মেডিটেশনের ১৩টি বৈজ্ঞানিক উপকারিতা | Scientific-Benefits-of-Meditation

মেডিটেশন বা ধ্যানের ১৪টি বৈজ্ঞানিক উপকারিতা:

মেডিটেশনের মধ্যে কিছু আশ্চর্যজনক উপকারিতা বিদ্যমান যা একটি সুস্থ, সুখী ও সার্থক জীবনের প্রয়োজনীয় অঙ্গ এবং একই সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রভাব বিস্তারকারী ক্রিয়া।  বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া হল:

1) মস্তিষ্কের কাঠামোগত পরিবর্তন:

  • গ্রে ম্যাটার বৃদ্ধি: নিয়মিত ধ্যান মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারের ঘনত্ব বাড়ায়, যা জ্ঞান, স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত। এবং একই সাথে  ধ্যান মস্তিষ্ক থেকে প্রাপ্ত নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (BDNF) এর উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। (BDNF) বিডিএনএফ একটি প্রোটিন যা নতুন নিউরনের বৃদ্ধি এবং পুরাতন নিউরন সঠিক সংযোগে সহায়তা করে। 
  •  অ্যামিগডালার আকার হ্রাস: অ্যামিগডালা মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের একটি মূল অংশ, যা আবেগ প্রক্রিয়াকরণের জন্য দায়ী, বিশেষ করে ভয় ।  ধ্যান অ্যামিগডালার আকার এবং প্রতিক্রিয়াশীলতাকমায়, যা উদ্বেগ ও ভয় প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
  • প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স শক্তিশালীকরণ: মেডিটেশন প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (PFC) এর জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা ও আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত ও যা ধ্যানের মাধ্যমে উন্নত হয়

2) হরমোন ভারসাম্য:

  • কর্টিসল হ্রাস: ধ্যান স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমায়, যা দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
  • মেলাটোনিন বৃদ্ধি: ধ্যান মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়ায়, যা ভাল ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয়।
  • সেরোটোনিন নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ধ্যান সেরোটোনিন স্তর নিয়ন্ত্রণ করে, যা মেজাজ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

3) জেনেটিক প্রভাব:

  •  টেলোমিয়ার সংরক্ষণ: গবেষণায় দেখা গেছে যে ধ্যান টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধীর করতে পারে।
  • জিন এক্সপ্রেশন পরিবর্তন: ধ্যান কিছু জিনের এক্সপ্রেশন পরিবর্তন করতে পারে, যা ইনফ্লামেশন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

4) কার্ডিওভাসকুলার উপকারিতা:

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ধ্যান রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
  •  হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ: ধ্যান হৃদস্পন্দনের হার কমায় ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

5) ইমিউন সিস্টেমের উপকারিতা:

  • NK সেল বৃদ্ধি (Natural killer cells) : ধ্যান ন্যাচারাল কিলার (NK) সেলের সংখ্যা ও কার্যকারিতা বাড়ায়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় শরীরের সংক্রামিত কোষ এবং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস কে ধ্বংস করে।  
  •  ইনফ্লামেটরি মার্কার হ্রাস: নিয়মিত ধ্যান C-reactive protein সহ বিভিন্ন ইনফ্লামেটরি মার্কারের মাত্রা কমায়  যা সুস্থ শরীরের জন্য উপযোগী ।

6) ব্যথা নিয়ন্ত্রণ:

  • ব্যথার অনুভূতি পরিবর্তন: ধ্যান মস্তিষ্কের ব্যথা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলির কার্যকলাপ পরিবর্তন করে, যা ব্যথার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।
  • এন্ডোরফিন নির্গমন: ধ্যান শরীরে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক এন্ডোরফিনের নির্গমন বাড়ায়। যা  আনন্দ, সুস্থতার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং ব্যথা উপলব্ধি হ্রাস করে।

7) কগনিটিভ ফাংশন উন্নয়ন:

  • কার্যকরী স্মৃতি বৃদ্ধি: গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ধ্যান কার্যকরী স্মৃতি ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • মস্তিষ্কের তরঙ্গ পরিবর্তন: ধ্যান আলফা ও থিটা তরঙ্গের কার্যকলাপ বাড়ায়, যা শান্তি ও একাগ্রতার সাথে সম্পর্কিত।

8) বয়স-সম্পর্কিত অবক্ষয় প্রতিরোধ:

  • নিউরোপ্লাস্টিসিটি বৃদ্ধি: ধ্যান মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটি বাড়ায়, যা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • কগনিটিভ ডিক্লাইন হ্রাস: নিয়মিত ধ্যান বয়স-সম্পর্কিত কগনিটিভ অবক্ষয়ের গতি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

9) একাগ্রতা ও মনোযোগের বৃদ্ধি: 

ধ্যান আপনার মস্তিষ্কের সেই অংশগুলিকে শক্তিশালী করে যেগুলি একাগ্রতা ও মনোযোগের সাথে সম্পর্কিত। এর ফলে:

  • মনোযোগ বৃদ্ধি : মেডিটেশন আপনার মন কে শান্ত করে তুলতে সাহায্য করে, শরীরের স্ট্রেস হরমোন ও দুশ্চিন্তা বা অস্বাভাবিক উত্তেজনা এবং বিরক্তি মনোভাব কমাতে সাহায্য করে, ফলে আপনি যে কোন কাজে সহজ ও দীর্ঘ মেয়াদি মননিবেশ করতে পারেন। ছাত্র ছাত্রী দের জন্য মেডিটেশন অভ্যাস বিশেষভাবে উপকারী, কারণ এটি তথ্য গ্রহণ ও ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • বর্তমান মুহূর্তে থাকা: ধ্যান আপনাকে ‘মাইন্ডফুলনেস’ বা সচেতন উপস্থিতি অনুশীলন করতে শেখায়, যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পূর্ণভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করে।

10) শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব:

 ধ্যান শুধু মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব:

  • হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: নিয়মিত ধ্যান রক্তচাপ কমায় এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং Heart Rate Variability উন্নত করে, (HRV) হল হৃদস্পন্দনের মধ্যে সময়ের ব্যবধানের তারতম্যের একটি পরিমাপ, যা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার হৃদয়ের ক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে, উচ্চতর HRV ভাল কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের সাথে যুক্ত, মেডিটেশন আমাদের HVR উন্নত করতে সাহায্য করে
  • ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালীকরণ: গবেষণায় দেখা গেছে যে মেডিটেশন বা ধ্যান শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে , যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং শরীরের কোষগুলিকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফলে শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেমে  তৈরিতে সাহায্য করে।
  • ঘুমের মান বৃদ্ধি: মেডিটেশন শরীরের রিলাক্স করতে করতে সাহায্য করে, প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের ব্যালান্স করতে সাহায্য করে যা আমাদের বিশ্রাম এবং হজমের জন্য দায়ী। 

11) আত্ম-উপলব্ধি ও ব্যক্তিগত বিকাশ:

 নিয়মিত ধ্যান আপনাকে নিজেকে গভীরভাবে জানতে ও বুঝতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে:

  • আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি: আপনি নিজের চিন্তা, আবেগ ও আচরণের প্যাটার্ন সম্পর্কে আরও সচেতন করতে সাহায্য করে।
  • আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: নিজের সম্পর্কে গভীর বোধ আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
  • সৃজনশীলতার বিকাশ: ধ্যান আপনার মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশকে উদ্দীপিত করে, যা নতুন ধারণা ও সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

13) জীবনের গুণগত মান উন্নয়ন:

ধ্যানের সব উপকারিতা একত্রিত হয়ে আপনার সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করে:

  • সুখ ও সন্তোষ বৃদ্ধি: ধ্যান আপনাকে জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করতে শেখায়।
  • তাৎপর্যপূর্ণ জীবন: আপনি জীবনের গভীর অর্থ ও উদ্দেশ্য খুঁজে পাবেন।
  • ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন: কাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন।

14)মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: 

ধ্যান বা মেডিটেশন আপনার মনকে শান্ত, স্থির ও সন্তুলিত করতে অত্যন্ত কার্যকর, এটি উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমানোর একটি প্রমাণিত পদ্ধতি। আধুনিক জীবনের অবিরাম চাপ ও দ্রুত গতির মধ্যে, ধ্যান একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।

  • উদ্বেগ হ্রাস: নিয়মিত ধ্যান আপনার মস্তিষ্কের সেই অংশগুলিকে শান্ত করে যেগুলি উদ্বেগের সাথে যুক্ত, যার ফলে আপনি দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জগুলি আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারেন।
  • অবসাদ দূরীকরণ: গবেষণায় দেখা গেছে যে ধ্যান সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো ‘সুখের হরমোন’ উৎপাদন বাড়ায়, যা অবসাদের লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করে।
  • মানসিক স্থিতিস্থাপকতা: নিয়মিত ধ্যান আপনার মানসিক শক্তি বাড়ায়, যা আপনাকে জীবনের নানা চড়াই-উতরাই আরও সহজে মোকাবেলা করতে সাহায্য করে।

এই বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলি প্রমাণ করে যে ধ্যান শুধুমাত্র একটি আধ্যাত্মিক অনুশীলন নয়, বরং এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ধ্যান অনুশীলনের মাধ্যমে, আমরা আমাদের জীবনের সামগ্রিক মান উন্নত করতে পারি এবং একটি সুস্থ, সুখী ও দীর্ঘ জীবন উপভোগ করতে পারি।

আপনি কি এই বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলি জানতেন? আপনার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় এই উপকারিতাগুলির কোনটি অনুভব করেছেন? আপনার মূল্যবান মতামত ও অভিজ্ঞতা কমেন্টে শেয়ার করুন।

জেনেনিন কিভাবে মেডিটেশন করবেন | How To Meditate In Bengali

মেডিটেশন করার পদ্ধতি:  

যে কোন ধরনের মেডিটেশন করার বা শেখার ক্ষেত্রে 6টি নির্দিষ্ট ধাপ সম্পুর্ন করা অবশই প্রয়োজন। যা সম্পুর্ন রুপে ধাপে ধাপে নিচে দেওয়া রহিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

1. শারিরীক স্থিতি:

মেডিটেশনের প্রথম ধাপ হল হল শারিরীক স্থিতির সঠিক মূল্যায়ন। কারণ যোগ গুরু ও সিদ্ধ মুনি ঋষিরা বলছেন ধ্যান প্রক্রিয়া কোন সাধারন ক্রিয়া নয়।

প্রতিটি কাজের মত ধ্যান সাধনার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা জরুরী। ধ্যান ক্রিয়ার জন্য উত্তম অবস্থা হল প্রথম অহার পূর্বের অবস্থায় বা খালি পেটে থাকা অবস্থা।

কারণ ভরা পেটে শরীর শুধু মাত্র খাদ্য হজম স্থিতি কে প্রাধান্য দেয় যা আমাদের বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শারিরীক পুষ্ঠী সাধন করে। তাই মেডিটেশন শুরু করার আগে নিজের শারিরীক স্থিতির কথা ভাবা অতি গুরুত পূর্ণ।

2. সঠিক আসন:

দ্বিতীয় ধাপ হল সঠিক আসন দ্বারা ধ্যান প্রক্রিয়া অবলম্বন করা। যার দ্বারা মেরুদণ্ড সোজা ও নির্দিষ্ট স্থিতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।তাই মেডিটেশনের জন্য কিছু বিশেষ আসন গ্রহণ করা আবশ্যক হল পদ্মাসন, সুখাসন ও বজ্রাসন ইত্যাদি।  

যা মেডিটেশন বা ধ্যান প্রক্রিয়া নিজের সম্পুর্ন রূপে শরীর কে সমর্পণ করতে সাহায্য করে ও নির্দিষ্ট আসনে মনের অস্থিরতা স্থির হয়ে ওঠে।

