মেডিটেশনের ১৩টি বৈজ্ঞানিক উপকারিতা | Scientific-Benefits-of-Meditation

মেডিটেশন বা ধ্যানের ১৪টি বৈজ্ঞানিক উপকারিতা:

মেডিটেশনের মধ্যে কিছু আশ্চর্যজনক উপকারিতা বিদ্যমান যা একটি সুস্থ, সুখী ও সার্থক জীবনের প্রয়োজনীয় অঙ্গ এবং একই সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রভাব বিস্তারকারী ক্রিয়া।  বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া হল:

1) মস্তিষ্কের কাঠামোগত পরিবর্তন:

  • গ্রে ম্যাটার বৃদ্ধি: নিয়মিত ধ্যান মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারের ঘনত্ব বাড়ায়, যা জ্ঞান, স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত। এবং একই সাথে  ধ্যান মস্তিষ্ক থেকে প্রাপ্ত নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (BDNF) এর উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। (BDNF) বিডিএনএফ একটি প্রোটিন যা নতুন নিউরনের বৃদ্ধি এবং পুরাতন নিউরন সঠিক সংযোগে সহায়তা করে। 
  •  অ্যামিগডালার আকার হ্রাস: অ্যামিগডালা মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের একটি মূল অংশ, যা আবেগ প্রক্রিয়াকরণের জন্য দায়ী, বিশেষ করে ভয় ।  ধ্যান অ্যামিগডালার আকার এবং প্রতিক্রিয়াশীলতাকমায়, যা উদ্বেগ ও ভয় প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
  • প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স শক্তিশালীকরণ: মেডিটেশন প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (PFC) এর জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা ও আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত ও যা ধ্যানের মাধ্যমে উন্নত হয়

2) হরমোন ভারসাম্য:

  • কর্টিসল হ্রাস: ধ্যান স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমায়, যা দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
  • মেলাটোনিন বৃদ্ধি: ধ্যান মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়ায়, যা ভাল ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয়।
  • সেরোটোনিন নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ধ্যান সেরোটোনিন স্তর নিয়ন্ত্রণ করে, যা মেজাজ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

3) জেনেটিক প্রভাব:

  •  টেলোমিয়ার সংরক্ষণ: গবেষণায় দেখা গেছে যে ধ্যান টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধীর করতে পারে।
  • জিন এক্সপ্রেশন পরিবর্তন: ধ্যান কিছু জিনের এক্সপ্রেশন পরিবর্তন করতে পারে, যা ইনফ্লামেশন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

4) কার্ডিওভাসকুলার উপকারিতা:

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ধ্যান রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
  •  হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ: ধ্যান হৃদস্পন্দনের হার কমায় ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

5) ইমিউন সিস্টেমের উপকারিতা:

  • NK সেল বৃদ্ধি (Natural killer cells) : ধ্যান ন্যাচারাল কিলার (NK) সেলের সংখ্যা ও কার্যকারিতা বাড়ায়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় শরীরের সংক্রামিত কোষ এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস কে ধ্বংস করে।  
  •  ইনফ্লামেটরি মার্কার হ্রাস: নিয়মিত ধ্যান C-reactive protein সহ বিভিন্ন ইনফ্লামেটরি মার্কারের মাত্রা কমায়  যা সুস্থ শরীরের জন্য উপযোগী ।

6) ব্যথা নিয়ন্ত্রণ:

  • ব্যথার অনুভূতি পরিবর্তন: ধ্যান মস্তিষ্কের ব্যথা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলির কার্যকলাপ পরিবর্তন করে, যা ব্যথার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।
  • এন্ডোরফিন নির্গমন: ধ্যান শরীরে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক এন্ডোরফিনের নির্গমন বাড়ায়। যা  আনন্দ, সুস্থতার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং ব্যথা উপলব্ধি হ্রাস করে।

7) কগনিটিভ ফাংশন উন্নয়ন:

  • কার্যকরী স্মৃতি বৃদ্ধি: গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ধ্যান কার্যকরী স্মৃতি ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • মস্তিষ্কের তরঙ্গ পরিবর্তন: ধ্যান আলফা ও থিটা তরঙ্গের কার্যকলাপ বাড়ায়, যা শান্তি ও একাগ্রতার সাথে সম্পর্কিত।

8) বয়স-সম্পর্কিত অবক্ষয় প্রতিরোধ:

  • নিউরোপ্লাস্টিসিটি বৃদ্ধি: ধ্যান মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটি বাড়ায়, যা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • কগনিটিভ ডিক্লাইন হ্রাস: নিয়মিত ধ্যান বয়স-সম্পর্কিত কগনিটিভ অবক্ষয়ের গতি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

9) একাগ্রতা ও মনোযোগের বৃদ্ধি: 

ধ্যান আপনার মস্তিষ্কের সেই অংশগুলিকে শক্তিশালী করে যেগুলি একাগ্রতা ও মনোযোগের সাথে সম্পর্কিত। এর ফলে:

  • মনোযোগ বৃদ্ধি : মেডিটেশন আপনার মন কে শান্ত করে তুলতে সাহায্য করে, শরীরের স্ট্রেস হরমোন ও দুশ্চিন্তা বা অস্বাভাবিক উত্তেজনা এবং বিরক্তি মনোভাব কমাতে সাহায্য করে, ফলে আপনি যে কোন কাজে সহজ ও দীর্ঘ মেয়াদি মননিবেশ করতে পারেন। ছাত্র ছাত্রী দের জন্য মেডিটেশন অভ্যাস বিশেষভাবে উপকারী, কারণ এটি তথ্য গ্রহণ ও ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • বর্তমান মুহূর্তে থাকা: ধ্যান আপনাকে ‘মাইন্ডফুলনেস’ বা সচেতন উপস্থিতি অনুশীলন করতে শেখায়, যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পূর্ণভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করে।

10) শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব:

 ধ্যান শুধু মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব:

  • হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: নিয়মিত ধ্যান রক্তচাপ কমায় এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং Heart Rate Variability উন্নত করে, (HRV) হল হৃদস্পন্দনের মধ্যে সময়ের ব্যবধানের তারতম্যের একটি পরিমাপ, যা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার হৃদয়ের ক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে, উচ্চতর HRV ভাল কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের সাথে যুক্ত, মেডিটেশন আমাদের HVR উন্নত করতে সাহায্য করে
  • ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালীকরণ: গবেষণায় দেখা গেছে যে মেডিটেশন বা ধ্যান শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে , যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং শরীরের কোষগুলিকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফলে শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেমে  তৈরিতে সাহায্য করে।
  • ঘুমের মান বৃদ্ধি: মেডিটেশন শরীরের রিলাক্স করতে করতে সাহায্য করে, প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের ব্যালান্স করতে সাহায্য করে যা আমাদের বিশ্রাম এবং হজমের জন্য দায়ী। 

11) আত্ম-উপলব্ধি ও ব্যক্তিগত বিকাশ:

 নিয়মিত ধ্যান আপনাকে নিজেকে গভীরভাবে জানতে ও বুঝতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে:

  • আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি: আপনি নিজের চিন্তা, আবেগ ও আচরণের প্যাটার্ন সম্পর্কে আরও সচেতন করতে সাহায্য করে।
  • আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: নিজের সম্পর্কে গভীর বোধ আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
  • সৃজনশীলতার বিকাশ: ধ্যান আপনার মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশকে উদ্দীপিত করে, যা নতুন ধারণা ও সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

13) জীবনের গুণগত মান উন্নয়ন:

ধ্যানের সব উপকারিতা একত্রিত হয়ে আপনার সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করে:

  • সুখ ও সন্তোষ বৃদ্ধি: ধ্যান আপনাকে জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করতে শেখায়।
  • তাৎপর্যপূর্ণ জীবন: আপনি জীবনের গভীর অর্থ ও উদ্দেশ্য খুঁজে পাবেন।
  • ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন: কাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন।

14)মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: 

ধ্যান বা মেডিটেশন আপনার মনকে শান্ত, স্থির ও সন্তুলিত করতে অত্যন্ত কার্যকর, এটি উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমানোর একটি প্রমাণিত পদ্ধতি। আধুনিক জীবনের অবিরাম চাপ ও দ্রুত গতির মধ্যে, ধ্যান একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।

  • উদ্বেগ হ্রাস: নিয়মিত ধ্যান আপনার মস্তিষ্কের সেই অংশগুলিকে শান্ত করে যেগুলি উদ্বেগের সাথে যুক্ত, যার ফলে আপনি দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জগুলি আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারেন।
  • অবসাদ দূরীকরণ: গবেষণায় দেখা গেছে যে ধ্যান সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো ‘সুখের হরমোন’ উৎপাদন বাড়ায়, যা অবসাদের লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করে।
  • মানসিক স্থিতিস্থাপকতা: নিয়মিত ধ্যান আপনার মানসিক শক্তি বাড়ায়, যা আপনাকে জীবনের নানা চড়াই-উতরাই আরও সহজে মোকাবেলা করতে সাহায্য করে।

এই বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলি প্রমাণ করে যে ধ্যান শুধুমাত্র একটি আধ্যাত্মিক অনুশীলন নয়, বরং এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ধ্যান অনুশীলনের মাধ্যমে, আমরা আমাদের জীবনের সামগ্রিক মান উন্নত করতে পারি এবং একটি সুস্থ, সুখী ও দীর্ঘ জীবন উপভোগ করতে পারি।

আপনি কি এই বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলি জানতেন? আপনার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় এই উপকারিতাগুলির কোনটি অনুভব করেছেন? আপনার মূল্যবান মতামত ও অভিজ্ঞতা কমেন্টে শেয়ার করুন।

চক্র মেডিটেশন কী | What is Chakra Meditation In Bengali?

Chakra Meditation:

Chakra বা চক্র হল আমাদের শরীরের মধ্যে বিভিন্ন প্রান শক্তির কেন্দ্রবিন্দু বা বিভিন্ন নাড়ির সংযুক্ত কেন্দ্রবিন্দু। এবং এই নাড়ী হল আমদের শরীরের প্রাণ শক্তি বা এনার্জি প্রবাহী নালিক।

যখন এই নাড়ী গুলির যখন তিনটি একত্রে মিলিত হয় তখন সৃষ্ঠী হয় নির্দিষ্ট গুন সুমপূর্ন একটি চক্র। অবাক বিষয় তিনটি নাড়ী সর্বদা মিলিত হয় ত্রিকোন আকারে ও বিশেষ এনার্জি রূপে।

আমরা মনে করি চক্রে মানে গোলাকার আকৃতি বিশিষ্ঠ তা নয়, চক্র হল ত্রিকোণ আকৃতির। এই চক্র সর্বদা নিদিষ্ট ক্ষমতা বা এনার্জি পূর্ন হয় ও বিজ্ঞান অনুজাই এনার্জি সঞ্চারিত হয় গোল আকারে, এই বিশেষ স্থানকে চক্র বল হয়।

