মহাদেব ও মহা শিবরাত্রী গুরুত্ত | Significance of Maha Shivratri In Bengali

Maha Shivratri

“শিব কথার প্রকৃত অর্থ হল শূন্য” বা  যা সম্পুর্ন নিরাকার। শিবই হল অনুভব শিবই হল পরম সাধন। ঋষি দের মতে শিব যিনি সমস্থ বাধন হতে মুক্ত যিনি সর্ব জ্ঞানী, ত্রিকাল দর্শী ও সর্বত্র বিরাজমান।যিনি সারা মহাবিশ্বের সময়ের বাধন হতে মুক্ত তিনি হলেন সমস্থ ইন্দ্রের ঈশ্বর সয়ং শিব।    

ভগবান শিবের পূজা কোন সহজ বিজয় নয় কারণ তিনি সমস্থ বাধন হতে মুক্ত।তাই শিবের সাধনা ও প্রাপ্তি শুধু আপনার অনুভব মাত্র। ভগবান  শিবকে জানার প্রচেষ্ঠাতে নানা সিদ্ধ পুরুষ ও  মুনি ঋষিরা নিজের সমস্থ জীবন অর্পণ করেছেন।

আজ প্রযন্ত কেউ সঠিক উত্তর দিতে পারেনি সঠিক ধারনা দিতে পাড়েনি, কারণ সবার সাধনা ভিন্ন ও অনুভব ভিন্ন ।

মহা শিবরাত্রী

ॐ নামঃ শিব শিবয়ঃ

মহা শিবরাত্রি (Maha shivaratri) :  

মহা শিবরাত্রি হল উত্তর গোলার্ধের গভীর তম রাত কারণ এই দিন উত্তর গোলার্ধের পজিশান খুবই অদ্ভুদ রকম ভাবে পরিবর্তিত হয়। এই দিন এই প্রকৃতি আমদের জীবনের চেতনা ও এনার্জির অনুভবের চরমে  নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

spiritual বা আধাক্তিক পথের সমস্থ মানুষরা  এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন।  এই দিন প্রকৃতি তাদের সাধনার ও সিদ্ধির চরম সীমায় নিয়ে যেতে সাহায্য করে। এই দিন প্রতিটি মানুষের জীবনের জন্য গুরুত্ত পূর্ণ সে আপনি যে কোনও কাজের সাথেই যুক্ত থাকুন না কেন।

এই দিন প্রকৃতির অপনার জীবনের সমস্থ শক্তি কে ক্রমাগত বৃদ্ধি ও চরম সীমায় নিয়ে যাতে সাহায্য করে।


Maha Shivratri পালনের বিশেষ কারণ:

  1. শিবরাত্রী  প্রতিটি মানুষের মধ্যে থাকা তম গুণ ও রজ গুনের মধ্যে সমতা শ্রীষ্ঠী বিশেষ সুযোগ। এতে  লোভ ক্রোধ রাগ হিংসা থেকে মনকে খুব সহজে মুক্ত করা যায়।  
  2. যদি আপনার Vata দোষ থাকে তবে এই দিন খুব সহজে শোধনের মাধমে আপনার শরীরের নানা রোগ যেমন রুক্ষ তক, ঘুমের সমস্যা  থাকে খুব সহজে মুক্তি পাওয়া যায়।
  3. যারা গভীর রোগ নিয়ে দীর্ঘ দিন ভুগছেন তারা মহা মৃতুঞ্জয় জব করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
  4. এই দিন বিধি পূর্বক পঞ্চভূত শুদ্ধি দ্বারা শরীরে ও মনের নানা সমস্যা থেকে নিশ্চিত রেহাই পাওয়া যায়।  

Maha Shivratri গুরুত্ব পূর্ণ রীতি:

  • সকল বেলায় স্নানের পর এই দিন ও সঠিক বৈদিক মন্ত্র উচারণ মন্দিরে পূজা সম্পূর্ণ  করা উচিত।
  • এই দিন প্রতিটি মানুষের সম্পুর্ন রূপে উপস করা উচিত বা না হলে  ফল অহার করা উচিত।
  • শিব রাত্রির রাত্রে না ঘুমিয়ে, মেরুদন্ড সোজা রেখে বসা সবচেয়ে গুরুত্ত পূর্ণ। কারণ এই এনার্জির পরিবর্তন বছরে মাত্র একবার  অনুভব করা যায় যা সমস্থ মানুষের জন্য উপকারী।  
  • এই দিন শরীরে সুতির নরম কাপড় পরা সবচেয়ে বেশি উপকারী ও চামড়ার জিনিস এই দিন যত কম ব্যবহার করা উচিত।
  • যদি আপনি এই দিন সাধনা বা meditation করেন তবে খুবই ভাল আপনি সাধনা চরম সীমায় খুব সহজে যাতে পারবেন। তাই সাধনার ও অনুভববের চরম সীমায় যাবার শ্রেষ্ঠ দিন হল মহা শিব রাত্রি।

তবে বর্তমান  ভগবান শিব কে আড়ম্বরের দেবতা বানিয়ে একটি শিবরাত্রি Business চলছে মাত্র, ভারতের খুব কম যায়গাতে আজ বেচে আছে শিবের সাধনা পদ্ধতি যা জীবন কে পরিবর্তণ করতে পারে।


যদি আপনার Online meditation শিখতে চান তবে যোগ যোগ করুন 9433-657-349 নাম্বারে

৬টি যোগ আসন নতুন Entrepreneur দের জন্য – 6 Yoga Poses For Entrepreneurs

6 Yoga Poses For Entrepreneurs


1. গরুরাসন (Garur Asan):

উত্‍স: 

এই একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে,যার মনে হল বন্ধন মুক্তি,সাহস ও একাগ্রতা । ঈগল পাখিকেই sanskrit গরুর বলা হয় এবং  হিন্দু পূরণ অনুজাই পক্ষীরাজ ও ভগবান বিষ্ণুর বাহন ও বলা হয়।

 এছাড়াও হিন্দু পুরাণে ঈগল বা গরুর কে  ক্ষমতা বা তেজ , সাহস , সচেতনতা , শুভ শক্তির প্রতীক বলা হয়। 

যোগের অনুপ্রেরণা:

যোগীরা বলেছেন গরুরাসন বলতে বোঝায় জীবনের  সমস্থ বন্ধন ও সীমা থাকে মুক্তি,বিস্তার ও অসীম একাগ্রতা । কারণ ঈগল এক মাত্র পাখি যে সমস্থ সীমা থাকে মুক্ত,যে সাহস ও একাগ্রতার জোরে মেঘ এর সীমা পার করে আকাশে উড়তে পারে।

তাই যোগের মধ্যে এই আসন অন্যতম আসন যা entrepreneur জীবনের সমস্থ শারিরীক বন্ধন ও মানসিক বন্ধন থাকে মুক্তি দেয়। 

নামকরণ: এই আসন নাম গরুরাসন কারণ, এই আসন দেখতে গরুড়ের মুখ আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম গরুরাসন।  

গরুরাসন পদ্ধতি:

 সবার প্রথমে সোজা হয়ে দাড়ান, ডান হাতের কনুয়ে বেন্ড করে বা হাতের কনুই দিয়ে নিয়ে গিয়ে দান হাতের তালু বা হাতের তালুটে স্পর্শ করান ।

তার পর আস্তে আস্তে বা পা মাটিতে রাখে দান পা  দিয়ে বা পা কে জড়িয়ে ধরুন নিজের বডি ব্যালান্স রেখে।হোল্ড করুন 20 থাকে 30 সেকন্ড। আবার পা ও হাত পাল্টে 5 থাকে 6  বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন।

উপকীরিতা: 

এই আসন করলে আপনার হাত ও পায়ের পেশী কে শক্ত করে, বডি ব্যালান্স ঠিক করে ও পাটের সমসা দূর করে।হাত ও পায়ের বাত এর বাথ্যা দূর করে।

মারুদণ্ড শক্ত ও সোজা করে এই আসন । শরীর এর মধ্য তৈরি হওয়া toxin কে কমাতে ও হরমোন ব্যালান্স করতে সবচায়ে বেশি সাহায্য করে এই গরুরাসন 

আপনার নতুন skills শিখতে ও বুঝতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে ও এই যোগ আসন আপনার ডিসিপ্লিন তৈরি করে, যা একটি Entrepreneurs জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ।     


2. ভুজঙ্গ আসন (Bhujang Asana):

উত্‍স:

এটি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে। ভুজঙ্গ মনে সর্প ও এই আসন  জ্ঞান, পরিবর্তণ, ক্ষমতা, রাজকীয়তা ও ঔষধ বিদ্যার  সরূপ।এ ছাড়াও হিন্দু পূরণ অনুজাই সর্প ও ভগবান শিব এর অলংকার বিষ্ণুর সেবক।

যোগের অনুপ্রেরণা:

যোগীরা বলেছেন ভুজঙ্গ আসন বোঝায় জীবনের পরিবর্তণ ও জ্ঞান, ক্ষমতা। কারণ সর্প এক মাত্র জীব যাকে জীব জগতের পরম যোগী বলা হয়।এই  সর্প সময়ের সাথে তার খোলস বা স্কিন পাল্টায় কারণ পরিবর্তণ সর্পের প্রধান গুণ। এছাড়াও সর্প হল রাজকীয়তা, ঔষধ বিদ্যার প্রধান প্রতিরূপ।

তাই যোগের মধ্যে এই আসন অন্যতম আসন যা আমাদের জীবনের সমস্থ রোগ, চিন্তা ও অলসতার বন্ধন থাকে মুক্তি দেয়।