কারণ যোগ গুরু ও ঋষিদের মতে ধ্যানের অনুসরণের জন্য নির্দিষ্ট আসন অবশই প্রয়োজন।   

3. শ্বাস গ্রহণ প্রণালী:

তৃতীয় হল শ্বাস প্রণালী, মেডিটেশন করার সময় সম্পুর্ন গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন, কিছু ক্ষন হোল্ড করুন ও আস্তে আস্তে ছারুন যাতে সম্পুর্ন chest ও lungs engage হয়।    

কারণ ভিন্ন ভিন্ন নিশ্বাস প্রণালী শরীরের বিভিন্ন এনার্জি সিষ্টেম কে অ্যাক্টিভ করে যাতে মন খুব সহজে শান্ত ও শরীর এবং মনের সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে।

4. সঠিক মুদ্রা বা হাতের অবস্থান ভঙ্গি :

চতুর্থ ধাপ হল সঠিক মুদ্রা ধারন করা, যা ধ্যান বা মেডিটেশন প্রক্রিয়ায়  মন সংযোগে সাহায্য করে, এবং শরীরের মধ্যে ধ্যান প্রক্রিয়া অবলম্বনের সঠিক স্থিতি প্রদানে সাহায্য করে।

বিধি গত নিয়ন অনুসারে মুদ্রার মধ্যে ধ্যান মুদ্রা ও জ্ঞান মুদ্রা অন্যতম, এছাড়াও আছে বায়ু মুদ্রা, প্রাণ মুদ্রা ও সূর্য মুদ্রা। প্রতিটি মুদ্রাই নির্দিষ্ট গুণ সম্পন্ন যা ধ্যান প্রক্রিয়ায় অসামান্য ভূমিকা পালন করে।

ধ্যান মুদ্রা প্রক্রিয়া:

প্রথমে নিজের ডান হাত কোলের উপর রেখে তার উপর নিজের বাম হাত লম্বা লম্বি ভাবে রাখুন দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি মাথা এক অপরের সাথে যুক্ত করলে ধ্যান মুদ্রা তৈরি হবে।

জ্ঞান মুদ্রা প্রক্রিয়া:

প্রথমে নিজের দুটি হাত দুটি পায়ের হাটুর উপর রাখুন্, এর পর হাতের সমস্থ আঙুল লম্বা লম্বি ভাবে রেখে শুধু বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী এক সাথে যুক্ত করলে তৈরি হয় জ্ঞান মুদ্রা।    

প্রতিটি মুদ্রাই নির্দিষ্ট কিছু গুণ সম্পন্ন যা ধ্যান প্রক্রিয়ায় অসামান্য ভূমিকা পালন করে।

5. মন সমর্পণ:

পঞ্চম ধাপ হল পূর্ণ মন সমর্পণ যার দ্বারা একমাত্র ধ্যান মগ্ন হওয়া প্রক্রিয়া  সম্ভব, বীনা মন সমর্পণে মেডিটেশন করা কোন ভাবেই সম্ভব না।

মন্ সমর্পণ অর্থ হল মন কে পর্ণ রূপে একটি মাত্র কাজে সম্পুর্ন রূপে কেন্দৃভূত করা ও পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে সমগ্র প্রক্রিয়া গ্রহণ করা।

এক মাত্র মনে পূর্ণ একাগ্রতা ও স্থিরতা দ্বারা মন সমর্পণ সম্ভব। এবং অবাক করা বিষয় হল মেডিটেশন আগে 2টি ধাপ অর্থাত্‍ সঠিক আসন ও সঠিক শ্বাস প্রণালী আমাদের মন সমর্পণ অনেক খানি  সাহায্য করে।   

6. মেডিটেশন বা সাধনা প্রণালী অনুসরণ:

ষষ্ঠ ধাপ হল নির্দিষ্ট সাধনা প্রণালী অনুসরণ, অর্থাত আমরা কোন প্রকারের মেডিটেশন ধরনের প্রক্রিয়া সম্পুর্ন করছি।

যেমন হল Guided Meditation, Gratitude meditation, Body Scan meditation, Yoga Nidra meditation ইত্যাদি হল প্রথম কিছু সহজ ধরনের মেডিটেশন যা সবাই খুব সহজে অভ্যাস করতে পারেন।

আর পড়ুন: মেডিটেশনের সম্পর্কে বিশেষ কিছু প্রশ্ন উত্তর।


মেডিটেশন বা ধ্যান প্রণালীর গুরুত্ব পূর্ণ নিয়ম বিধি (Important Rules for meditation) :

  1.    মেডিটেশন করার সময় মুখ সর্বদা পূর্ব দিকে থাকা উচিত।
  2.   মুখ ধ্যান বা মেডিটেশন সময় মেরুদণ্ড সোজা ও মাথা সামান্য  পরের দিকে থাকে।
  3. ভরা পিটে কখনো মেডিটেশন করা উচিত না।
  4. শুয়ে শুয়ে কখনো মেডিটেশন বা ধ্যান অভ্যাস করা উচিত্‍ না।
  5. চারি দিক বদ্ধ স্থানে কখনো ধ্যান অভ্যাস করা উচিত না।

আর পড়ুন: মেডিটেশনের উপকারিতা

আর পড়ুন প্রাথমিক অবস্থায করা 10টি মেডিটেশন সম্পর্কিত ভুল অভ্যাস।  

আসা করছি আপনাদের পোস্টটি ভাল লেগেছে, আপনার কোন মতা মত থাকলে তা আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান॥ আর মেডিটেশন সম্পর্কিত আরও অজানা তথ্য জানার জন্য উপরে থাকা Bell Icon ক্লিক করুন।


আপনার যদি অনলাইন মেডিটেশন শিখতে চান তবে আপনার ফোন করতে পারেন এই নম্বরে + 91 9433 657 349 বা আমাদের মেল করতে পারেন Contact@wisdomcue.com.