আমাদরে শরীরের মধ্যে ১১৪ টি প্রধান চক্র আছে, যার মধ্যে ২টি দেহের বাহিরে ও ৪টি সয়ং নিষ্ক্রিয় যা বাকি ১০৮ টি প্রকৃতির সাথে যুক্ত এবং এই 6টি বাদ দিলে পরে থাকে ১০৮ টি।     

১০৮টি চক্রই ১০৮টি ধরনের ভিন্ন ধ্যান প্রণালীর সাথে যুক্ত। আমরা প্রতিটি প্রণালীতেই আত্ম জ্ঞান প্রাপ্ত করতে পারি বা পরম জ্ঞান প্রাপ্ত করতে পারি। প্রতিটিই চক্র এক একটি বিশেষ চেতনা ও জ্ঞানের স্তর উন্মুক্ত করে তলে সময়ের সাথে।

এর মধ্যে জীবন ও চেতনা স্তরে প্রয়োজন প্রধান ৭টি চক্রের উপর আমরা কাজ করি। এই ৭টি হল মুলাধার চক্র, স্বাধিষ্ঠান চক্র , মণিপূরক চক্র, অনাহতা চক্র, বিশুদ্ধি চক্র, অঞ্জনা চক্র ও সহস্ররার চক্র         


মুলাধার চক্র:

Muladhara chakra

মুলাধার হল শরীরের প্রথম বুনিয়াদ ভিত্তি স্থাপন ও এনার্জির কেন্দ্রবিন্দু বা উত্‍স । এই চক্রটি আপনার মেরুদণ্ডের একদম নিচের অংশে অবস্থিত যা বলা হয় শরীরের চক্রের সূচনা বিন্দু।

এই মুলাধার চক্রের রং হল রক্তিম লাল, এই চক্রটি আপনার প্রতিদিনের বেসিক চাহিদা যেমন খাওয়া দাওয়া , ঘুম বা অলসতা, সম্ভোগ ইত্যদি নিয়ন্ত্রণ করে।

মুলাধার চক্রের সাধনা করলে আপনি জীবনের সমস্থ বেসিক চাহিদা গুলি থেকে মুক্তি পেয়ে পাবেন। যোগে বলা হয় যত দিন না আপনি বেসিক প্রয়োজনীয়তা উপরে আস্তে পারছেন তত দিন পশু ভিত্তিক অচরণের মধ্যেই আটকে চেতনা ও জীবন।

এই মুলাধার চক্রের বীজ মন্ত্র হল “লাম-LAM”,এই মন্ত্র উচরণে এই চক্রকে কিছুটা ব্যালান্স করে। তবে পূর্ণ রূপে জগরণের জন্য সাধন বা নির্দিষ্ট ধ্যান পধুতির প্রয়োজন।


স্বাধিষ্ঠান চক্র:

Swadhisthana chakra

দ্বিতীয় চক্র স্বাধিষ্ঠান হল শরীরের তৃপ্তি বা সন্তোষ সাধন ও চিন্তা শক্তির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, এই চক্রটি নাভির একটু নিচের দিকে অবস্থিত ও এই চক্রের রং হল কোমলা।

ঋষিরা বলেছেন এই চক্রটি আমাদের রোজকার জীবনে চিন্তা ভাবনা থেকে শুরু করে শারিরীক ও মানসিক পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণ কর।

স্বাধিষ্ঠান চক্রের সঠিক সাধন করতে পারেন আপনি জীবনে প্রাণবন্ত ভাবে মানুষ বাচতে পারবে। পুরাণের মতে যদি আপনি মুলাধার চক্র ও স্বাধিষ্ঠান চক্রর ব্যালান্স আনতে পারেন তবে জীবনে 70 ভাগ শরীরীরক সমস্যা থাকে মুক্তি পায়ে যাবেন।

এই স্বাধিষ্ঠান চক্রের বীজ মন্ত্র হল “ভাম-VAM”, এই মন্তের 108 বার সঠিক উচরনে এই চক্রটি কিছুটা  ব্যালান্স হয় তবে সাধনা ছাড়া পূর্ণ জাগরণ সম্ভব না।   


মণিপূরক চক্র:

Manipura chakra

তৃতীয় চক্র মণিপূরক হল জীবনে কর্মের শক্তির কেন্দ্রবিন্দু, এই চক্রটি আমাদের নাভিতে অবস্থিত।

মণিপূরক চক্রের রঙ হল হলুদ বা ইয়েলো কালারের, ঋষিরা বলেছেন চক্রটি আমাদের বিন কোন আবেগ  মায়াতে না জড়িত হয়ে কর্ম করার ক্ষমতা ও শক্তি প্রদান করে এছাড়াও এই চক্রের ইত্যাদি বহু গুণ আছে ।

তাই মণিপূরক চক্রের সাধন খুবই কঠিন কিন্তু সবচেয়ে প্রয়োজন প্রতিটি মানুসের্ জীবনে। সাধক দের মতে কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তি না পাওয়া গেলে মানব জিবনে সুখ ও শান্তির অবভাব চির কাল থাকবে।

পূরণ অনুযাই মণিপূরক চক্রের বীজ মন্ত্র হল “রাম-RAM”, এই বীজ মন্ত্রটি নির্দিষ্ট সাধনার সাথে করা হলে এই চক্র ব্যালান্স করা সম্ভব।


অনাহতা চক্র:

