  একটি পদ্ধতি মাত্র  যার মাধ্যমে আপনি আপনার অন্তরের প্রকৃতি ও আপনি কে- এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের একটি  দিশা পাবেন। এটি একটি সয়ম সুগঠিত প্রক্রিয়া, এই প্রক্রিয়া অনুসন্ধানের কোনো শেষ বলে কিছু নেই ।

জানেন তো আমাদরে এই জীবনটা খুবই ছোট, এরমধ্যে আমরা আমাদের জীবনকে ও নিজেকে  নানান ভাবে ভেঙে নিজেরই নানান রূপ তৈরী করেছি। 

আর এই রূপ গুলোর জালে ফেঁসে আমরা নিজেরা নিজেদের প্রকৃত স্বরূপকে ভুলে গেছি । আমরা শুধুমাত্র ইন্দ্রিয়র দ্বারা অনুভব করতে পারি আর আমাদের এই ইন্দ্রিয়, বাইরের জগৎকে অনুভব করার জন্য তৈরী হয়েছে | তাই আমার ভিতরের স্বরূপকে অনুভব করতে পারি না।

ধ্যান একটি পদ্ধতি যা যেকোনো জিনিসকে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে যাতে আমরা পুরনো ধারণা ভুলে নতুন করে কিছু খোঁজা শুরু করি ও বোঝা শুরু করি।

  যেমন এই ধরুন না কষ্ট বা ব্যাথা , এই কষ্ট বা ব্যাথা  থেকে আমরা সবাই দূরে থাকতে চাই  কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে এই কষ্ট না থাকলে আজ আমাদের জীবন হয়তো সম্ভব হতো না। 

কারণ আমাদের শরীর যদি কষ্ট বা ব্যাথা অনুভব করা ভুলে যায় তবে আমরা নানা ইনফেক্শন ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা যেতে বসবো সেটাকে অনুধাবন না করতে পারার জন্য ।

আপনি কষ্ট পান বলেই তো সেটাকে ঠিক করার আপনার তাগিদ থাকে | কি ঠিক বলছি তো? এটাকে না অনুভব করতে পারলে আপনি বাঁচতেন?

তাই এটি একটি প্রকৃতির দান যার কারণ আজ আমি আপনি সবাই বেঁচে আছি সুস্থ ভাবে।    

এইজন্যই তো প্রাচীন কালের আভিজ্ঞ ঋষিরা নানা পদ্ধতি বানিয়েছিলেন, নিজেকে আরো ভালো করে বোঝার ও সুস্থ রাখার জন্য এবং নানান  রূপের মধ্যে নিজের অন্তর প্রকৃতির অনুসন্ধানের জন্য। 

যেগুলির মধ্যে একটি সরল পদ্ধতি হলো ধ্যান। এর পরে আছে সমাধি তারপরে তপস্যা ও আরো অনেক কিছু | এইসব কিছুর মাধ্যমে জীবনকে একদম গভীরভাবে উপলব্ধি করার জন্য এই জীবন খুবই ছোট।


এবার তাহলে জেনে নিই ধ্যান বা Meditation কিছু দুর্দান্ত Benefits সম্পর্কে:

 বিগত 20 বছরে অনেক বিদেশী এবং ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা গবেষণাগুলি হয়েছে এটা খুঁজে বের করার জন্য যে, ধ্যান বা মেডিটেশনের প্রাকটিসের মধ্যে কোনো প্রকারের Benefits আছে কিনা যা আমাদের দেহ এবং মনকে সুস্থ করতে পারে। 

বিভিন্ন গবেষণার পরে জানা যায় যে ধ্যান আসলে আমাদের দেহকে বিভিন্ন উপায়ে নিরাময় করতে পারে এবং এরমধ্যে রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্য সুবিধা । তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও বিজ্ঞান স্বীকৃত ৮ টি উপকারিতা আজ আপনার সামনে তুলে ধরলাম:

১. মস্তিষ্কের ক্রিয়েটিভ ক্ষমতা বাড়ায় :

Meditation আপনার মন এবং শরীরের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সহায়তা করে যাতে আপনার মন বিশেষ মনোযোগের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