জেনেনিন মেডিটেশন করার সঠিক ১০টি নিয়ম | 10 Important Rules for meditation in Bengali

Meditation বা ধ্যান খুবই প্রচলিত অভ্যাস, তবে কিছু প্রাথমিক ভুলের জন্য বেশির ভাগ মানুষ মেডিটেশন করলেও এর উপকার থেকে সম্পুর্ন বঞ্চিত । তাই আজই জেনে নেব মেডিটেশন করার ১০টি নিয়ম যা থেকে ছোট ছোট না জানা ভুলগুলিকে কে শুধরে নেওয়া সম্ভব

1. প্রস্তুতি পদ্ধতি:

প্রথম নিয়ম প্রস্তুতি পদ্ধতির ক্ষেতে বা মেডিটেশন শুরু করার আগে নিজেকে রিল্যাক্স বা সঠিক স্থিতিতে আসার সময় দেওয়া অতি প্রয়োজন।

এর কারণ অস্থির মন আপনাকে ধীরে ধীরে অধৈর্য ও মন অতি চঞ্চল করে তুলবে প্রতি মিনিটে, এ অবস্থায় ধ্যান প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও পূর্ণ শান্তি, সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব না।

তাই অবশই নিজের বডি রিল্যাক্স ও ব্যালান্স করার প্রতি সবার প্রথমে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। যার দ্বারা সহজে বিনা কোন সমস্যা মন স্থির বা কেন্দৃভূত করা সম্ভব।

নিজের বডিকে রিল্যাক্স ও ব্যালান্স করার সবচেয়ে সরল সমাধান হল গভীর ভাবে শ্বাস গ্রহণ করা

2. বিশ্বাস:

ধ্যান বা মেডিটেশন থেকে শুরু করে সমস্থ রকমের সাধনা ও আধ্যাতীক পদ্ধতির ভীত হল বিশ্বাস। কারণ আমাদের সম্পুর্ন বিশ্বাস ছাড়া কোন কাজের পূর্ণতা অর্জন কোন প্রকারে সম্ভব না।

এবং ধ্যান প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে মানুষ যে বড় ভুলটি করেন তা হল অবিশ্বাস সাথে রোজ মেডিটেশন প্র্যাক্টিস করা, যা আসলে করা আর না করা সমান।

তাই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হল যখনই ধ্যান বা মেডিটেশন প্র্যাক্টিস শুরু করুন না কেন সম্পুর্ন বিশ্বাস ও ভরসার দ্বারাই করুন , তবেই ধ্যান প্রক্রিয়া স্বয়ং সম্পুর্ন রূপে সফল হবে এবং তার সম্পুর্ন উপকার পাওয়া সম্ভব হবে ।

3. সঠিক ভাষার প্রক্রিয়া:

ধ্যান বা মেডিটেশন বেশির ভাগ মানুষ প্রথম যে বড় ভুলটি হল নিজের দৈনন্দিন বলার ভাষা বাংলা কে ছেরে অন্য ভাষায় মেডিটেশন প্রক্রিয়া অভ্যাস শুরু করা।

অন্য ভাষার প্রক্রিয়াতে ভুল কিছু নেই, সমস্যা হল মস্তিষ্কের চিন্তা ও গ্রহণ শক্তির উপর যা নিজের ভাষা কে যত খুব সহজে গ্রহণ করতে সাহায্য করে।

এটি অন্য ভাষার প্রক্রিয়ার সাথে অতটা সহজ হয়না কারণ মস্তিষ্ক সহজে তাল মিলিয়ে উঠতে পারে না, যা ধ্যান কেন্দ্রে বাধা হয়ে দাড়ায়।  তাই সব সময় যে ভাষা আপনি ভাল বোঝেন সেই ভাষাতে মেডিটেশন কোর্স শিখুন।  

4. সময় সীমা:

মেডিটেশন প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট সময় সীমা নেই, কারণ সম্পুর্ন প্রক্রিয়াটি আপনার উপলব্ধির উপর নির্ভরশীল।সবার উপলব্ধি মাত্রা ও উপলব্ধির গভীরতা সমান হতে পারে না, তাই ধ্যান প্রক্রিয়ার সময় সীমা নির্ধারন করা সম্ভব না।

এবং তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হল নিজের ধ্যান বা মেডিটেশন অভ্যাসের কোন বাধা ধরা সময় একদমই নির্ধারন না করা, কারণ

সঠিক ভাবে ধ্যানের বা মেডিটেশন গভীরে প্রবেশ করলে, সময় সীমার অনুভুতি বিলীন হয়ে যায় তাই এই বিষয় নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই।

5. দেহ ভঙ্গি বা আসন: 

আমাদের শরীর ধরে নিন অনেকটা জলের পাইপের মত, যদি পাইপের মাঝে কোন ব্লক বা বাধা থাকলে জল যেমন এক দিক থেকে আরেক দিকে পৌছতে পারে না।

ঠিক একি রকম ভাবে ভুল ভঙ্গিতে মেডিটেশন করার সময় শরীরে এনার্জি প্রবাহ রুদ্ধ হয়, এবং শরীরের সর্বত্র এনার্জি পৌছতে পারে না।

আর এই এনার্জি প্রবাহের বড় মাধ্যম হল মানুষের মেরুদন্ড, যাকে মেডিটেশনের ভিত বলা হয় যার উপর নির্ভর করে ধ্যান প্রক্রিয়ার গভীরতা ও উপলব্ধি । তাই মেডিটেশনের সময় নিজের মেরুদণ্ড কে সম্পূর্নূ কোন সাপোর্ট ছাড়া সোজা করে রাখা উচিত।

এবং মেডিটেশন বা ধ্যান নির্দিষ্ট আসন দ্বারা সম্পুর্ন করা উচিত, যেমন – সুখাসন, পদ্মাসন এবং বজ্রাসন ইত্যাদি যা গভীর রূপে ধ্যানস্ত হতে সাহায্য করে।

6. হতের অবস্থান বা মুদ্রা:

মেডিটেশনের সময় হাত ও গুরুত্তপূণ ভূমিকা পালন করে যা অনেকেই জানেন না, যার ফলে না জেনেই একটি ভুল করে বসেন হাত কে ভুল স্থিতিতে রেখে।