নামকরণ: এই আসন নাম ভুজঙ্গ   কারণ , এই আসনে আপনাকে দেখতে ফণা তুলে রাহা সর্প আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম ভুজঙ্গ  আসন।  

ভুজঙ্গ আসন পদ্ধতি:

সবার প্রথমে বুকের উপর চাপ রেখে হাত পা সমান করে মাটিতে সুয়ে পড়ুন । আস্তে আস্তে নিজের হাত দিতি ভাজ করে বুকের দুই পাশে রাখুন।

পেটের নিচের অংশ মাটিতে ঠাকিয়ে রেখে হাতে ভর দিয়ে নিজের বুকের অংশ কে মাটি থাকে উপরে তুলুন ও নিজার মুখ কে উপরের দিকে তুলে রাখুন । হোল্ড করুন ১০ থাকে ২০ সেকন্ড । আবার পা ও হাত পাল্টে ২ থাকে ৪ বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন ।

উপকীরিতা:

এই আসন করলে আপনার lungs এর ক্ষমতা বারে । বুকের  বা বুকের পজর শক্ত করে যাতে আকার গত ভাবে সঠিক হয় । এছাড়া  শরীরে হরমোন ব্যালান্স করে , সর্দি কাশির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় এই আসন । আপনার ক্রীয়েটিভ চিন্তা ভাবনা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও এই যোগ আপনাকে জীবনে লক্ষ স্থির করতে ও সবচেয়ে বেশি  সাহায্য করে ।


3. রাজকপত আশন (Rajakapot Asana):

https://www.youtube.com/watch?v=U2oimBogB4k

উত্‍স:

এই শব্দ টি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে, যার মনে হল শান্তি , সরলতা ও চেতনার বিস্তর । এছাড়াও হিন্দু পুরাণে কপত বা পয়রা  কে প্রেম , প্রভু ভক্তি , পরিবর্তণ গ্রহণ কারি সচেতনতা ও  শুভ শক্তির প্রতীক বলা হয়।

যোগের অনুপ্রেরণা:

যোগীরা বলেছেন রাজকপত আশন  বলতে বোঝায় জীবনের সরলতা , চেতনা ও বিশ্বাস । কারণ কপত বা পয়রা এক মাত্র পাখি যে শান্তির দূত , এই পাখি পরিবতন এর সাথে সবচেয়ে বেশি তাল মিলিয়ে চলতে পারে ।

তাই যোগের মধ্যে এই আসন অন্যতম আসন যা আমাদের জীবনের সমস্থ মানসিক বন্ধন, প্রেম জটিলতা ও কষ্ট থাকে মুক্তি দেয়।

নামকরণ: এই আসন নাম রাজকপত আশন কারণ ,  এই আসনে আপনাকে দেখতে ডানা মেলা কপোত এর  আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম রাজকপত আশন।  

রাজকপত আশন  পদ্ধতি:

প্রথমে একটি যায়গাতে পা ছড়িয়ে বসুন। তার পর আস্তে আস্তে ডান পা হাটু থকে মুড়ে আপনের থাই এ ঠেকান। এবার বা পা মুড়ে হাত এর সাহায্যে উল্টো করে পিছনে টেন নিয়ে যান। হাটু কে মাটিতে রেখে পা কে মাথার দিকে তুলুন।

এবার হাত দুটি বুকের কাছে প্রণাম করার মত জোর করুন, তার পর আস্তে আস্তে মথার পিছনে নিয়ে গিয়ে পা এর পাতার বুড় আঙুল ধরুন নিজের বডি ব্যালান্স রেখে। হোল্ড করুন 20 থাকে 30 সেকন্ড। আবার পা ও হাত পাল্টে 5 থাকে 6 বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন।

উপকারিতা:

 পা এর সব পেশীকে শক্ত করে , যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে , শারিরীক দুর্বলতা দূর করে। মারুদণ্ড সোজা ও মজবুত করে এই আসন। এছাড়া আপনার ক্রীয়েটিভ চিন্তা ভাবনা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য এই আসন অন্যতম।


4. বৃশ্চিকাশন  (Vrischik asana):

এই শব্দটি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে ও নানা হিন্দু পুরাণে যার মনে হল শক্তি ,পুনর্জন্ম ও সর্ববিজয়। এছাড়াও হিন্দু পুরাণে বির্শ্চিক  কে অহংকার , মৃতু , শত্রু বিজয় ও শুভ শক্তির ও প্রতীক বলা হয়।

যোগের অনুপ্রেরণা:

 যোগীরা বলেছেন বৃশ্চিকাশন বলতে বোঝায় জীবনের সব দিক থেকে বিজয় ও ভয় কে হারিয়ে প্রভুত্ত বিস্তার ।তাই যোগের মধ্যে এই আসন অন্যতম আসন যা আমাদের জীবনের সমস্থ মানসিক বন্ধন, ভয় ও সর্ব বাধা  মুক্তি দেয়।

নামকরণ: এই আসন নাম বৃশ্চিকাশন  কারণ, এই আসনে আপনাকে দেখতে বৃশ্চিক এর আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম বৃশ্চিকাশন।

বৃশ্চিকাশন পদ্ধতি:

 সবার প্রথমে একটি দেয়াল ধরে পিট ঠাকিয়ে বসুন।  তার পর আস্তে আস্তে হাত কে মাটি তে রাখে পা দুটি লম্বা করে আস্তে আস্তে দেয়াল দিয়ে উপরে সোজা করে তুলুন বডির সাথে।

এবার হাতে জোর দিয়ে পা কে মাথার দিকে নামিয়ে আনুন যতটা সম্ভব   নিজের বডি ব্যালান্স রেখে।হোল্ড করুন ১০ থাকে ২0 সেকন্ড। 5 থাকে 6 বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন ।

উপকারিতা: 

Nerve এর প্রোব্লেম দূর করে , হাত এর জোর ও পেশী শক্ত করে এই আসন । এই আসন আপনার ব্রেন এ রক্ত সঞ্চালন ঠিক  করতে সাহায্য করে । এই আসন চিন্তা ভাবনার মধ্যে সমতা আনে এবং নতুন skills শিখতে ও বুঝতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে ।


5. উস্তাসন (Ushtra Asana):

উত্‍স:  

এই শব্দটি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে, যার মনে হল নিজের দিশা কে খুজে পাওয়া। এছাড়াও হিন্দু পুরাণে উট  কে ক্ষমতার , অন্তরের জ্ঞান প্রদানকারী , কষ্ট সহিষ্ণু ও  শুভ শক্তির প্রতীক বলা হয়।

যোগের অনুপ্রেরণা:

যোগীরা বলেছেন উস্ত্‍রসনা (Ushtrasana) বলতে বোঝায় জীবনের লক্ষ ও লক্ষ পুরণের রাস্তা খুজে পাওয়া।  

কারণ উট এক মাত্র পশু  যে মরুভূমিতে রাস্তা বুঝে ফিরতে পারে গন্তব্য স্থানে , মরিচিকা এই প্রাণীর দিক ভ্রষ্ট করতে পারে না । সবচেয়ে কঠোর সময়ের সাথে  সবচেয়ে বেশি তাল মিলিয়ে চলতে পারে এক মাত্র উট ।

নামকরণ: এই আসন নাম উস্ত্‍রসনা (ushtrasana) কারণ ,  এই আসনে আপনাকে দেখতে মুখ উচু করা উট এর আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম উস্ত্‍রসনা (ushtrasana) ।  

আসন পদ্ধতি:

সবার প্রথমে পা জোর করে বসুন , তার পর আস্তে আস্তে হাটু থাকে পা দুটি ভাজ করে বডি কে সোজা করুন ।তার পর আস্তে আস্তে দুইট হাত কে মাথার উপর দিয়া নিয়ে  গিয়ে পা এর পাতা গুলি কে স্পর্শ করুন যতটা সম্ভব নিজের বডি ব্যালান্স রেখে।

হোল্ড করুন ১০ থাকে ২০ সেকন্ড ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন। ৩ থাকে ৪ বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন।

উপকারিতা: 

এই আসন আপনার হাত ও পায়ের পেশী কে শক্ত করে, বডি ব্যালান্স  করে ও পাটের সমসা দূর করে। হাত ও পায়ের বাত এর বাথ্যা দূর করে ও শরীরের flexibility আনে।

এই যোগ আসন ডিসিপ্লিন তৈরি করে যা একটি Entrepreneurs জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন । এই যোগ আসন আপনার স্ট্রেস হরমন ব্যালান্স করতে অন্যতম।


6. কূর্মাসন (kurmasana): 

এই শব্দ টি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে, যার মনে একাগ্রতা ও  ক্ষমতা । ক্ছপ কে snaskrit এ কূর্মা বলা হয় এবং এ ছাড়াও হিন্দু পূরণ অনুজাই ভগবান বিষ্ণুর রূপ যাকে আমরা কূর্মা অবতার বলি ।

এছাড়াও হিন্দু পুরাণে ক্ছপ বা কূর্মা  কে  ক্ষমতা বা জ্ঞান , সমতা বজায়কারি , দীর্ঘ আয়ুর  ও  শুভ শক্তির প্রতীক বলা হয়।

যোগের অনুপ্রেরণা: 

ক্ছপ এক মাত্র প্রাণী যে জল ও স্থল দুই যায় যায়গা তে বহু বছর  বাচতে  পারে তার ফলে এই প্রাণীর জ্ঞান অনেক বেশি । এই প্রাণী ক্ষমতার ও বুদ্ধির  প্রতীক কারণ এই প্রাণী জানে বিপদে নিজেকে রক্ষা করতে ও সঠিক সময় নিজের কাজ কে পূরণ করতে যা জানা নতুন entrepreneur দের জীবনে খুবই প্রয়োজন।