এটা আপনার মস্তিষ্কের আলফা ওয়েব বা আলফা তরঙ্গকে ভীষনভাবে বাড়িয়ে দেয়। এই আলফা তরঙ্গ একমাত্র আপনার গভীর ধ্যানের মাধ্যমে বাড়তে পারে। 

যখন এই তরঙ্গ আপনার মস্তিষ্কে বাড়বে তখন আপনি নানান সব নতুন ক্রিয়েটিভ চিন্তা ভাবনা করতে পারবেন অনায়াসেই। স্নায়ুবিজ্ঞানীরাও মেনে নিয়েছেন যে, যদি আপনার মস্তিষ্ক আলফা ওয়েভ স্টেজে যায় তবে আপনি একটি সাধারণ চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়া থেকে বেশি সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারেন।

সমীক্ষায় দেখা গেছে যে একজন মানুষের গড়ে  ০.০৯ সেকেন্ড পর্যন্ত কোনো জিনিসের প্রতি ফোকাস  করতে পারে। যদি আমাদের ফোকাস এতো কম সময় জন্য হয় তবে আমরা কিভাবে নতুন জিনিসের প্রতি মনোযোগ দেব। 

তাই  মেডিটেশন আমাদের আরও ক্রিয়েটিভিটিকে  বাড়ায় যাতে  করে আমরা যে দিকে মনে হয় সেদিকে মনোনিবেশ করতে পারি গভীর ভাবে ।

২. স্মরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সময় সাশ্রয় :

মানুষ ইদানিং নিজের মস্তিষ্কে একধরনের কল্পকাহিনীকে একদম ফিট করে নিয়েছে মেডিটেশনকে নিয়ে যে, “আমি খুব  ব্যস্ত, আমার ধ্যান করার সময় নেই”, মেডিটেশন করতে প্রচুর  সময় লাগে ” ইত্যাদি ইত্যাদি । আসলে মেডিটেশনের জন্য প্রচুর সময়  প্রয়োজন নেই বরঞ্চ এটি আপনার মূলবান সময়কে  বাঁচাতে সহায়তা করে।

মেডিটেশন আপনার মস্তিষ্কের corpus callosum-কে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। Corpus callosum হলো আমাদরে মস্তিষ্কের একটি পোটির মতো অংশ যা আমাদের দুই ব্রেনের অংশ অৰ্থাৎ ডানদিক ও বাঁদিককে এক সাথে জুড়ে রাখে।

আমরা জানি যে যেকোনো ইনফরমেশন আমাদের ব্রেন এর দুই দিকেই স্টোর হয় আর যখন প্রয়োজন হয় তখন কর্পাস কেভারনসাম সাহায্য করে কোনো ইনফরমেশনকে খুঁজে বার করতে।

আমাদের corpus callosum যত শক্তিশালী হবে তত আমাদের লাভ হবে, কারণ সব কিছু  খুব সহজে এরফলে মনে রাখতে পারবো এবং আমাদের সময়ের অপচয়ও একদম হবেনা |

৩. মানসিক বয়স কমান ও  দ্রুত নতুন কিছু শেখা :

ধ্যান বা Meditation  আমাদের মস্তিষ্কের নিউরোজেনেসিস প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। নিউরোজেনসিস এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিউরোন বৃদ্ধি পায় ও যার ফলে মানসিক বয়স অনেকটা কমে যায় সময় এর সাথে এবং এটি সহজ করে আমাদরে ব্রেনে থাকা গ্রে- ম্যাটারকে বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। 

গ্রে-ম্যাটারের মধ্যে পেশী নিয়ন্ত্রণ এবং সংবেদনশীল উপলব্ধি যেমন দেখা এবং শ্রবণ, স্মৃতি, আবেগ, বক্তব্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণ অনুভূতিকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা রয়েছে । এর সাথে মেডিটেশন আমাদের ব্রেনের হিপ্পোক্যাম্পালের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে যারফলে আমরা দ্রুত সব কিছু শিখতে পারি যে কোনো বয়সে।

৪. ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে:

মেডিটেশন আমাদের মস্তিষ্কের প্রীফ্রন্টাল কর্টেক্সকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তোলায় সাহায্য করে এবং সেইসব জায়গাকে উদ্দীপ্ত করে  যেখানে আমাদের ইচ্ছাশক্তি বা উইল পাওয়ার নিয়ন্ত্রিত হয়।