Anahata chakra

চতুর্থ চক্র অনাহতা হল জীবনে প্রেম ও ক্রিয়েটিভ শক্তির কেন্দ্রবিন্দু, এই চক্রটি আমাদের বুকের একটু নিচের দিকে অবস্থিত।

এই অনাহতা চক্রের রঙ হল সবুজ, এবং এই চক্রটী আমদের সমস্থ ইমোশনের বহি-প্রকাশ থেকে শুরু করে শরীরীর সমস্থ হরমোন প্রোব্লেম ও ক্রিয়েটিভ সক্ষমতা উপর ব্যালান্স প্রদান করে।

অনাহতা চক্রের সাধন পৃথিবীর সমস্থ জিনিসের সাথে প্রেম ও বাকি না প্রকাশ পাওয়া ইমোশান জীবনে পুনরায় প্রতিস্থাপন করে। ঋষিরা বলেন মানুষ কে পশুর থাকে আলাদা করে এই ইমোশন ও প্রেম, বিন এই দুই জিনিসে মানব জীবন অসফল।  

এই চক্রের বীজ মন্ত্র হল “য়াম-YAM”, এই মন্ত্রটি নির্দিষ্ট রীতিতে সাধনা করলে আমদের এই চক্রকে ব্যালান্স করে।


বিশুদ্ধি চক্র:

Vishuddha chakra

পঞ্চম চক্র বিশুদ্ধি হল আমদের শরীরের বিশ বা নেগেটিভ এনার্জি ফিল্টার, এই চক্রটি আমাদের গলার মধ্য অবস্থিত।

বিশুদ্ধি চক্রের রং হল গাড় নীল বা ডীপ নীল, এই চক্রটি নেগেটিভ চিন্তা, নেগেটিভ বিচার বা মন্তব্য ও সর্ব প্রকার নেগেটিভ শক্তি থেকে নিজের অন্তরের পজিটিভ ক্ষমতা কে রক্ষা করে। এই চক্রটি ব্যালান্স থাকলে সর্ব দিক থকে প্রবল ক্ষমতা শালি হয়ে উঠবেন।

বিশুদ্ধি সাধন কোন সাধারণ সাধন না এর জন কঠিন সাধন প্রয়োজন। তবে এই যদি এই চক্র ব্যালান্স আমদের মানসিক ও শারিরীক দুই দিক থেকে প্রবল ক্ষমতা শালি করে তলে।

এই চক্রটির বীজ মন্ত্র “হ্যাম-HAM”। এই চক্রটির পূর্ণ ব্যালান্স এর জন্য বিশেষ সাধনা ও গভীর ধ্যান শক্তির প্রয়োজন।


অঞ্জনা চক্র:

ষষ্ঠ হল অঞ্জনা চক্র এবং এটি সনাতন ও বিনা আবেগ মিশ্রিত চেতনা ও শান্তির কেন্দ্রবিন্দু, এই চক্রটি দুই চোখের মধ্যবর্তি স্থানে অবস্থিত তাই চক্রকে ত্রিনেত্র বলে।

এছাড়া এই চক্রের রং সাদা বা রঙ হীন কারণ, সাদা এমন এক রঙ যার মধ্যে অন্য রঙের স্পর্শ নেই। এই চক্রটি আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত কে বিনা কোন আবেগ ও অনুভূতিতে জড়িত হয়ে সঠিক ভাবে বোঝার ক্ষমতা প্রদান করে।

ঋষিদের মতে অঞ্জনা চক্রের সাধন জীবনে প্রতিটি জিনিসের পরম সত্যতা মানুসের কাছে তুলে ধরে, সত্যর বোধ মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্ত পূর্ণ।

ও পূরণ মতে এই চক্রটির বীজ মন্ত্র “সাহ্যাম-SHAM” এই বীজ মন্ত্রটি এই চক্রটি ব্যালান্স আনতে সাহায্য করে।


Sahasrara chakra

সহস্ররার চক্র:

এই চক্রটি পরম জ্ঞান ও পরম আনন্দ শক্তির প্রধান উত্‍স । এই চক্রটি আমদের মাথার ব্রহ্ম তালু তে অবস্থিত।

ও এই চক্রের রঙ বেগুনি বর্ণের হয়।ঋষিদরে মতে মানুষ নিজের জীবনের শান্তিকে পরম লক্ষ ভাবে, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারনা। এই চক্রটি ব্যালান্স হলে জীবনে সর্ব সময় আমরা পরম জ্ঞান ও আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।          

পুরাণে বলা হয় এই চক্রের সাধন সবচেয়ে কঠিনও তম বিষয়, যতখন না বাকি সমস্থ চক্র ব্যালান্স হছে এই সহস্ররার চক্রে পৌছ্নর কোন পথ নেই এবং যোগেও এই সহস্ররার ব্যালান্স করার কোন সহজ উপায় বলা নেই।

কারণ এই চক্র হল সৃষ্ঠীর পরম জ্ঞানের দ্বার তাই এই ব্যালান্স কোন সহজ বিষয় নয়। এই চক্রের বীজ মন্ত্র “আউম-AUM” যার থেকেই সমস্থ জ্ঞানের সূচনা।


Chakra Meditation :

এই প্রধান 7 ক্ষমতা প্রদান করি চক্র গুলির মধ্যে সমতা সৃষ্ঠীর বিশেষ উপায় হল চক্র Meditation । এটি বিশেষ সাধনা প্রণালী যার সাহায্যে জীবন কে পূর্ণ রুপান্তরন ও পূর্ণ মানব জীবন প্রণালী সম্ভব।