কারন আমাদের হাত বা হাতের ভঙ্গি আমাদের শরীরের বিভিন্ন এনার্জি সিষ্টেম কে অ্যাক্টিভ করতে সক্ষম, এবং সঠিক ভঙ্গি দ্বারা আমাদের ধ্যানের গভীরতা কে দিগুন করা সম্ভব।  

সঠিক নিয়ম অনুজাই মেডিটেশন বা ধ্যানের সময় নিজের হাত কে ধ্যান বা জ্ঞান মুদ্রায় রাখা বা উপুড় করে হাতে তালু কে উপরের দিকে করে রাখা উচিত। এতে নিশ্বাস প্রশ্বাস ব্যালান্স হয় ও শরীরের মধ্যে সঠিক ভাবে এনার্জি প্রবাহিত হয়।

7. অনুভব ও অনুভুতি:

ধ্যান বা Meditation কোন কাল্পনিক বা দৈব কোন জগতের অনুভুতি প্রাপ্তি নয়। মেডিটেশনের মূল লক্ষ্য বর্তমান ও অভ্যন্তরীন বাস্তবীক স্থিতিকে অনুভব করার স্ব্য়ং সম্পুর্ন প্রচেষ্ঠা পদ্ধতি।

তাই বাস্তবীক জীবনের বাহিরে কাল্পনিক কিছুর অনুভব প্রচেষ্ঠা শুধুই সময় নষ্ট মাত্র।    

8. অন্বেষণ বা এক্সপ্লোর:

ধ্যান প্রক্রিয়ার অন্যতম নিয়ম হল নির্দিষ্ট guidance দ্বারা ধ্যান প্রক্রিয়া কে explore করা। দেখুন মেডিটেশন কোন অঙ্কের বই এর ফর্মুলা নয়, এটি আত্ম অনুসন্ধান ও উপলব্ধির পথ।  

এই পথে প্রতীক কে নিজেকে ও নিজের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা সমস্থ সম্ভাবনা কে এক্সপ্লোর করতে সঠিক guidance ও সঠিক গুরুর প্রয়োজন

Meditation প্রথম স্তর যেমন শেখা ওএর দ্বিতীয় ধাপ হল নিজেকে এক্সপ্লোর  করতে ভয় না পাওয়া, কারণ সত্য কে উপলব্ধির জন্য সময় মানুষের কাছে খুবই সীমিত।  

9. মোবাইল ও হেড ফোন কম ব্যবহার:  

আমরা আমাদের অনলাইন মেডিটেশনের শেখার প্রথম পর্যায়ে মোবাইল ও হেড ফোন ব্যবহার করে থাকি, কিন্তু সমস্যা হল এই ধ্যান একটি অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া যা সম্পুর্ন যা বাহিরে উদীপনা থেকে বিছিন্ন প্রক্রিয়া ।

তাই নিয়ম অনুজাই ধ্যান অভ্যাসে ক্ষেতে প্রথমের দিকে মোবাইল ও হেড ফোন ব্যবহার করা হলেও পরের দিকে এক দম না ব্যবহার করাই ভাল। এতে একমাত্র সম্পুর্ন রূপে এফেক্ট পাবেন।

10. চিন্তা শূন্য প্রচেষ্টা:

মেডিটেশন মানে অনেকে ভাবেন মস্তিষ্ক কে চিন্তা শূন্য করার প্রচেষ্ঠা ও এই বৃথা প্রচেষ্টা প্রতি দিন করে চলেছেন বহু মানুষ, যা সম্পুর্ন সময় নষ্ট ।

মেডিটেশন একটি দিক হল নিজের চিন্তা ভাবনা গুলিকে সঠিক  দিশা প্রদান করা, চিন্তা শূন্য করা নয়। তাই চিন্তা শূন্য প্রচেষ্টা ছেড়ে নিজের মেডিটেশন প্রক্রিয়ার সাথে নিজের চিন্তা গুলি সঠিক দিশা দেওয়া।


আপনার মূল্যবন্য সময় দিয়ে এই ব্লগটি পড়ার জন্য Wisdomcue.com টীমের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

আপনার Meditation সম্পর্কে কোন Guidance প্রয়োজন হলে বা কোন প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ফোন বা Whatsapp  করুন +91-9433-657-349 এই নুম্বেরে।


আপনারা যদি কেউ অনলাইনে বাংলাতে সম্পুর্ন সঠিক মেডিটেশন শিখতে চান তবে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।       


বিশদ জানতে Call করুন +91-9433-657-349 বা Email করুন Contact@wisdomcue.com

ধ্যান বা মেডিটেশনের প্রকৃত অর্থ কী | What is dhyana in Bengali

Meditation এর বাংলা অর্থ কী?

Mediation বা ধ্যান বাংলায় প্রকৃত অর্থ হল সাধনা। তবে আমাদের জানলে খুবই অবাক লাগবে শুধু চোখ বন্ধ করে বসলেই ধ্যান করা সম্ভব না।

কারন ধ্যান বা Meditation অনেকটা গাছের পরিপূর্ণ ফলের মত, একটি গাছ পরিপূর্ণ ফলের জন্য যেমন রোদ, জল, ও পুষ্ঠীর প্রয়োজন।

তেমনি মেডিটেশন বা ধ্যান এর জন্য আপনার মন, শরীর ও নিজের আবেগ বা অনুভুতির একটি সঠিক অবস্থার প্রয়োজন।   

যখন সব উপাদান গুলি সঠিক মাত্রায় উপস্থিত থাকে, তখন ধ্যান বা Meditation নিজে থেকেই আপনার মধ্যে দিয়ে সম্পূর্নূ হবে।

কারন ধ্যান বা meditation অনেকটা আমাদের হৃদ স্পন্দনের মত যা সঠিক অবস্থায নিজে থেকেই সম্পন্ন হয়।  

সম্পুর্ন সঠিক ভাবে ধ্যান বা Meditation করার জন্য আমাদের শারিরীক, মানসিক ও আবেগ বা অনুভুতির মধ্যের সমতা আনা প্রয়োজন।