নামকরণ: এই আসন নাম কূর্মাসন কারণ ,এই আসনে আপনাকে দেখতে খোলসে থাকা ক্ছপ  এর আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির কূর্মাসন ।  

কূর্মাসন পদ্ধতি:

প্রথমে পা কে লম্বা ভাবে ছড়িয়ে দিন , পা কে এবার ডিম্বাকৃতি করুন। আস্তে আস্তে কোমর থাকে শরীর কে ভাজ করে আপনার মাথা পা এর পাতার কাছে নিয়ে গিয়ে মাটিতে ঠেকান যত টা সম্ভব ।

এবার পা এর তলা দিয়ে দুটি হাত বার করে কোমর এআর পিছনে নিয়ে  গিয়ে প্রণাম ভঙ্গিমাতে নিজে কে হোল্ড করুন ২০ থাকে ৩০ সেকন্ড । তার পর রিল্যাক্স করে বার প্র্যাক্টিস করুন ৩ থাকে ৪ বার ।   

উপকারিতা:

 আপনার গাস্টিক , আলসর , কিডনি তে পাথর হওয়া হাত থাকে মুক্তি দেয় এই আসন । আপনার বডির সমস্থ স্ট্রেস হরমোন কে সঠিক ভাবে ব্যালান্স করে এই আসন ।  এই আসন চিন্তা ভাবনার মধ্যে সমতা আনে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতার জন্য এই অন্যতম ।


আসা করছি আপনাদের পোস্টটি ভাল লেগেছে, আপনার কোন মোট মোট থাকলে কমেন্ট বক্সে জানতে ভুলবেন না, ধন্যবাদ।

আপনার যদি অনলাইনে মেডিটেশন শিখতে চান তবে call করুন +91 9433 657 349 এই নাম্বারে, ধন্যবাদ

পদ্মাসন সম্পর্কে এই তথ্যটা আপনার অজানা | What is Padmasana in Bengali

পদ্মাসন (Padmasana):

এই শব্দটি একটি Sanskrit শব্দ যার বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে, যার অর্থ হল অজ্ঞান বা অন্ধকার থেকে পরম জ্ঞান বা আলোর সন্ধানের যাত্রা ।

কারণ পদ্ম হল এমন এক বিশেষ রকমের ফুল যা পাকে জন্মায় কিন্তু ভগবানের পূজায় ব্যবহৃত হয়, যা বোঝায় আপনার সৃষ্টি কোথায় তা গুরুতপূর্ণ নয়, তোমার নিজেকে ব্যক্ত করাই আসলে গুরুতপূর্ণ ।

এছাড়া পদ্ম; জ্ঞান, পবিত্রতা, বিকাশ, অনাসক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সৌভাগ্যের প্রতীক।

এইজন্যই আসনের নাম পদ্মাসন, কারণ আপনি এই আসনে বসলে আপনাকে দেখতে বিকশিত পদ্মের মতো মনে হয় |

পতঞ্জলি যোগশাস্ত্র মতে পদ্মাসন প্রধানত ৭ টি ভাগ বিভক্ত, যথা-  মুক্ত পদ্মাসন, বদ্ধ-পদ্মাসন, উত্থিত পদ্মাসন ,অর্ধ বদ্ধ-পদ্মাসন   উর্ধ্ব-পদ্মাসন , গুপ্ত পদ্মাসন ও পদ্ম-মত্‍শাসন ।  


১। মুক্ত-পদ্মাসন পদ্ধতি (Mukta Padmasana):

সবার প্রথমে একটি Comfortable জায়গা ঠিক করুন, এই যোগটির প্র্যাক্টিস যদি আপনি কোনো মাঠ বা চারিদিক খোলা জায়গায় করেন তাহলে ভালো হবে |

সবার প্রথম শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন ও গভীর ভাবে দশবার গভীর নিশ্বাস নিন। এবার বাঁ পা হাঁটুটা ভাঁজ করে ডান থাইয়ের উপর এবং ডান পা একইভাবে বাঁ থাই উপর রাখুন। যতটা সম্ভব ততটা অবধি দুটো পায়ের উপরিভাগকে স্ট্রেচ করুন, প্রথমে জোর করে কোন কিছু করার দরকার নেই।  

এবার হাত দুটো চিৎ করে অথবা ধ্যান করার ভঙ্গিতে দু’হাঁটুর উপর রাখুন অথবা নমস্কারের ভঙ্গিমায় বুকের মাঝখানে রাখুন ও আপনার মাথাকে উপরের দিকে তুলে রাখুন।  

সহজভাবে যতক্ষণ পারা যায় ঐ অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন | তারপর আস্তে আস্তে পা গুলো নামিয়ে নিন ও রিল্যাক্স করুন । অন্তত ৫ বার এটি রিপিট করুন একই ভাবে।

উপকারিতা : যোগীরা বলেছেন এই মুক্ত-পদ্মাসন সর্বরোগ নিরাময় আসন । যা হৃদয় ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হাঁপানি রোগ থেকে শুরু করে cholesterol সহ সব কিছুকে দূর করে।

আপনি হয়তো জানেন মেরুদণ্ডের কর্মক্ষমতার উপরই আমাদের যৌবন ও স্বাস্থ্য নির্ভর করে, এই মুক্ত-পদ্মাসন মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধিতে ও নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করে এছাড়াও আমাদের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে, স্নায়ু সতেজ ও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।


২। বদ্ধ-পদ্মাসন পদ্ধতি (Baddha Padmasana):  

সবার প্রথম শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন এবং মুক্তপদ্মাসন পদ্ধতির মতো গভীর ভাবে দশবার গভীর নিশ্বাস নিন । এবার বাঁ পা হাঁটু থেকে ভেঙে ডান থাইয়ের উপর এবং ডান পা একইভাবে বাঁ থাই উপর রাখুন ।

এবার ডান হাত পেছনদিক দিয়ে ঘুরিয়ে এনে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল এবং একইভাবে বাঁ হাত পেছন দিয়ে ঘুরিয়ে এনে ডান পায়ের বুড়ো আঙুল ধরুন ও হোল্ড করুন

২০ সেকন্ড ।  তারপর আস্তে আস্তে পা গুলো নামিয়ে নিন ও রিল্যাক্স করুন । অন্তত তিন বার এটিকে রিপিট করুন একই ভাবে।

উপকারিতা: এই আসন আপনার স্পাইন alignment কে ঠিক করে ও বুকের পাঁজরের গঠনগত সমস্যাকে দূর করে । আপনার শরীরের কলেস্টেরলের লেভেলকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে ।আপনার ভয়, উদ্বেগ এবং ঘুমের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় এই আসন।


৩। উত্থিত পদ্মাসন পদ্ধতি (Utthita Padmasana):

সবার প্রথমে পদ্মাসনে বসুন । এবার দুটি হাতকে সমান করে কোমরের দুটি পাশ দিয়ে মাটিতে রাখুন। ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন এবার হাতের উপর জোর দিয়ে নিজের বাকি শরীরকে মাটি থাকে উপরে তুলুন ও হোল্ড করুন দশ থাকে কুঁড়ি সেকেন্ড ।   

এরপর আস্তে আস্তে শরীরকে মাটিতে নামিয়ে পদ্মাসনের অবস্থায় বসুন । ক্ষাণিকটা বিশ্রাম নিয়ে পা বদল করে আবার করুন ।  অন্তত ৫ বার এটি রিপিট করুন একই ভাবে ধীরে ধীরে নিজের সুবিধা মত ।

উপকারিতা : আপনার পেটের বাড়তি চর্বিকে কমিয়ে আপনার ক্ষিদে বাড়ায়, হাতের ও কাঁধের পেশী শক্ত করে এবং দেহে প্রচণ্ড শক্তি আনে ও নমনীয়তা বাড়ায় । শরীরের স্নায়ুগুলিকে সচল রাখে ও হৃদরোগ, রক্তচাপ কমায় । 


৪। উর্ধ্বপদ্মাসন (Urdhva-Padmasana):

সবার প্রথমে একটি পরিষ্কার যায়গা খুঁজে বার করুন ও সমান ভাবে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ুন । ও কোমর থেকে নিচের অংশকে ভাঁজ করে মুক্ত-পদ্মাসনের মত একটি পা অন্য পায়ের উপর রাখুন ।

এবার পিঠের উপর ভর দিয়ে হাত ও পাকে উপরের দিকে বা মাথার দিকে স্ট্রেচ করুন এবং এই পজিশনটিকে হোল্ড করুন 10 থাকে 20 সেকন্ড ।   

এরপর আস্তে আস্তে শরীরকে মাটিতে নামিয়ে বসুন । ক্ষাণিকটা বিশ্রাম নিয়ে পা বদল করে আবার করুন ।  অন্তত ৫ বার এটিকে রিপিট করুন এবং একই ভাবে ধীরে ধীরে নিজের সুবিধা মত সময় বাড়ান ।

https://youtu.be/Pup8xhAx7jE

উপকারিতা : আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও আপনার কোমরের ব্যথার সমসা থেকে আপনাকে চির মুক্তি দেয় । শরীরের কলেস্টেরলের লেভেলকে কনট্রোল করে এই আসন ও আপনার ঘুমের সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দেয় ।


৫। অর্ধ বদ্ধপদ্মাসন (Ardha Baddha Padmasana):