আসা করি অপনদরে সঠিক ইনফরর্মেশন দিতে পড়েছি । যদি কেউ Online বা Offline এ meditation শিখতে চান তবে +91 9433-657-349 নাম্বার call করুন

সুস্থ থাকতে ও আমাদের সমস্থ নতুন article আপডেট পেতে উপরে বা নিচে থাকা Bell Icon ক্লিক করুন

৬টি মেডিটেশনের টিপস | 6 Meditation Tips In Bengali

আমরা জানি সঠিক Meditation বডির বেনিফিট প্রচুর। কিন্তু আমার হয়ত জানিনা কিছু ছোট ছোট অজানা জিনিসের জন্য মেডিটেশানের সমস্থ উপকার থেকে কিছুটা বঞ্চিত থেকে যাছি।

তাই আজ 6টি Meditation Tips বলব যার মধ্যমে সর্বাধিক উপকার পাবেন।       

1. বৈদিক মুদ্রা  Mudra:

মুদ্রা হল ভারতীয় ঋষিদের তৈরি সর্ব শ্রেষ্ঠ পধুতির মধ্যে একটি, যার অর্থ হাতের নির্দিষ্ট ভঙ্গি বা বিশেষ কোন রূপ।যা আমাদরে সারা শরীরের বিভিন্ন এনার্জি সিষ্টেম অ্যাক্টিভেট করে, এবং যা নিজের চেতনার ও উপলব্ধির এক অন্য স্তরে পৌছতে সাহায্য করে।

তাই ঋষিদের মতে Meditation এর জন্য “ধ্যান মুদ্রা”  “জ্ঞান মুদ্রা” সবচেয়ে বেশি উপযোগী।  

ধ্যান মুদ্রা:

ধ্যান অর্থ চেতনা ও মুদ্রা হাতের বিশেষ পধুটি। এক কথায় চেতনা ও বিকাশের নতুন স্তরের প্রবেশ পদ্ধতি ।

ধ্যান মুদ্রা পদ্ধতি :

ধ্যান মুদ্রা

প্রথমে আপনার দুটি হাত আপনার কোলের উপর রাখুন, নিচে বা-হাত ও তার উপর ডান হাত পরস্পর বিপরীতে।

তার পর দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি গুলি একে অপরের মাথায় মাথায় স্পর্শ করান যাতে হাতের তালুর সাথে টাচ না হয়ে থাকে। সম্পুর্ন এই ভঙ্গিমা কে বলা হয় ধ্যান মুদ্রা।


জ্ঞান মুদ্রা:

জ্ঞান অর্থ বুদ্ধি ও মুদ্রা অর্থ হাতের এক বিশেষ পদ্ধতি। এক কথায় জ্ঞান মুদ্রা হল নিজের অন্তরে জ্ঞানের সন্ধান।

জ্ঞান মুদ্রা পদ্ধতি :

https://www.youtube.com/watch?v=mgj1IvxSVMk
জ্ঞান মুদ্রা

প্রথমে দুটি হাত কে হাটুর উপর রাখুন, এবার হাতের তর্জনী দিযে বৃদ্ধা অঙ্গুলি মাথা স্পর্শ করান। ও বাকি মধ্যমা, অনমিকা ও কনিষ্ঠা কে সমান লম্বা ভাবে রাখুন যাতে কোনও জায়গা বেন্ড না হয়। সম্পুর্ন এই ভঙ্গিমা কে বলা হয় জ্ঞান মুদ্রা।  


2. যোগ আসন :

যোগের জন্মদাতা মহর্ষি পতঞ্জলি জীবনের প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট  আসন সৃষ্ঠী করেছিলেন। তার মধ্যে বিশেষ কিছু আসন Meditation সময় সবচেয়ে বেশি সমতা ও একাগ্রতা প্রদান করি এবং সে গুলি হল “সুখাসন”, “বজ্রাসন” ও “পদ্মাসন” ।  

এই আসন গুলি আপনার বডির নির্দিষ্ট দেহভঙ্গি বজায় রাখতে ও শরীরে এনার্জি ব্লক থাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

কারণ খারাপ বা ভুল দেহভঙ্গি বডির মধ্যে এনার্জি ফ্লো নষ্ঠ করে, তাই মেডিটেশান করার জন্য সঠিক আসন খুবই গুরুত্ত পূর্ণ।

বজ্রাসন পদ্ধতি:

বজ্রাসন

প্রথমে একটি সমতল যায়গা খুজে নরমাল ভাবে বসুন, তার পর হাটুর উপর ভর দিয়ে দাড়ান। এবার দুটি পা পিছনে মুরে এক সাথে গাযে গায়ে ঠেকান ও আস্তে আস্তে পায়ের উপর বসুন সোজা হয়ে।

মারুদণ্ড সোজা রাখুন ও হাত দুটি হাটুতে বা নমস্কার ভঙ্গিতে বুকের কাছে রাখুন। এবার গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।


পদ্মাসন পদ্ধতি :

পদ্মাসন

প্রথমে শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন ও এবার বাঁ পা হাঁটু থেকে ভেঙে ডান থাই এর উপর এবং ডান পা একইভাবে বাঁ থাই উপর রাখুন।

যতটা সম্ভব ততটা করুন প্রথমে জোর করে কোন কিছু করার দরকার নেই। এবার হাত দুটো চিৎ করে অথবা ধ্যান করার ভঙ্গিতে দু’হাঁটুর উপর রাখুন।


সুখাসন পদ্ধতি:

সুখাসন

প্রথমে শিরদাঁড়া সোজা করে নরমাল ভাবে বসুন, ও নিজের হাত দুটি নিজের দুই হাটুর উপর রাখুন। মাথা যেন সামান্য উপরের দিকে থাকে। এবং গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।


3. নাডি শোধন প্রাণায়াম :

এই প্রাণায়াম উদ্দেশ্য আমাদের শরীরে মধ্যে থাকা ৭২,০০০ হাজার নাড়ির বা জীবন শক্তির প্রবাহ নালিকর মধ্যে সমতা সৃষ্ঠী করে।এই শোধন প্রক্রিয়ার হল দুটি প্রধান নাড়ির উপর সমতা আনার প্রচেষ্ঠা। যাতে আমদের শরীরের ভিন্ন শক্তির মধ্যে ব্যালান্স বজায় থাকে।

মেডিটেশানের সময় সমস্থ এনার্জি শরীরের মধ্যে পূর্ন সমতায় কাজ করলে তবেই আমরা সঠিক এফেক্ট পাবো।

নাড়ি শোধন প্রণালী : 

https://www.youtube.com/watch?v=LqBorxxdNlI

প্রথমে একটি সমতল যায়গাতে বসুন, সবচেয়ে উপকার যদি আপনি পদ্মাসনে বসতে পারেন। মেরুদণ্ড সোজা করে মাথা কিছুটা উপরে তুলে গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

আপনার বা হাত আপনার কোলের উপর রাখুন, তার পর ডান হাত দিয়ে নাকের ডান দিক বন্ধ করুন খুব জোরে নয় আস্তে যাতে নিশ্বাস না নিতে পারেন।

তার পর বা দিক দিয়ে গভীর নিশ্বাস নিন ৫ সেকেন্ড হোল্ড করুন। তার পর ডান হাত টা বা দিকের নাকের উপর আনুন ও ডান নাক দিয়ে নিশ্বাস ছারুন।এবার ডান নাক দিয়ে নিশ্বাস নিন আবার হাত পাল্টে বা দিক দিয়ে নিশ্বাস ছারুন।


4. মেডিটেশানের দিক (Direction):

ভারতের সমস্থ শাস্ত্রে দিক খুবই গুরুত্ত পূর্ণ ভূমিকা পালন করে তবে অনেকেই এই বেপার সম্বন্ধে জানেন না, কারণ নির্দিস্থ এক একটি দিক নির্দিস্থ কিছু বিশেষ শক্তির প্রতিনিধিত্ত করে।

তার মধ্যে Meditation এর জন্য পূর্ব দিন হল উপকারী কারণ পূর্ব দিক্ সূর্য বা জীবন শক্তির সূচনার প্রতীক।

ঋষিরা বলেছেন এই পূর্ব দিকে মুখ করে যদি আপনি meditation করেন তবে আপনি প্রচুর পরিমনে পজিটিভ এনার্জি পাবেন যা আমাদের জীবনে খুবই প্র্য়োজন। এছাড়া পূর্ব দিক মুখ করে ধ্যান করলে তার গভীরতা ও অনুভব সবচেয়ে প্রবল হয়।   


5. মেডিটেশানের সময় Time:  

এই মহাবিশের সবচেয়ে শক্তিশালী বস্তু হল সময় যা আমাদরে জীবনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ভারতের মুনি ঋষিরা প্রতিটিই কাজের জন্য বিশেষ সমযে ভাগ করেছেন। মেডিটেশান এর জন্য সঠিক সময় বলা হয়েছে ব্রহ্ম মুহূর্ত বা সূর্য উদয়ের আগের মুহূর্ত।

এই সময় প্রকৃতি মধ্যে বিশেষ কিছু পরিবর্তণ হয় যার ফলে আমাদের বডির প্রকৃতি থাকে পজিটিভ চার্জ সংগ্রহ করতে পারে। এই সময় মেডিটেশান করলে আমরা ধ্যানের গভীর খুব সহজই প্রবেশ করতে পারি।  

6. খাদ্য অভ্যাস:

সবসময় মনে রাখা উচিত মেডিটেশন খালি পেটে করা উচিত বিশেষত সকালে।যদি খাবার পর meditation করা হয় তবে মাইন্ড ও বডির নিজের মধে তাল মেলর সমস্যা সৃষ্ঠী হয়। তাই সবসময় খালি পেটে মেডিটেশান করা উচিত।


সুস্থ থাকতে ও আমাদের সমস্থ নতুন article আপডেট পেতে উপরে বা নিচে থাকা Bell Icon ক্লিক করুন

যদি আপনার অনলাইন বা অফলাইনে meditation শিখতে চান তবে দেরি না করে এখুনি ফোন করুন এই নাম্বারে – +91-9433-657-349

মেডিটেশনের ৬টি প্রচলিত প্রশ্ন | 6 Common Questions of meditation in bengali

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি আজ জানতে পারবেন Meditation নিয়ে ৬টি অজানা তথ্য সম্পর্কে এবং সেগুলোর পাবেন যথাযথ উত্তর | দেখুন বর্তমান যুগে মেডিটেশন কথাটা তো সবাই শুনেছে | কিন্তু এই সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক কোনো ধারণা নেই |

কিন্তু এই নিয়ে চিন্তা করার আর আপনাকে অন্তত দরকার নেই কারণ এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে আপনি আজ Meditation সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে যাবেন | তা চলুন সেগুলো তবে জেনে নেওয়া যাক |

প্রশ্ন নাম্বার এক: মেডিটেশন করার অর্থ কি নিজের মস্তিষ্কের চিন্তা করার শক্তিকে পুরোপুরি Blank করে দেওয়া?