সম্পুর্ন সঠিক ভাবে ধ্যান বা Meditation করার জন্য আমাদের শারিরীক, মানসিক ও শারিরীক আবেগ বা অনুভুতির মধ্যের সমতা আনা প্রয়োজন।

এই সমতা সৃষ্ঠী একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া, যা বেশির ভাগ মানুষ উপেখা করে চলেন।

তবে আজকের দিনের আসল চাহিদা হল একদিনেই মেডিটেশন শিখে ফেলা যা অনেকটা মাটিতে একটা বীজ পুতেই ফলের আসা করা সমান।    

Meditation করা মনে চোখ বন্ধ করে কোন চিন্তা করা, কাল্পনিক কোন গল্প সৃষ্ঠী বা গায়ের জোরে মন কে চিন্তা শূন্য করা নয়।

যার ফলে বেশির ভাগ মানুষ নিজের সাথে কিছু দিন লড়াই করে ধ্যান বা meditation শিখে প্র্যাক্টিস বন্ধ করে দেন।

অনেক নামি দামী কোর্স এবং নামি দামী meditation টীচারাও এই বেপারে সম্পুর্ন তথ্য গোপন করেন যা একদমই উচিত না।


শরীর, মন ও আবেগ বা অনুভবের সমতা সৃস্থির পদ্ধতি:

শরীর সমতায় আনার পদ্ধতি:

আমাদরে শরীর একটি অসাধারণ নির্ভুল যন্ত্র, যার থেকে অসম্ভব কাজ ও সম্ভব।কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ এই শরীর কে অলসতার জন্য ব্যবহার করে থাকেন, যার ফলে শরীরের বেশির ভাগ কার্য ক্ষমতা হ্রাস পায়।

তাই এই শারিরীক সমস্যা কে কাটিয়ে উঠতে ও নিজের শরীর কে ধ্যানের জন্য প্রয়োজনীয়ও সঠিক সমতায় আনতে হলে প্রতিদিন আমাদের Yoga বা যোগ অভ্যাস করা প্রয়োজন।  

সঠিক যোগ অভ্যাস আমাদরে শারিরীক সমস্থ প্রতিবন্ধকতা সহজে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।  

এবং Yoga আমাদের সমস্থ spiritual বা আধাত্তিক কাজের জন্য একটি স্থিতিশীল ভীত প্রদান করে যার উপর ভিত্তি করে জীবনে সমস্থ কর্ম কে এগিযে নিয়ে যাওয়া যায়।  


মনের উপর সমতা সৃষ্ঠীর পদ্ধতি:

মানুষের মন সাধারনত খুবই চঞ্চল প্রকৃতির ও সর্বদা অস্থির আমরা সবাই জানি।কিন্তু নিজের মনের উপর ভারসাম্য রাখা জীবনের প্রতিটিই ক্ষেত্রে খুবই জরুরী।

কারন ভারসাম্য হীন মন নিজেই নিজের ক্ষতির কারন ও নিজের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাড়ায়।  

তাই মনের উপর সম্পুর্ন স্থিরতা সৃষ্ঠীর জন্য প্রতিদিন আমাদের শান্তি, আনন্দ, স্থিরতা ও সকলের প্রতি ভালোবাসা বজায় করি কোন না কোন কাজ করা বা অন্তর থেকে শুভ পার্থনা করা উচিত।

যার উপর মন কেন্দ্রীভূত হয়ে নিজের মধ্যে স্থিরতা ও সঠিক ভারসাম্য সৃষ্ঠী হয় যার দ্বারা যে কোন কাজ সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।


আবেগ বা অনুভূতির উপর সমতা সৃষ্ঠীর পদ্ধতি:

আবেগ ও অনুভূতির উপরই মানুষের জীবনের শান্তি, ভালোবাসা, আনন্দ, সুখ দুঃখ ও সব কিছুই নির্ভর করে।

শরীর ও মনের বিনা স্থিরতায সবই ক্ষনস্থায়ী ও মূল্য হীন, তাই স্থিরতা ও সমতা প্রয়োজন অনস্বীকার্য।

তাই আবেগ বা অনুভূতির উপর সমতার সৃষ্ঠীর জন্য আমাদের প্রতিদিন আত্ম অনুসন্ধানের পথ ও সত্য কে জানার প্রচেষ্ঠার করা জরুরী।

যার থেকে আমাদের সত্য ও মিথ্যার মধ্যে বিভেদ সৃষ্ঠী সম্ভব এবং চেতনার বিকাশ সম্ভব।এই বিভেদ আমাদের আবেগ ও অনুভূতির উপর সর্ব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমতা সৃষ্ঠী করে।


এছারও আছে আর ছোট বড় নানা জিনিস যা ধ্যান বা Meditation এর ক্ষেত্রে প্রবল লাভ দায়ক।


আপনার যদি বাংলায় মেডিটেশন শিখতে চান তবে যোগা যোগ করুন আমাদের +91-9433-657-349 নাম্বারে অথবা নিচের দেওয়া লিঙ্ক ক্লিক করুন

বিশদ জানতে Call করুন +91-9433-657-349 বা Email করুন Contact@wisdomcue.com

-আসা করছি আপনাদের ব্লগটি ভাল লেগেছে, আপনাদের কেমন লাগলো আমাদেরে কমেন্ট মধ্যে জানতে ভুলবেন না । আপনাদের যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে +91 9433 657 343 করতে পারেন বা আমাদের মেল করতে পারেন Contact@wisdomcue.com মধ্যে। ধন্যবাদ


চক্র মেডিটেশন কী | What is Chakra Meditation In Bengali?