এই আসন-পদ্ধতিতে প্রথমে একটি পা অন্য পায়ের উপর স্থাপন করে হাত পেছন দিক থেকে ঘুরিয়ে এনে পা এর উপরে রেখে অন্য পায়ের বুড়ো আঙুলকে হাত দিয়ে ধরতে হবে ও হোল্ড করতে হবে 10 থাকে 20 সেকন্ড ।   

ক্ষাণিকটা বিশ্রাম নিয়ে পা বদল করে আবার এই আসনটিকে করতে হবে অন্তত ৫ বার, এবং একই ভাবে ধীরে ধীরে নিজের সুবিধা মত ও সময় বাড়ান ।

উপকারিতা : এই আসন আপনার পা ও কাঁধের সমস্ত পেশীকে শক্ত করে । আপনার সমস্থ ধরনের পেটের সমস্যা দূর করে এবং বাতের ব্যাথা থেকে মুক্তি দেয় এই আসনটি|


৬। গুপ্ত পদ্মাসন (Gupta padmasana):

প্রথমে মুক্ত-পদ্মাসনের মতো করে বসুন তারপর হাতের সাহায্যে শরীরকে সামনের দিকে টানুন | তারপর যতটা সম্ভব আস্তে আস্তে আপনার চিবুককে মেঝেতে স্পর্শ করার চেষ্টা করুন ।

মেঝেতে পুরোপুরি সমান হয়ে এই আসনে কিছুক্ষন বসে থাকুন এবং পুরো শরীরটিকে রিল্যাক্স করার চেষ্টা করুন।

তারপর নিজের দুটি হাতকে পিছনে নিয়ে প্রণাম করার মত হাত জড়ো করুন ও আস্তে আস্তে শ্বাস নিন এবং এই অবস্থানটিকে কিছু সময়ের জন্য ধরে রাখুন অনন্ত ২০ সেকন্ড মতো | তারপরে আস্তে আস্তে প্রারম্ভিক অবস্থানে ফিরে আসুন।

ক্ষাণিকটা বিশ্রাম নিয়ে পা বদল করে আবার করুন অন্তত ৫ বার এই আসনটিকে, এবং একই ভাবে ধীরে ধীরে নিজের সুবিধা মত ও সময় বাড়ান।

উপকারিতা :   শরীর এর স্নায়ুগুলিকে সচল রাখে ও হৃদরোগ, রক্তচাপ কমায় এবং এতে মেরুদন্ডের alignment সম্পুর্ন সঠিক হয়ে যায় ।  


৭। পদ্ম-মত্‍শাসন (Padma Matsyasana) :

প্রথমে মুক্ত-পদ্মাসন বসুন তারপর আস্তে আস্তে পিছনে হাতের সাহায্যে ব্যালান্স রেখে শুয়ে পড়ুন । আস্তে আস্তে মাথার উপর ভার রেখে পিঠকে মাটি থেকে উপরে তুলুন যাতে ও আপনার শরীরকে ইংলিশের U শেপের মতো করুন স্ট্রেচ |

তারপর আস্তে আস্তে নিজের হাত দুটি কে বুকের উপরে রাখুন ও প্রণাম অবস্থায় জড় করুন ও হোল্ড করুন 10 থাকে 20 সেকন্ড অবধি । 

ক্ষাণিকটা বিশ্রাম নিয়ে আবার করুন অন্তত ৪ বার, এবং একইভাবে ধীরে ধীরে নিজের সুবিধা মত ও সময় বাড়ান ।

উপকারিতা : আপনার পেটের বাড়তি চর্বি কমিয়ে ক্ষিদে বাড়ায়, হাতের ও কাঁধের পেশী শক্ত করে এবং হাতের প্রচণ্ড শক্তি আনে ও নমনীয়তা বাড়ায় । শরীরের স্নায়ুগুলিকে সচল রাখে ও হৃদরোগ, রক্তচাপ কমায় । 


সতর্কতা

যাঁরা হার্টের অসুখ, রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি ইত্যাদি সমস্যার ভুগছেন, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যোগব্যায়াম অভ্যাস করবেন না । যোগ বা yoga প্র্যাক্টিসের সময় কোনও অভিজ্ঞ শিক্ষকের পরামর্শ নিন ।

সব সময় মনে রাখবেন যোগ অনুশীলন খালি পেটে করা উচিত কিন্তু ভরা পেটে যোগ অনুশীলন করা কখনোই উচিত না ।


আশা করি মেডিটেশন নিয়ে আপনার সমস্ত doubt আমরা clear করতে পেরেছি | লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই এটিকে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানান আপনার মতামত |


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন কিংবা আমাদের সেন্টারে এসে অফলাইনে শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

যোগ প্রকৃত অর্থ কি | What is Yoga in Bengali

যোগ আসন কী (What is Yoga) :

সংস্কৃত শব্দ “যোগ” কেই ইংরেজী ভাষাতে YOGA বলে । আসলে যোগ মানে কিন্তু ব্যায়াম নয় এটি শরীর, মন, ও আত্মার ক্রম উন্নয়নের পদ্ধতি যার দ্বারা সমাধী  স্তরে পৌঁছান সম্ভব ।

সঠিক ভবে যোগ প্রণালী বুঝতে হলে নিজের সংকীর্ন মনের গন্ডি ছেড়ে সৃষ্টির মূলের দিকে তাকাতে হবেই। কারণ যোগ মানে আদির সঙ্গে প্রান্তের যোগ, অসীমের সঙ্গে সসীমের যোগ এবং জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার যোগ ।

এবং কেমন করে পরম তন্ময়তা লাভ করা যায়, যাতে মনের আয়নায় স্পষ্টভাবে জেগে থাকবে নিজের আসল স্বরূপের ছবি, এবং এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়াই যোগের আসল প্রয়াস।

“যোগসূত্র” গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় সূত্রে মহর্ষি পতঞ্জলি যোগের বর্ননা দিয়েছেন – ‘চিত্তবৃত্তি নিরোধ’। চিত্ত অর্থাত্‍ মন যা যোগ প্রণালীতে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত ।

চিত্তবৃত্তি নিরোধ’ অর্থ যোগ দ্বারা কাম, ক্রোধ, মোহ, অনুরাগ, স্নেহ এই পাঁচটি চিত্তবৃত্তি পরিহার। যা সম্পুর্ন করতে পারলে মানুষের মুক্তি লাভ ও নিজের জীবন কে নিজের নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।


যোগেশারিরীক ও মানসিক সংযুক্তি :

জানলে অবাক লাগবে আমাদের শরীর, কোনও না কোনও ভাবে এই অসীম মহাবিশ্বের এর সাথে কানেকটেড ও আমাদের শরীরের মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের সব সমসার সমাধানের পথ ।

আমাদের শরীর দেখতে সাধারন কিন্তু এটি খুবই জটিল | আপনি হয়তো জানেনই না এটি আসলে অনেক গুলি লেয়ার দিয়ে তৈরি | প্রতিটা স্তর এক এক প্রকার ভাবে মুক্তি ও জ্ঞানের দ্বার, শুধু আমাদের এই প্রণালীকে গভীরভাবে অনুভব করা ও প্রতি স্তরের সাথে সমতায় আসা প্রয়োজন ।

১। মনময় কোষ:

মনময় কোষের কাজ হলো মনকে উন্মুক্ত ও নিজের ভাবনাকে স্থিরতা প্রদান করা। কারণ আপনি যা ভাবছেন তার প্রভাব কোনও না কোন ভাবে আপনার শরীর ও আপনার জীবন এ প্রভাব ফেলে।

তাছাড়া ডাক্তাররাও মনে করেন আপনার সমস্থ শারিরীক সমসার 90 ভাগ আপনার মনের সাথে যুক্ত | আপনার চঞ্চল এবং সন্দেহবাতিক মনই হলো আপনার বেশিরভাগ রোগের মূল কারণ |

তাইতো মনের স্থিরতা থাকার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, আর সেই কাজকেই সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে মনময় কোষ | আর এই কোষের সর্বোচ্চ উপকারিতা তখনই পাওয়া সম্ভব যখন আপনি যেকোনো যোগ সাধনায় নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে সময় দেবেন |

২। প্রাণময় কোষ:      

প্রাণময় কোষ আপনার শরীরের একপ্রকারে এনার্জি সিষ্টেম । যদি আপনার এই এনার্জি সিষ্টেম আপনার শরীরের alignment-এর সাথে সঠিক অবস্থায় থাকে তবে কোনোদিন আপনার শারিরীক সমস্যা হবে না ।

আমাদের শরীরে তখনই সমস্যা তৈরী হয় যখন এই alignment কোনো ভাবে নষ্ট হয় । তাই এই alignment-কে সঠিক রাখতে প্রাণময় কোষের নিয়ন্ত্রণ সাধনে প্রাণায়াম বিশেষ ভূমিকা পালন করে |

৩। বিজ্ঞানময় কোষ:

বিজ্ঞানময় কোষের উন্নতি সাধনে আপনি পেতে পারেন অভূতপূর্ব জ্ঞান । আপনার শরীর নিজের ভিতরেই অসীম জ্ঞানকে ধরে রেখেছে | যা আপনার জেনে অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে | কিন্তু এটা সত্যি |

 আমরা আজ প্রত্যেকেই বাইরের সব জ্ঞান এতটাই খুঁজতে ব্যস্ত যে নিজের অন্তরের এই জ্ঞান হাতের কাছে থেকেও সেটাকে আমরা অনুভব করতে পারছি না | যেটা খুবই প্রয়োজন অনুভব করার ।