এই প্রশ্নটা সবথেকে জনপ্রিয় | আজও অনেক মানুষ মনে করেন মেডিটেশন করলে নাকি তাদের চিন্তা একদম গায়েব হয়ে যাবে | মস্তিস্ক পুরোপুরি blank আর শান্ত হয়ে যাবে | দেখুন শেষের ধারণাটা তো ঠিক, এটা সত্যিই আপনার মস্তিস্ককে তথা মনকে শান্ত করে দেবে |

কিন্তু মস্তিষ্কের মধ্যেকার চিন্তা করার শক্তিকে কখনই blank করে দেবেনা | এরকম সত্যিই যদি আপনি করতে চান, তাহলে আপনি কোমায় যাওয়ার ভাবনায় মেতে আছেন | কারণ এটা একমাত্র সেই অবস্থাতেই সম্ভব | আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করার ধরন মোটেই এরকম নয় |

আপনি যা কিছুই practice করুন না কেন আপনার মস্তিষ্কে 60 থেকে 70 হাজার চিন্তা প্রতিদিন আসবেই | এটাকে কেউই আটকাতে পারবেনা | 

মেডিটেশনের কাজ হলো আপনার অতিরিক্ত চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ওয়ার্ক লাইফের সাথে আপনার স্বাভবিক জীবনকে ব্যালান্স করানোর চেষ্টা করা |

আপনার জীবনে সকল অশান্তির মূল কারণ হলো আপনার অতিরিক্ত চিন্তা নাকি অন্য কেউ | সবাই একে অপরকে নিয়ে বা নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে চলেছে বলেই প্রত্যেকের জীবনে এত স্ট্রেস বা অশান্তি |

Balance লাইফস্টাইল আপনার জীবন থেকে এইসব স্ট্রেস বা অশান্তি দূর করে দিতে পারে | শুধু এটাকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজন প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিটের মেডিটেশন |


প্রশ্ন নাম্বার দুই: মেডিটেশন চোখ খুলে করা উচিত নাকি চোখ বন্ধ করে?

এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দুটোই | আপনি চোখ খুলেও meditation করতে পারেন আবার চোখ বন্ধ করেও মেডিটেশন করতে পারেন | choice আপনার উপর |

কিন্তু আমি মনে করি মেডিটেশন সবার প্রথমে চোখ বন্ধ করে practice করা উচিত | কারণ আপনি যদি প্রথমেই চোখ খুলে মেডিটেশন করা শুরু করেন তাহল আপনি খুব সহজে আপনার মনকে ফোকাস করতে পারবেন না | যারফলে আসবে বিরক্তির ভাব |

মেডিটেশন করার অর্থ কিন্তু সর্বদা ফোকাস থাকা সেটা চোখ খুলেই হোক কিংবা চোখ বন্ধ করে | কিন্তু এই ফোকাসের লেভেলকে বাড়ানোর জন্য আপনার অনেকদিনের প্র্যাকটিসের প্রয়োজন, মিনিমাম তো ৩ মাসের প্রয়োজনই প্রয়োজন |

যখন আপনি automatically চোখ বন্ধ অবস্থায় মেডিটেশনের মাধ্যমে নিজের ফোকাসকে একটা লেভেল পর্যন্ত বাড়িয়ে নেবেন | তখন আপনার পক্ষে যেকোনো অবস্থায় মেডিটেশন করা কোনো সমস্যাই হবেনা |

আপনি সর্বদা তখন ধ্যানের অবস্থাতেই থাকবেন অর্থাৎ সহজ কথায় যদি বলি আপনি একদম highly focused মানুষে পরিনত হয়ে যাবেন আর অবশ্যই হবেন ধৈর্য্যশীল ও শান্ত |


প্রশ্ন নাম্বার তিন: মেডিটেশন করার সঠিক জায়গা কোনটা?

Meditation করার সঠিক জায়গা যেকোনো হতে পারে কিন্তু এখানে শর্ত মাত্র একটাই সেই জায়গাটা অবশ্যই যেন একদম শান্ত অথবা নিরিবিলি হয় | যেখানে মানুষের অতিরিক্ত কোলাহল সেখানে মেডিটেশন না করাই ভালো কারণ অতিরিক্ত কোলাহলের মধ্যে মেডিটেশন করলে আপনি এর থেকে কোনো প্রকার আন্তরিক উপকার পাবেন না |

তাই এমন একটা জায়গা খুঁজুন যেটা আপনার মতে শান্ত অথবা নিরিবিলি | সেটা আপনার বাড়ির যেকোনো ঘরও হতে পারে বা  আশপাশের কোনো পার্ক বা মাঠও হতে পারে |


প্রশ্ন নাম্বার চার: কতক্ষণ ধরে আমাদের মেডিটেশন করা উচিত?