Chakra Meditation:

Chakra বা চক্র হল আমাদের শরীরের মধ্যে বিভিন্ন প্রান শক্তির কেন্দ্রবিন্দু বা বিভিন্ন নাড়ির সংযুক্ত কেন্দ্রবিন্দু। এবং এই নাড়ী হল আমদের শরীরের প্রাণ শক্তি বা এনার্জি প্রবাহী নালিক।

যখন এই নাড়ী গুলির যখন তিনটি একত্রে মিলিত হয় তখন সৃষ্ঠী হয় নির্দিষ্ট গুন সুমপূর্ন একটি চক্র। অবাক বিষয় তিনটি নাড়ী সর্বদা মিলিত হয় ত্রিকোন আকারে ও বিশেষ এনার্জি রূপে।

আমরা মনে করি চক্রে মানে গোলাকার আকৃতি বিশিষ্ঠ তা নয়, চক্র হল ত্রিকোণ আকৃতির। এই চক্র সর্বদা নিদিষ্ট ক্ষমতা বা এনার্জি পূর্ন হয় ও বিজ্ঞান অনুজাই এনার্জি সঞ্চারিত হয় গোল আকারে, এই বিশেষ স্থানকে চক্র বল হয়।

আমাদরে শরীরের মধ্যে ১১৪ টি প্রধান চক্র আছে, যার মধ্যে ২টি দেহের বাহিরে ও ৪টি সয়ং নিষ্ক্রিয় যা বাকি ১০৮ টি প্রকৃতির সাথে যুক্ত এবং এই 6টি বাদ দিলে পরে থাকে ১০৮ টি।     

১০৮টি চক্রই ১০৮টি ধরনের ভিন্ন ধ্যান প্রণালীর সাথে যুক্ত। আমরা প্রতিটি প্রণালীতেই আত্ম জ্ঞান প্রাপ্ত করতে পারি বা পরম জ্ঞান প্রাপ্ত করতে পারি। প্রতিটিই চক্র এক একটি বিশেষ চেতনা ও জ্ঞানের স্তর উন্মুক্ত করে তলে সময়ের সাথে।

এর মধ্যে জীবন ও চেতনা স্তরে প্রয়োজন প্রধান ৭টি চক্রের উপর আমরা কাজ করি। এই ৭টি হল মুলাধার চক্র, স্বাধিষ্ঠান চক্র , মণিপূরক চক্র, অনাহতা চক্র, বিশুদ্ধি চক্র, অঞ্জনা চক্র ও সহস্ররার চক্র         


মুলাধার চক্র:

Muladhara chakra

মুলাধার হল শরীরের প্রথম বুনিয়াদ ভিত্তি স্থাপন ও এনার্জির কেন্দ্রবিন্দু বা উত্‍স । এই চক্রটি আপনার মেরুদণ্ডের একদম নিচের অংশে অবস্থিত যা বলা হয় শরীরের চক্রের সূচনা বিন্দু।

এই মুলাধার চক্রের রং হল রক্তিম লাল, এই চক্রটি আপনার প্রতিদিনের বেসিক চাহিদা যেমন খাওয়া দাওয়া , ঘুম বা অলসতা, সম্ভোগ ইত্যদি নিয়ন্ত্রণ করে।

মুলাধার চক্রের সাধনা করলে আপনি জীবনের সমস্থ বেসিক চাহিদা গুলি থেকে মুক্তি পেয়ে পাবেন। যোগে বলা হয় যত দিন না আপনি বেসিক প্রয়োজনীয়তা উপরে আস্তে পারছেন তত দিন পশু ভিত্তিক অচরণের মধ্যেই আটকে চেতনা ও জীবন।

এই মুলাধার চক্রের বীজ মন্ত্র হল “লাম-LAM”,এই মন্ত্র উচরণে এই চক্রকে কিছুটা ব্যালান্স করে। তবে পূর্ণ রূপে জগরণের জন্য সাধন বা নির্দিষ্ট ধ্যান পধুতির প্রয়োজন।


স্বাধিষ্ঠান চক্র:

Swadhisthana chakra

দ্বিতীয় চক্র স্বাধিষ্ঠান হল শরীরের তৃপ্তি বা সন্তোষ সাধন ও চিন্তা শক্তির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, এই চক্রটি নাভির একটু নিচের দিকে অবস্থিত ও এই চক্রের রং হল কোমলা।

ঋষিরা বলেছেন এই চক্রটি আমাদের রোজকার জীবনে চিন্তা ভাবনা থেকে শুরু করে শারিরীক ও মানসিক পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণ কর।

স্বাধিষ্ঠান চক্রের সঠিক সাধন করতে পারেন আপনি জীবনে প্রাণবন্ত ভাবে মানুষ বাচতে পারবে। পুরাণের মতে যদি আপনি মুলাধার চক্র ও স্বাধিষ্ঠান চক্রর ব্যালান্স আনতে পারেন তবে জীবনে 70 ভাগ শরীরীরক সমস্যা থাকে মুক্তি পায়ে যাবেন।

এই স্বাধিষ্ঠান চক্রের বীজ মন্ত্র হল “ভাম-VAM”, এই মন্তের 108 বার সঠিক উচরনে এই চক্রটি কিছুটা  ব্যালান্স হয় তবে সাধনা ছাড়া পূর্ণ জাগরণ সম্ভব না।   


মণিপূরক চক্র:

Manipura chakra

তৃতীয় চক্র মণিপূরক হল জীবনে কর্মের শক্তির কেন্দ্রবিন্দু, এই চক্রটি আমাদের নাভিতে অবস্থিত।

মণিপূরক চক্রের রঙ হল হলুদ বা ইয়েলো কালারের, ঋষিরা বলেছেন চক্রটি আমাদের বিন কোন আবেগ  মায়াতে না জড়িত হয়ে কর্ম করার ক্ষমতা ও শক্তি প্রদান করে এছাড়াও এই চক্রের ইত্যাদি বহু গুণ আছে ।

তাই মণিপূরক চক্রের সাধন খুবই কঠিন কিন্তু সবচেয়ে প্রয়োজন প্রতিটি মানুসের্ জীবনে। সাধক দের মতে কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তি না পাওয়া গেলে মানব জিবনে সুখ ও শান্তির অবভাব চির কাল থাকবে।

পূরণ অনুযাই মণিপূরক চক্রের বীজ মন্ত্র হল “রাম-RAM”, এই বীজ মন্ত্রটি নির্দিষ্ট সাধনার সাথে করা হলে এই চক্র ব্যালান্স করা সম্ভব।