মন যখন বিস্তারিত হয়ে একটি বিশেষ স্তরে পৌঁছায় তখন তাঁর মধ্যে ‘বোধি জ্ঞান’ জাগ্রত হয়। ধারণার দ্বারা বিজ্ঞানময় কোষ পুষ্ট হয়।

৪। আনন্দময় কোষ:

আনন্দময় কোষ হচ্ছে যোগের সবচেয়ে উচ্চতম অবস্থা যেখানে আছে শুধু পরমানন্দের অনুভুতি । এই কোষে বৈয়ষ্টিক চেতনা বা ছোট আমি বোধ থাকে বটে তবে তা অস্পষ্ট ও আবছা ভাবে। এই অবস্থায় বড় আমি বোধ অর্থাৎ আমিই ঈশ্বর এই ভাব জেগে ওঠে।

এই স্তরে মন সেই অনন্ত সত্তাকে পেতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই সূক্ষ্ম কারণ মন হ’ল পূর্ণত্বের দ্বার পথ। এখানে সামান্য একটা অতি সূক্ষ্ম আবরণ থেকে যায় মাত্র যা অতিক্রম করলেই আত্মার সেই আত্যুজ্জ্বল আলোকের দর্শন লাভ হয়। 

আমরা যা চাই সবই শরীর এর পক্ষে সম্ভব যেমন সুস্থ শরীর, সুস্থ মন, আনন্দ , শান্তি ও চিন্তা মুক্ত জীবন কিন্তু আমাদের শরীর সাধারণত সেই সমতায়ে নেই তাই যোগ বা yoga এমন এক প্রক্রিয়া যা আমাদের সেই সমতা প্রদান করে এই গুলো achieve করতে সাহায্য করে ।


আরো পড়ুন: যোগব্যায়াম করার টিপস

যোগের প্রকার (Types of Yoga) :

যোগ প্রধানত চার ভাগে বিভক্ত | যেমন- কর্ম যোগ, জ্ঞান যোগ, ভক্তি যোগ এবং রাজ যোগ |

১।   কর্ম যোগ:

কর্ম যোগে বলা হয়, ভালো কর্মই মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং আমাদের সর্বদা ব্যক্তিগত ফলাফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে ধর্ম অনুযায়ী কাজ করা উচিত । কর্মের মধ্যেই ধর্ম এবং ধর্মের মধ্যেই কর্ম লুকিয়ে রয়েছে | যে যোগী নিষ্কাম মনোভাব নিয়ে করে অর্থাৎ ফলের চিন্তা ছাড়া কাজই যার একমাত্র উদ্দেশ্য হয় সেই একমাত্র আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকে লাভ করতে পারে |

২।  জ্ঞান যোগ:

জ্ঞানযোগ হল নাম ও রূপের বাইরে গিয়ে পরম সত্যকে উপলব্ধির পথ । এই অনুসারে, সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমেও মোক্ষ লাভ কিংবা আত্মজ্ঞান সম্ভব।

যে যোগী, সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে যাবে, সে দ্রুতই নিজের আসল স্বরূপকে উপলব্ধি করতে পারবে এবং অবশেষে এর মাধ্যমে সে আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে | 

৩।  ভক্তি যোগ:

ভক্তিযোগ হচ্ছে  ভগবানকে লাভ করার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় ভক্তির নয়টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে । যেমন – শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, বন্দন,অর্চন, পাদসেবন, দাস্য,সখ্য ও আত্মনিবেদন ।

যে যোগী নিজেকে শুধু ভগবান কিংবা পরমাত্মার কাছে নিজেকে পুরোপুরি অর্পণ করে দেবেন ভক্তির মাধ্যমে, সেও শেষে আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে|  

৪। রাজ যোগ :

রাজযোগের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে রাজার মতো নিজের অন্তরকে আত্মবিশ্বাসী, ভয়হীন এবং আত্মনিয়ন্ত্রিত বানানো | এই যোগকে অষ্টাঙ্গ যোগও বলা হয়ে থাকে |

যেটা এই ৮টি অংশ দ্বারা গঠিত- যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি | যে যোগী এই অষ্টাঙ্গ যোগ সাধন করতে পারবে সেও আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে অনায়াসে |  


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন কিংবা আমাদের সেন্টারে এসে অফলাইনে শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

যোগব্যায়াম করার টিপস | Yoga Tips in Bengali

যোগব্যায়াম পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ একটি অনুশীলন প্রক্রিয়া | যে মানুষ রোজ যোগব্যায়াম করে, তার শরীর ও মন হয়ে ওঠে সতেজ এবং সুস্থ | কিন্তু এই যোগ ব্যায়াম করার আগে যোগ ব্যায়ামকারীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানার প্রয়োজন আছে |

সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হলো:

১. যোগব্যায়াম করার নির্দিষ্ট একটি বয়স আছে | যেকোনো বয়স থেকেই যোগব্যায়াম শুরু করে দেওয়া যায় না | যোগব্যায়াম অভ্যাসকারীর কমপক্ষে ৫ বছরের উপরে বয়স হওয়া প্রয়োজন | যদি আপনার সন্তানের ৫ বছর উর্ধ্বে বয়স না হয়ে থাকে তাহলে তাকে কখনোই জোর করবেন না এটা করার জন্য |

2. যোগব্যায়াম কিন্তু নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে | যোগের অনেক ব্যায়াম কিন্তু একজন নারীর পক্ষে এবং একজন ৭০ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তির পক্ষে করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা | তাই আপনি যদি এমন একটি যোগাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে থাকেন যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সব ধরনের ব্যায়াম করানো হয়, তাহলে সাবধান হয়ে যান এবং দ্রুত নিজের যোগাসন কেন্দ্রটিকে পরিবর্তন করুন |

৩. বছর ১০-১৫ বয়সই ছেলে-মেয়েরা, প্রত্যেকটি যোগাসন প্রথম প্রথম ৩০ সেকেন্ড করে 8 বার অভ্যাস করবে | তারপর ধীরে ধীরে যখন তুমি প্রত্যেক আসন ৩০ সেকেন্ড করতে সাবলীল হয়ে যাবে তখন সেটা করার সময় সীমাকে আসতে আসতে ১৫ সেকেন্ড করে বাড়াও |  

8. অনেকদিন অভ্যাসের ফলে একআসনে বসে থাকার ক্ষমতা আমাদের বৃদ্ধি পায় | তখন সমস্ত যোগাসন অভ্যাসকারীরা একের পর এক আসন ৪বার করে অভ্যাস না করে বরং সেই প্রত্যেকটিকে অন্তত 8 থেকে ৫ মিনিট ধরে অভ্যাস করলে ভালো হয় | তারপর প্রত্যেকটি আসন এইভাবে 8-৫ মিনিট ধরে করার পর ১ মিনিটের শবাসনের মাধ্যমে বিরতি নেওয়া যেতে পারে |

৫. যোগাসন অভ্যাসকারীর প্রত্যেকটি আসন অভ্যাসকালে যেই আসনটি অভ্যাস করছে তার উপকারিতা সম্পর্কে নিজ মনে চিন্তা করা উচিত এবং নিজ শরীর ও মনের উপর সেটির প্রভাবকে উপলব্ধি করতে চেষ্টা করা উচিত |

৬. যোগব্যায়াম শেষে মিছরি, আখের রস কিংবা আখের গুড়ের সরবৎ একটু লবন মিশিয়ে পান করা স্বাস্থের পক্ষে ভালো |

৭. মেয়েদের পিরিয়ডসের সময় কখনোই যোগাসন করা উচিত নয়, অন্তত এক সপ্তাহের জন্য এইসবের থেকে বিশ্রাম নেওয়া উচিত |

৮. আপনি যদি রোজ যোগাসন করেন তাহলে সপ্তাহে একদিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিন | প্রতিদিন জোর করে এবং শরীরকে বিশ্রাম না দিয়ে যেকোনো ধরনের শারীরিক চর্চা আপনার স্বাস্থ্য অবনতির মূল কারণ হয়ে উঠতে পারে | তাই নিজেকে সপ্তাহে একদিন করে বিশ্রাম দিন |

৯. যোগাসন করার সময় পায়ের নীচে পাতলা গদির মতো কোনো আসন রাখলে যোগাসন করার ক্ষেত্রে আপনার অনেক সুবিধা হতে পারে |

১০. অনেকেই মনে করেন যোগব্যায়াম করার নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে | তা কিন্তু মোটেই নয় | অভ্যাসকারী নিজের সুবিধা মত ভোরবেলা কিংবা রাত্রে শোবার আগে এটি অভ্যাস করতে পারে | কিন্তু সকালে ছাড়া অন্য কোনো সময়, খালি পেটে যোগাসন করা একদমই উচিত নয়, এমনকি ভরা পেটেও যোগাসন করা উচিত নয় |

১১. যোগাসন শুরু করার আগে খালি হাতের ব্যায়াম করে নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন | শরীরকে ওয়ার্ম আপ না করে ব্যায়াম করলে, আপনার ভয়াবহ চোট লাগতে পারে | তাই সাবধান |

১২. শীর্ষাসন করার পর কখনোই কিন্তু শবাসন করা উচিত নয় | যদি আপনি এটা করে থাকেন তাহলে আপনার মাথা যন্ত্রণা হবেই | কারণ আমরা যখন শীর্ষাসন করে থাকি তখন আমাদের শরীরের সমস্ত রক্ত মাথার দিকে যেতে শুরু করে, যদি তখনই আমরা আসনটি শেষ করার পর সাধারন আসনে না বসে থাকি এবং শবাসন করা শুরু করে দিই তাহলে মাথার রক্ত শরীরের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে পারেনা, যারফলে শুরু হয় মাথা ব্যথা |