অনেকের মনের মধ্যেই এই প্রশ্নটা আসে যে, মেডিটেশন একজন মানুষ কতক্ষন ধরে করবে | একটা কথা জেনে রাখবেন, মেডিটেশন আপনি যতক্ষন ধরে করতে পারবেন ততই আপনার পক্ষে ভালো | কিন্তু অনেক্ষন ধরে না করতে পারলে অন্তত ১৫ মিনিট করাই উচিত | এর থেকে কম সময়ের মধ্যে শেষ করলে আপনি এর থেকে বেনিফিট অনেক দেড়িতে পাবেন |

কিন্তু একটা কথাই বলে রাখি, আপনি যদি এর আগে কোনোদিন মেডিটেশন না করেন তাহলে জোর করে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করার কোনো দরকার নেই | আপনি আগে কিছুদিন ৫ মিনিট করে রোজ মেডিটেশন করুন তারপর ধীরে ধীরে সেই ৫ মিনিটকে ৭ মিনিট, তারপর ১০ মিনিট ও তারও পর ১৫ মিনিটে নিয়ে যান |

এর যখন আপনার মনে হবে, ১৫ মিনিট করে মেডিটেশন আপনি অনায়াসে করতে পারছেন তখন আবার নিজের এই প্র্যাকটিসের সময়কে বাড়ান |

আর হ্যাঁ এরজন্য অবশ্যই মোবাইলে টাইমারের সাহায্য নিন |


প্রশ্ন নাম্বার পাঁচ:  আমি কি কোনো ধরনের হালকা music চালিয়ে meditation করতে পারি? আর এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আমি কোণ ধরনের music চালাবো?

আপনি হয়তো এটা শুনেছেন যে music আমাদেরকে ভিতর থেকে heal করতে পারে | একটা ভালো ধরনের music এর মধ্যে কিন্তু সত্যিই সেই ক্ষমতা থাকে |

মেডিটেশন করার সময়ে আপনি কিন্তু music এর ব্যবহার করতে পারেন | Youtube-এ আপনি সার্চ করলেই বিভিন্ন ধরনের মেডিটেশনের জন্য music পেয়ে যাবেন | এছাড়াও আপনি white noise music শোনার মাধ্যমেও মেডিটেশন করতে পারেন |

এবার আপনি যদি white noise কথাটা জীবনে প্রথম শুনে থাকেন তাহলে আপনাকে এর অর্থ সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিই | white noise হচ্ছে এমন ধরনের সাউন্ড যেটা প্রাকৃতিক | উদাহরণ স্বরূপ: ঝিজিপোকার ডাক, নদী বা সমুদ্রের কলতান কিংবা পাখির ডাক ইত্যাদি |

আর youtube-এ সার্চ করলেই আপনি বিভিন্ন ধরনের white noise music পেয়ে যাবেন | আমার পার্সোনাল মত অনুযায়ী মেডিটেশন music শুনে মেডিটেশন করার চেয়ে white noise music শুনে মেডিটেশন করা অনেক ভালো |

যেহেতু এগুলো এক একটা ন্যাচারাল সাউন্ড তাই আপনার মস্তিস্ক এক্ষেত্রে ভীষনভাবে distracted হবেনা | কিছুক্ষণ এই ন্যাচারাল সাউন্ডের মাধ্যমে মেডিটেশন করলে আপনার মস্তিস্ক এমনিতেই শান্ত আর focused হয়ে যাবে |

কিন্তু আমার কথা মানার আগে সবার প্রথম নিজে আগে যাচাই করে নেবেন | আপনার কোন musicটা বেশি ভালো লাগছে মেডিটেশন  করার সময় |

আরেকটা কথা বলে রাখি, সর্বদা music চালিয়েই কিন্তু আপনি কখনই মেডিটেশন করবেন না | সপ্তাহে এক দুবার ঠিক আছে কিন্তু প্রতিদিন করা ঠিক নয় | নরমালভাবে মেডিটেশন করারই সর্বদা চেষ্টা করো |


সবশেষে প্রশ্ন নাম্বার ছয়: Meditation করার সঠিক বয়স কত? এবং বাচ্চারাও কি মেডিটেশন করতে পারে?

মেডিটেশন করার নির্দিষ্ট কোনো বয়স হয়না | এটা করা কেউ দশ বছর বয়স থেকে শুরু করতে পারে আবার ষাট থেকে সত্তর বছর বয়সে গিয়েও করতে পারে | এক্ষেত্রেও choice একদম তার |

বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজ আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে এই ভুল ধারণাটা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, মেডিটেশন তারাই করে যারা অনেক বয়স্ক হয় |

যেই কথাটা কিন্তু একদমই সত্যি নয় |

শুনুন মেডিটেশন হচ্ছে একধরনের মাইন্ড ট্রেনিং যেটা সকলেরই সবার আগে করা প্রয়োজন কারন আমি এই লেখার প্রথমেই বলেছি আমাদের জীবনে যা কিছু সমস্যা হচ্ছে তার মূল উৎস হচ্ছে আমাদের মন আর আমাদের অনিয়ন্ত্রিত চিন্তা |

তাই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অতিরিক্ত চিন্তাকেও নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রাচীন পদ্ধতি হলো এই মেডিটেশন |

এবার, বাচ্চাদেরকে মেডিটেশনকে করানোর advice হিসাবে আমি বলতে পারি যে, সাত বছরের নীচে কোনো বাচ্চাকেই মেডিটেশন করানো উচিত নয় কারণ তার আগে পর্যন্ত তাদের মানসিক বিকাশ তেমন একটা হয়না |

কমপক্ষে সাত বছর বয়স যদি না হয় আপনার সন্তানের, তাহলে তাকে কখনোই জোর করে মেডিটেশন করানোর চেষ্টা করবেন না | মেডিটেশন কিন্তু জোর করে করার জিনিস নয় বা জোর করে করানোর জিনিস নয় এটা সর্বদা মাথায় রাখবেন |


আশা করি মেডিটেশন নিয়ে আপনার সমস্ত doubt আমরা clear করতে পেরেছি | লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই এটিকে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানান আপনার মতামত |


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

Exit mobile version
0