নানা পরীক্ষাতে দেখা গিয়েছে যে মেডিটেশনের এমন ক্ষমতা রয়েছে যা প্রীফ্রন্টাল কর্টেক্সকে উদ্দীপিত করে এবং শরীরে অবস্থিত ডোপামিন, সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিন নামক হরমোনকে নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে, যারফলে  দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং স্ট্রেসলেস মাইন্ডসেট আমাদের ভীতর তৈরি হয় ।

৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ এ সাহায্য করে:

ধ্যান আমাদের মস্তিষ্কের করটিসোল এবং অ্যাড্রেনালিনের স্তরের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আমাদের মস্তিষ্কের উভয় গোলার্ধের হাইপার একটিভিটিকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। 

সুতরাং অনেকদিন ধরে মেডিটেশন করলে আমাদের মধ্যে ঘন ঘন রেগে যাওয়ার বদঅভ্যাস কমে যায়, এবং যারফলে আমরা আগের চেয়ে বেশি সুখী এবং আত্মবিশ্বাসী বোধ করি ও প্রতিটি সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি ।

৬. অনিদ্রা থাকে মুক্তি :

শরীরকে Heal করার জন্য গভীর ঘুম অবশ্যই দরকার । এটা ছাড়া আপনার শরীর খুব সহজে Heal হওয়ার নয় | কিন্তু আপনি কি জানেন আরেকটা সত্য?

20 মিনিটের ধ্যান আপনার শরীরকে 1 ঘন্টা গভীর ঘুমের মতো বিশ্রাম দিতে পারে এবং আপনার রক্তচাপকেও নিয়ন্ত্রনে আনতে পারে | এটা দীর্ঘদিন ধরে প্র্যাকটিস করলে যেকোনো মানুষের অনিদ্রার রোগ কেটে যায় |

তাই আপনার যদি অনিদ্রা জনিত রোগ থেকে থাকে তাহলে আজ থেকেই ধ্যানের অভ্যাস করুন | আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আপনিও খুব তাড়াতাড়ি এইসব রোগকে দ্রুত কাটিয়ে গভীরভাবে ঘুমাতে পারবেন |

৭. বর্তমান মুহূর্তের অনুভব :

ধ্যান বা Meditationএকটি অসামান্য প্রক্রিয়া, যা আমাদের এই মূল্যবান জীবনের প্রতিটি মুহুর্তকে উপলব্ধি করাতে সহায়তা করে। মেডিটেশন বা ধ্যান আপনার পঞ্চ ইন্দ্রিয়গুলিকে আরও জাগ্রত করতে সহায়তা করে যাতে আপনি আপনার জীবনকে আরও দক্ষতার সাথে গড়ে তুলতে পারেন।

এটি সত্য যে জীবন মাত্র একবারেরই, সুতরাং মেডিটেশন বা ধ্যান আপনাকে  বর্তমান মুহুর্তে আরও সুখী ও প্রাণবন্ত ভাবে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে এবং অতীত ও ভবিষ্যতের দুঃখকে দূরে সরিয়ে বর্তমানের উপর ফোকাস করতেও সাহায্য করতে পারে |

৮. ক্ষমা করা:

মেডিটেশন বা ধ্যান  এমন এক পথ, যেখানে আপনি কেবল তখনই অগ্রসর হতে পারবেন যখন আপনি নিজের জীবনের সব ব্যথা এবং দুর্দশার কারণ হিসাবে নিজেকে এবং সব মানুষকে ক্ষমা করতে শুরু করবেন এবং সব ভুলে নতুন ভাবে বাঁচতে শুরু করবেন।

ধ্যান আপনরা মনকে এতটা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রদান করে যাতে আপনি আপনার সব চেয়ে  বড়ো শত্রূকেও  খুব সুহজে ক্ষমা করতে পারেন।



আশা করি Meditation নিয়ে আপনার সমস্ত doubt আমরা clear করতে পেরেছি এর পর আর জানতে মেডিটেশন নিয়ে কিছু প্রশ্ন | 6 Commonly Asked Questions about Meditation পড়ুন | লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই এটিকে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানান আপনার মতামত |


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

Exit mobile version
0