১৩. আসন অভ্যাসকালে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিকভাবে নিতে এবং ছাড়তে হয় | কোনো অবস্থাতেই দম বন্ধ করে যোগাসন করা উচিত নয় |

১৪. যোগমুদ্রা ছাড়া আর অন্য কোনো মুদ্রা ১০ থেকে ১২ বছরের কম বয়সই ছেলেমেয়েদের করা উচিত নয় এমনকি ঋতুচক্র তৈরী হয়নি এমন মেয়েদেরও এটি করা উচিত নয় |

১৫. শুধুমাত্র রোগীরা যারা কোনো বিশেষ রোগ নিরাময়ের জন্য যোগাসন করবে, তারা কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি আসনের শেষে প্রয়োজন মতো শবাসন অভ্যাস করবে |

১৬. রক্তচাপ অনেক বেশি হলে শবাসন ছাড়া আর কোনো আসন করা উচিত নয়, নাহলে আপনার জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে |

১৭. লিভার বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে পশিমোত্তানাসন, শলভাষণ ও ভুজঙ্গাসন করা উচিত নয় |

১৮. হার্টের সমস্যা থাকলে শীর্ষাসন করা উচিত নয় |

১৯. প্রেগনেন্ট হওয়ার ৩ মাস পর্যন্ত যোগ ব্যায়াম করা যেতে পারে এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার ৩ মাস পর থেকে যোগ ব্যায়াম শুরু করা ভালো এতে প্রসবের পর থলথলে ঝোলা পেটের সমস্যা দূর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি |

20. আপনার যদি অনিদ্রা কিংবা স্বপ্নদোষের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে গোমুখাসন করা শুরু করুন | আপনার এই সমস্যা অতি তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যাবে |

২১. যোগব্যায়াম এক প্রকার হালকা ধরনের অনুশীলন প্রক্রিয়া | এই ব্যায়াম অভ্যাসে মানুষের শরীরে স্নায়ুর ক্ষমতাবৃদ্ধি পায় এবং বয়সকালে বিভিন্ন মাংশপেশীর স্বাভাবিক গঠন এবং শক্তিলাভ সম্ভব হয় |

২২. হার্নিয়া হলে কোনো প্রকারের পেটের ব্যায়াম করা উচিত নয় | আপনি যদি তা করেন তাহলে আপনার হার্নিয়া ফেটে যেতে পারে |

বি: দ্র: যোগাসন সম্পর্কে আরো বিস্তরভাবে জানতে চাইলে অবশ্যই আপনি নীলমনি দাসের যোগাসনের বই পড়ুন |


আশা করি মেডিটেশন নিয়ে আপনার সমস্ত doubt আমরা clear করতে পেরেছি | লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই এটিকে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানান আপনার মতামত |


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন কিংবা আমাদের সেন্টারে এসে অফলাইনে শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

মেডিটেশনের ৬টি প্রচলিত প্রশ্ন | 6 Common Questions of meditation in bengali

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি আজ জানতে পারবেন Meditation নিয়ে ৬টি অজানা তথ্য সম্পর্কে এবং সেগুলোর পাবেন যথাযথ উত্তর | দেখুন বর্তমান যুগে মেডিটেশন কথাটা তো সবাই শুনেছে | কিন্তু এই সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক কোনো ধারণা নেই |

কিন্তু এই নিয়ে চিন্তা করার আর আপনাকে অন্তত দরকার নেই কারণ এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে আপনি আজ Meditation সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে যাবেন | তা চলুন সেগুলো তবে জেনে নেওয়া যাক |

প্রশ্ন নাম্বার এক: মেডিটেশন করার অর্থ কি নিজের মস্তিষ্কের চিন্তা করার শক্তিকে পুরোপুরি Blank করে দেওয়া?

এই প্রশ্নটা সবথেকে জনপ্রিয় | আজও অনেক মানুষ মনে করেন মেডিটেশন করলে নাকি তাদের চিন্তা একদম গায়েব হয়ে যাবে | মস্তিস্ক পুরোপুরি blank আর শান্ত হয়ে যাবে | দেখুন শেষের ধারণাটা তো ঠিক, এটা সত্যিই আপনার মস্তিস্ককে তথা মনকে শান্ত করে দেবে |

কিন্তু মস্তিষ্কের মধ্যেকার চিন্তা করার শক্তিকে কখনই blank করে দেবেনা | এরকম সত্যিই যদি আপনি করতে চান, তাহলে আপনি কোমায় যাওয়ার ভাবনায় মেতে আছেন | কারণ এটা একমাত্র সেই অবস্থাতেই সম্ভব | আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করার ধরন মোটেই এরকম নয় |

আপনি যা কিছুই practice করুন না কেন আপনার মস্তিষ্কে 60 থেকে 70 হাজার চিন্তা প্রতিদিন আসবেই | এটাকে কেউই আটকাতে পারবেনা | 

মেডিটেশনের কাজ হলো আপনার অতিরিক্ত চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ওয়ার্ক লাইফের সাথে আপনার স্বাভবিক জীবনকে ব্যালান্স করানোর চেষ্টা করা |

আপনার জীবনে সকল অশান্তির মূল কারণ হলো আপনার অতিরিক্ত চিন্তা নাকি অন্য কেউ | সবাই একে অপরকে নিয়ে বা নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে চলেছে বলেই প্রত্যেকের জীবনে এত স্ট্রেস বা অশান্তি |

Balance লাইফস্টাইল আপনার জীবন থেকে এইসব স্ট্রেস বা অশান্তি দূর করে দিতে পারে | শুধু এটাকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিটের মেডিটেশন |


প্রশ্ন নাম্বার দুই: মেডিটেশন চোখ খুলে করা উচিত নাকি চোখ বন্ধ করে?

এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দুটোই | আপনি চোখ খুলেও meditation করতে পারেন আবার চোখ বন্ধ করেও মেডিটেশন করতে পারেন | choice আপনার উপর |

কিন্তু আমি মনে করি মেডিটেশন সবার প্রথমে চোখ বন্ধ করে practice করা উচিত | কারণ আপনি যদি প্রথমেই চোখ খুলে মেডিটেশন করা শুরু করেন তাহল আপনি খুব সহজে আপনার মনকে ফোকাস করতে পারবেন না | যারফলে আসবে বিরক্তির ভাব |

মেডিটেশন করার অর্থ কিন্তু সর্বদা ফোকাস থাকা সেটা চোখ খুলেই হোক কিংবা চোখ বন্ধ করে | কিন্তু এই ফোকাসের লেভেলকে বাড়ানোর জন্য আপনার অনেকদিনের প্র্যাকটিসের প্রয়োজন, মিনিমাম তো ৩ মাসের প্রয়োজনই প্রয়োজন |

যখন আপনি automatically চোখ বন্ধ অবস্থায় মেডিটেশনের মাধ্যমে নিজের ফোকাসকে একটা লেভেল পর্যন্ত বাড়িয়ে নেবেন | তখন আপনার পক্ষে যেকোনো অবস্থায় মেডিটেশন করা কোনো সমস্যাই হবেনা |

আপনি সর্বদা তখন ধ্যানের অবস্থাতেই থাকবেন অর্থাৎ সহজ কথায় যদি বলি আপনি একদম highly focused মানুষে পরিনত হয়ে যাবেন আর অবশ্যই হবেন ধৈর্য্যশীল ও শান্ত |


প্রশ্ন নাম্বার তিন: মেডিটেশন করার সঠিক জায়গা কোনটা?

Meditation করার সঠিক জায়গা যেকোনো হতে পারে কিন্তু এখানে শর্ত মাত্র একটাই সেই জায়গাটা অবশ্যই যেন একদম শান্ত অথবা নিরিবিলি হয় | যেখানে মানুষের অতিরিক্ত কোলাহল সেখানে মেডিটেশন না করাই ভালো কারণ অতিরিক্ত কোলাহলের মধ্যে মেডিটেশন করলে আপনি এর থেকে কোনো প্রকার আন্তরিক উপকার পাবেন না |

তাই এমন একটা জায়গা খুঁজুন যেটা আপনার মতে শান্ত অথবা নিরিবিলি | সেটা আপনার বাড়ির যেকোনো ঘরও হতে পারে বা  আশপাশের কোনো পার্ক বা মাঠও হতে পারে |


প্রশ্ন নাম্বার চার: কতক্ষণ ধরে আমাদের মেডিটেশন করা উচিত?

অনেকের মনের মধ্যেই এই প্রশ্নটা আসে যে, মেডিটেশন একজন মানুষ কতক্ষন ধরে করবে | একটা কথা জেনে রাখবেন, মেডিটেশন আপনি যতক্ষন ধরে করতে পারবেন ততই আপনার পক্ষে ভালো | কিন্তু অনেক্ষন ধরে না করতে পারলে অন্তত ১৫ মিনিট করাই উচিত | এর থেকে কম সময়ের মধ্যে শেষ করলে আপনি এর থেকে বেনিফিট অনেক দেড়িতে পাবেন |

কিন্তু একটা কথাই বলে রাখি, আপনি যদি এর আগে কোনোদিন মেডিটেশন না করেন তাহলে জোর করে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করার কোনো দরকার নেই | আপনি আগে কিছুদিন ৫ মিনিট করে রোজ মেডিটেশন করুন তারপর ধীরে ধীরে সেই ৫ মিনিটকে ৭ মিনিট, তারপর ১০ মিনিট ও তারও পর ১৫ মিনিটে নিয়ে যান |

এর যখন আপনার মনে হবে, ১৫ মিনিট করে মেডিটেশন আপনি অনায়াসে করতে পারছেন তখন আবার নিজের এই প্র্যাকটিসের সময়কে বাড়ান |

আর হ্যাঁ এরজন্য অবশ্যই মোবাইলে টাইমারের সাহায্য নিন |


প্রশ্ন নাম্বার পাঁচ:  আমি কি কোনো ধরনের হালকা music চালিয়ে meditation করতে পারি? আর এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আমি কোণ ধরনের music চালাবো?

আপনি হয়তো এটা শুনেছেন যে music আমাদেরকে ভিতর থেকে heal করতে পারে | একটা ভালো ধরনের music এর মধ্যে কিন্তু সত্যিই সেই ক্ষমতা থাকে |

মেডিটেশন করার সময়ে আপনি কিন্তু music এর ব্যবহার করতে পারেন | Youtube-এ আপনি সার্চ করলেই বিভিন্ন ধরনের মেডিটেশনের জন্য music পেয়ে যাবেন | এছাড়াও আপনি white noise music শোনার মাধ্যমেও মেডিটেশন করতে পারেন |

এবার আপনি যদি white noise কথাটা জীবনে প্রথম শুনে থাকেন তাহলে আপনাকে এর অর্থ সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিই | white noise হচ্ছে এমন ধরনের সাউন্ড যেটা প্রাকৃতিক | উদাহরণ স্বরূপ: ঝিজিপোকার ডাক, নদী বা সমুদ্রের কলতান কিংবা পাখির ডাক ইত্যাদি |

আর youtube-এ সার্চ করলেই আপনি বিভিন্ন ধরনের white noise music পেয়ে যাবেন | আমার পার্সোনাল মত অনুযায়ী মেডিটেশন music শুনে মেডিটেশন করার চেয়ে white noise music শুনে মেডিটেশন করা অনেক ভালো |

যেহেতু এগুলো এক একটা ন্যাচারাল সাউন্ড তাই আপনার মস্তিস্ক এক্ষেত্রে ভীষনভাবে distracted হবেনা | কিছুক্ষণ এই ন্যাচারাল সাউন্ডের মাধ্যমে মেডিটেশন করলে আপনার মস্তিস্ক এমনিতেই শান্ত আর focused হয়ে যাবে |

কিন্তু আমার কথা মানার আগে সবার প্রথম নিজে আগে যাচাই করে নেবেন | আপনার কোন musicটা বেশি ভালো লাগছে মেডিটেশন  করার সময় |

আরেকটা কথা বলে রাখি, সর্বদা music চালিয়েই কিন্তু আপনি কখনই মেডিটেশন করবেন না | সপ্তাহে এক দুবার ঠিক আছে কিন্তু প্রতিদিন করা ঠিক নয় | নরমালভাবে মেডিটেশন করারই সর্বদা চেষ্টা করো |


সবশেষে প্রশ্ন নাম্বার ছয়: Meditation করার সঠিক বয়স কত? এবং বাচ্চারাও কি মেডিটেশন করতে পারে?

মেডিটেশন করার নির্দিষ্ট কোনো বয়স হয়না | এটা করা কেউ দশ বছর বয়স থেকে শুরু করতে পারে আবার ষাট থেকে সত্তর বছর বয়সে গিয়েও করতে পারে | এক্ষেত্রেও choice একদম তার |

বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজ আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে এই ভুল ধারণাটা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, মেডিটেশন তারাই করে যারা অনেক বয়স্ক হয় |

যেই কথাটা কিন্তু একদমই সত্যি নয় |

শুনুন মেডিটেশন হচ্ছে একধরনের মাইন্ড ট্রেনিং যেটা সকলেরই সবার আগে করা প্রয়োজন কারন আমি এই লেখার প্রথমেই বলেছি আমাদের জীবনে যা কিছু সমস্যা হচ্ছে তার মূল উৎস হচ্ছে আমাদের মন আর আমাদের অনিয়ন্ত্রিত চিন্তা |

তাই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অতিরিক্ত চিন্তাকেও নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রাচীন পদ্ধতি হলো এই মেডিটেশন |

এবার, বাচ্চাদেরকে মেডিটেশনকে করানোর advice হিসাবে আমি বলতে পারি যে, সাত বছরের নীচে কোনো বাচ্চাকেই মেডিটেশন করানো উচিত নয় কারণ তার আগে পর্যন্ত তাদের মানসিক বিকাশ তেমন একটা হয়না |

কমপক্ষে সাত বছর বয়স যদি না হয় আপনার সন্তানের, তাহলে তাকে কখনোই জোর করে মেডিটেশন করানোর চেষ্টা করবেন না | মেডিটেশন কিন্তু জোর করে করার জিনিস নয় বা জোর করে করানোর জিনিস নয় এটা সর্বদা মাথায় রাখবেন |


আশা করি মেডিটেশন নিয়ে আপনার সমস্ত doubt আমরা clear করতে পেরেছি | লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই এটিকে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানান আপনার মতামত |


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

মেডিটেশন ও এর উপকারিতা | What is Meditation and Its Benefits in Bengali

Meditation বা ধ্যান কী ?

এখনকার সময়ে খুবই প্রচলিত একটা কথা হলো ধ্যান বা মেডিটেশন।  সবাই এই ধ্যান বা Meditation শিখতে চায় কিন্তু এই ধ্যান কিন্তু কোনো শেখার জিনিস নয় বরং এটা একটি অবস্থার গুণ স্বরূপ। আপনি বা আমি ধ্যান করতে পারি না বরং আমরা ধ্যান মগ্ন হতে পারি।

যদি আমরা গভীর ভাবে বুঝতে চাই তবে ধ্যান একটি গাছের ফলের মতো | যদি আমরা মাটি, জল ও সার ইত্যাদি দিয়ে সেই গাছকে ঠিক ভাবে খেয়াল রাখি তবে সেই গাছ  নিশ্চিত ফল দেবে।

তেমনি মেডিটেশন বা ধ্যান একটি অবস্থা যা আপনার ইমোশন, আপনার মন ও আপনার শরীরকে নির্দিষ্ট বাতাবরণ প্রদান করে যাতে আপনি তার ফল স্বরূপ ধ্যানস্থ হতে পারেন।

“Meditation” এই শব্দটি অনেক গভীর এবং আজ পর্যন্ত এর সঠিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা কেউ দিয়ে যেতে পারেনি, কারণ এটি একটি উপলব্ধির বিষয় মাত্র। 

প্রতিটি মানুষের উপলব্ধি এক হতে পারেনা কারণ আপনি কত উপলব্ধির গভীর স্তরে গেছেন সেটি মাপার কোনো যন্ত্র এখনো অবধি আবিষ্কার হয়নি।

ধ্যান  একটি পদ্ধতি মাত্র  যার মাধ্যমে আপনি আপনার অন্তরের প্রকৃতি ও আপনি কে- এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের একটি  দিশা পাবেন। এটি একটি সয়ম সুগঠিত প্রক্রিয়া, এই প্রক্রিয়া অনুসন্ধানের কোনো শেষ বলে কিছু নেই ।

জানেন তো আমাদরে এই জীবনটা খুবই ছোট, এরমধ্যে আমরা আমাদের জীবনকে ও নিজেকে  নানান ভাবে ভেঙে নিজেরই নানান রূপ তৈরী করেছি। 

আর এই রূপ গুলোর জালে ফেঁসে আমরা নিজেরা নিজেদের প্রকৃত স্বরূপকে ভুলে গেছি । আমরা শুধুমাত্র ইন্দ্রিয়র দ্বারা অনুভব করতে পারি আর আমাদের এই ইন্দ্রিয়, বাইরের জগৎকে অনুভব করার জন্য তৈরী হয়েছে | তাই আমার ভিতরের স্বরূপকে অনুভব করতে পারি না।

ধ্যান একটি পদ্ধতি যা যেকোনো জিনিসকে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে যাতে আমরা পুরনো ধারণা ভুলে নতুন করে কিছু খোঁজা শুরু করি ও বোঝা শুরু করি।

  যেমন এই ধরুন না কষ্ট বা ব্যাথা , এই কষ্ট বা ব্যাথা  থেকে আমরা সবাই দূরে থাকতে চাই  কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে এই কষ্ট না থাকলে আজ আমাদের জীবন হয়তো সম্ভব হতো না। 

কারণ আমাদের শরীর যদি কষ্ট বা ব্যাথা অনুভব করা ভুলে যায় তবে আমরা নানা ইনফেক্শন ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা যেতে বসবো সেটাকে অনুধাবন না করতে পারার জন্য ।

আপনি কষ্ট পান বলেই তো সেটাকে ঠিক করার আপনার তাগিদ থাকে | কি ঠিক বলছি তো? এটাকে না অনুভব করতে পারলে আপনি বাঁচতেন?

তাই এটি একটি প্রকৃতির দান যার কারণ আজ আমি আপনি সবাই বেঁচে আছি সুস্থ ভাবে।    

এইজন্যই তো প্রাচীন কালের আভিজ্ঞ ঋষিরা নানা পদ্ধতি বানিয়েছিলেন, নিজেকে আরো ভালো করে বোঝার ও সুস্থ রাখার জন্য এবং নানান  রূপের মধ্যে নিজের অন্তর প্রকৃতির অনুসন্ধানের জন্য। 

যেগুলির মধ্যে একটি সরল পদ্ধতি হলো ধ্যান। এর পরে আছে সমাধি তারপরে তপস্যা ও আরো অনেক কিছু | এইসব কিছুর মাধ্যমে জীবনকে একদম গভীরভাবে উপলব্ধি করার জন্য এই জীবন খুবই ছোট।


এবার তাহলে জেনে নিই ধ্যান বা Meditation কিছু দুর্দান্ত Benefits সম্পর্কে:

 বিগত 20 বছরে অনেক বিদেশী এবং ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা গবেষণাগুলি হয়েছে এটা খুঁজে বের করার জন্য যে, ধ্যান বা মেডিটেশনের প্রাকটিসের মধ্যে কোনো প্রকারের Benefits আছে কিনা যা আমাদের দেহ এবং মনকে সুস্থ করতে পারে। 

বিভিন্ন গবেষণার পরে জানা যায় যে ধ্যান আসলে আমাদের দেহকে বিভিন্ন উপায়ে নিরাময় করতে পারে এবং এরমধ্যে রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্য সুবিধা । তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও বিজ্ঞান স্বীকৃত ৮ টি উপকারিতা আজ আপনার সামনে তুলে ধরলাম:

১. মস্তিষ্কের ক্রিয়েটিভ ক্ষমতা বাড়ায় :

Meditation আপনার মন এবং শরীরের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সহায়তা করে যাতে আপনার মন বিশেষ মনোযোগের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

এটা আপনার মস্তিষ্কের আলফা ওয়েব বা আলফা তরঙ্গকে ভীষনভাবে বাড়িয়ে দেয়। এই আলফা তরঙ্গ একমাত্র আপনার গভীর ধ্যানের মাধ্যমে বাড়তে পারে। 

যখন এই তরঙ্গ আপনার মস্তিষ্কে বাড়বে তখন আপনি নানান সব নতুন ক্রিয়েটিভ চিন্তা ভাবনা করতে পারবেন অনায়াসেই। স্নায়ুবিজ্ঞানীরাও মেনে নিয়েছেন যে, যদি আপনার মস্তিষ্ক আলফা ওয়েভ স্টেজে যায় তবে আপনি একটি সাধারণ চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়া থেকে বেশি সৃজনশীল হয়ে উঠতে পারেন।

সমীক্ষায় দেখা গেছে যে একজন মানুষের গড়ে  ০.০৯ সেকেন্ড পর্যন্ত কোনো জিনিসের প্রতি ফোকাস  করতে পারে। যদি আমাদের ফোকাস এতো কম সময় জন্য হয় তবে আমরা কিভাবে নতুন জিনিসের প্রতি মনোযোগ দেব। 

তাই  মেডিটেশন আমাদের আরও ক্রিয়েটিভিটিকে  বাড়ায় যাতে  করে আমরা যে দিকে মনে হয় সেদিকে মনোনিবেশ করতে পারি গভীর ভাবে ।

২. স্মরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সময় সাশ্রয় :

মানুষ ইদানিং নিজের মস্তিষ্কে একধরনের কল্পকাহিনীকে একদম ফিট করে নিয়েছে মেডিটেশনকে নিয়ে যে, “আমি খুব  ব্যস্ত, আমার ধ্যান করার সময় নেই”, মেডিটেশন করতে প্রচুর  সময় লাগে ” ইত্যাদি ইত্যাদি । আসলে মেডিটেশনের জন্য প্রচুর সময়  প্রয়োজন নেই বরঞ্চ এটি আপনার মূলবান সময়কে  বাঁচাতে সহায়তা করে।

মেডিটেশন আপনার মস্তিষ্কের corpus callosum-কে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। Corpus callosum হলো আমাদরে মস্তিষ্কের একটি পোটির মতো অংশ যা আমাদের দুই ব্রেনের অংশ অৰ্থাৎ ডানদিক ও বাঁদিককে এক সাথে জুড়ে রাখে।

আমরা জানি যে যেকোনো ইনফরমেশন আমাদের ব্রেন এর দুই দিকেই স্টোর হয় আর যখন প্রয়োজন হয় তখন কর্পাস কেভারনসাম সাহায্য করে কোনো ইনফরমেশনকে খুঁজে বার করতে।

আমাদের corpus callosum যত শক্তিশালী হবে তত আমাদের লাভ হবে, কারণ সব কিছু  খুব সহজে এরফলে মনে রাখতে পারবো এবং আমাদের সময়ের অপচয়ও একদম হবেনা |

৩. মানসিক বয়স কমান ও  দ্রুত নতুন কিছু শেখা :

ধ্যান বা Meditation  আমাদের মস্তিষ্কের নিউরোজেনেসিস প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। নিউরোজেনসিস এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিউরোন বৃদ্ধি পায় ও যার ফলে মানসিক বয়স অনেকটা কমে যায় সময় এর সাথে এবং এটি সহজ করে আমাদরে ব্রেনে থাকা গ্রে- ম্যাটারকে বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। 

গ্রে-ম্যাটারের মধ্যে পেশী নিয়ন্ত্রণ এবং সংবেদনশীল উপলব্ধি যেমন দেখা এবং শ্রবণ, স্মৃতি, আবেগ, বক্তব্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্ব-নিয়ন্ত্রণ অনুভূতিকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা রয়েছে । এর সাথে মেডিটেশন আমাদের ব্রেনের হিপ্পোক্যাম্পালের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে যারফলে আমরা দ্রুত সব কিছু শিখতে পারি যে কোনো বয়সে।

৪. ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে:

মেডিটেশন আমাদের মস্তিষ্কের প্রীফ্রন্টাল কর্টেক্সকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তোলায় সাহায্য করে এবং সেইসব জায়গাকে উদ্দীপ্ত করে  যেখানে আমাদের ইচ্ছাশক্তি বা উইল পাওয়ার নিয়ন্ত্রিত হয়।

নানা পরীক্ষাতে দেখা গিয়েছে যে মেডিটেশনের এমন ক্ষমতা রয়েছে যা প্রীফ্রন্টাল কর্টেক্সকে উদ্দীপিত করে এবং শরীরে অবস্থিত ডোপামিন, সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিন নামক হরমোনকে নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে, যারফলে  দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং স্ট্রেসলেস মাইন্ডসেট আমাদের ভীতর তৈরি হয় ।

৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ এ সাহায্য করে:

ধ্যান আমাদের মস্তিষ্কের করটিসোল এবং অ্যাড্রেনালিনের স্তরের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আমাদের মস্তিষ্কের উভয় গোলার্ধের হাইপার একটিভিটিকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। 

সুতরাং অনেকদিন ধরে মেডিটেশন করলে আমাদের মধ্যে ঘন ঘন রেগে যাওয়ার বদঅভ্যাস কমে যায়, এবং যারফলে আমরা আগের চেয়ে বেশি সুখী এবং আত্মবিশ্বাসী বোধ করি ও প্রতিটি সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি ।

৬. অনিদ্রা থাকে মুক্তি :

শরীরকে Heal করার জন্য গভীর ঘুম অবশ্যই দরকার । এটা ছাড়া আপনার শরীর খুব সহজে Heal হওয়ার নয় | কিন্তু আপনি কি জানেন আরেকটা সত্য?

20 মিনিটের ধ্যান আপনার শরীরকে 1 ঘন্টা গভীর ঘুমের মতো বিশ্রাম দিতে পারে এবং আপনার রক্তচাপকেও নিয়ন্ত্রনে আনতে পারে | এটা দীর্ঘদিন ধরে প্র্যাকটিস করলে যেকোনো মানুষের অনিদ্রার রোগ কেটে যায় |

তাই আপনার যদি অনিদ্রা জনিত রোগ থেকে থাকে তাহলে আজ থেকেই ধ্যানের অভ্যাস করুন | আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আপনিও খুব তাড়াতাড়ি এইসব রোগকে দ্রুত কাটিয়ে গভীরভাবে ঘুমাতে পারবেন |

৭. বর্তমান মুহূর্তের অনুভব :

ধ্যান বা Meditationএকটি অসামান্য প্রক্রিয়া, যা আমাদের এই মূল্যবান জীবনের প্রতিটি মুহুর্তকে উপলব্ধি করাতে সহায়তা করে। মেডিটেশন বা ধ্যান আপনার পঞ্চ ইন্দ্রিয়গুলিকে আরও জাগ্রত করতে সহায়তা করে যাতে আপনি আপনার জীবনকে আরও দক্ষতার সাথে গড়ে তুলতে পারেন।

এটি সত্য যে জীবন মাত্র একবারেরই, সুতরাং মেডিটেশন বা ধ্যান আপনাকে  বর্তমান মুহুর্তে আরও সুখী ও প্রাণবন্ত ভাবে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে এবং অতীত ও ভবিষ্যতের দুঃখকে দূরে সরিয়ে বর্তমানের উপর ফোকাস করতেও সাহায্য করতে পারে |

৮. ক্ষমা করা:

মেডিটেশন বা ধ্যান  এমন এক পথ, যেখানে আপনি কেবল তখনই অগ্রসর হতে পারবেন যখন আপনি নিজের জীবনের সব ব্যথা এবং দুর্দশার কারণ হিসাবে নিজেকে এবং সব মানুষকে ক্ষমা করতে শুরু করবেন এবং সব ভুলে নতুন ভাবে বাঁচতে শুরু করবেন।

ধ্যান আপনরা মনকে এতটা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রদান করে যাতে আপনি আপনার সব চেয়ে  বড়ো শত্রূকেও  খুব সুহজে ক্ষমা করতে পারেন।



আশা করি Meditation নিয়ে আপনার সমস্ত doubt আমরা clear করতে পেরেছি এর পর আর জানতে মেডিটেশন নিয়ে কিছু প্রশ্ন | 6 Commonly Asked Questions about Meditation পড়ুন | লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই এটিকে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানান আপনার মতামত |


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

Exit mobile version
0