অনাহতা চক্র:

Anahata chakra

চতুর্থ চক্র অনাহতা হল জীবনে প্রেম ও ক্রিয়েটিভ শক্তির কেন্দ্রবিন্দু, এই চক্রটি আমাদের বুকের একটু নিচের দিকে অবস্থিত।

এই অনাহতা চক্রের রঙ হল সবুজ, এবং এই চক্রটী আমদের সমস্থ ইমোশনের বহি-প্রকাশ থেকে শুরু করে শরীরীর সমস্থ হরমোন প্রোব্লেম ও ক্রিয়েটিভ সক্ষমতা উপর ব্যালান্স প্রদান করে।

অনাহতা চক্রের সাধন পৃথিবীর সমস্থ জিনিসের সাথে প্রেম ও বাকি না প্রকাশ পাওয়া ইমোশান জীবনে পুনরায় প্রতিস্থাপন করে। ঋষিরা বলেন মানুষ কে পশুর থাকে আলাদা করে এই ইমোশন ও প্রেম, বিন এই দুই জিনিসে মানব জীবন অসফল।  

এই চক্রের বীজ মন্ত্র হল “য়াম-YAM”, এই মন্ত্রটি নির্দিষ্ট রীতিতে সাধনা করলে আমদের এই চক্রকে ব্যালান্স করে।


বিশুদ্ধি চক্র:

Vishuddha chakra

পঞ্চম চক্র বিশুদ্ধি হল আমদের শরীরের বিশ বা নেগেটিভ এনার্জি ফিল্টার, এই চক্রটি আমাদের গলার মধ্য অবস্থিত।

বিশুদ্ধি চক্রের রং হল গাড় নীল বা ডীপ নীল, এই চক্রটি নেগেটিভ চিন্তা, নেগেটিভ বিচার বা মন্তব্য ও সর্ব প্রকার নেগেটিভ শক্তি থেকে নিজের অন্তরের পজিটিভ ক্ষমতা কে রক্ষা করে। এই চক্রটি ব্যালান্স থাকলে সর্ব দিক থকে প্রবল ক্ষমতা শালি হয়ে উঠবেন।

বিশুদ্ধি সাধন কোন সাধারণ সাধন না এর জন কঠিন সাধন প্রয়োজন। তবে এই যদি এই চক্র ব্যালান্স আমদের মানসিক ও শারিরীক দুই দিক থেকে প্রবল ক্ষমতা শালি করে তলে।

এই চক্রটির বীজ মন্ত্র “হ্যাম-HAM”। এই চক্রটির পূর্ণ ব্যালান্স এর জন্য বিশেষ সাধনা ও গভীর ধ্যান শক্তির প্রয়োজন।


অঞ্জনা চক্র:

ষষ্ঠ হল অঞ্জনা চক্র এবং এটি সনাতন ও বিনা আবেগ মিশ্রিত চেতনা ও শান্তির কেন্দ্রবিন্দু, এই চক্রটি দুই চোখের মধ্যবর্তি স্থানে অবস্থিত তাই চক্রকে ত্রিনেত্র বলে।

এছাড়া এই চক্রের রং সাদা বা রঙ হীন কারণ, সাদা এমন এক রঙ যার মধ্যে অন্য রঙের স্পর্শ নেই। এই চক্রটি আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত কে বিনা কোন আবেগ ও অনুভূতিতে জড়িত হয়ে সঠিক ভাবে বোঝার ক্ষমতা প্রদান করে।

ঋষিদের মতে অঞ্জনা চক্রের সাধন জীবনে প্রতিটি জিনিসের পরম সত্যতা মানুসের কাছে তুলে ধরে, সত্যর বোধ মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্ত পূর্ণ।

ও পূরণ মতে এই চক্রটির বীজ মন্ত্র “সাহ্যাম-SHAM” এই বীজ মন্ত্রটি এই চক্রটি ব্যালান্স আনতে সাহায্য করে।


Sahasrara chakra

সহস্ররার চক্র:

এই চক্রটি পরম জ্ঞান ও পরম আনন্দ শক্তির প্রধান উত্‍স । এই চক্রটি আমদের মাথার ব্রহ্ম তালু তে অবস্থিত।

ও এই চক্রের রঙ বেগুনি বর্ণের হয়।ঋষিদরে মতে মানুষ নিজের জীবনের শান্তিকে পরম লক্ষ ভাবে, কিন্তু এটি একটি ভুল ধারনা। এই চক্রটি ব্যালান্স হলে জীবনে সর্ব সময় আমরা পরম জ্ঞান ও আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।          

পুরাণে বলা হয় এই চক্রের সাধন সবচেয়ে কঠিনও তম বিষয়, যতখন না বাকি সমস্থ চক্র ব্যালান্স হছে এই সহস্ররার চক্রে পৌছ্নর কোন পথ নেই এবং যোগেও এই সহস্ররার ব্যালান্স করার কোন সহজ উপায় বলা নেই।

কারণ এই চক্র হল সৃষ্ঠীর পরম জ্ঞানের দ্বার তাই এই ব্যালান্স কোন সহজ বিষয় নয়। এই চক্রের বীজ মন্ত্র “আউম-AUM” যার থেকেই সমস্থ জ্ঞানের সূচনা।


Chakra Meditation :

এই প্রধান 7 ক্ষমতা প্রদান করি চক্র গুলির মধ্যে সমতা সৃষ্ঠীর বিশেষ উপায় হল চক্র Meditation । এটি বিশেষ সাধনা প্রণালী যার সাহায্যে জীবন কে পূর্ণ রুপান্তরন ও পূর্ণ মানব জীবন প্রণালী সম্ভব।


আসা করি অপনদরে সঠিক ইনফরর্মেশন দিতে পড়েছি । যদি কেউ Online বা Offline এ meditation শিখতে চান তবে +91 9433-657-349 নাম্বার call করুন

সুস্থ থাকতে ও আমাদের সমস্থ নতুন article আপডেট পেতে উপরে বা নিচে থাকা Bell Icon ক্লিক করুন

৬টি মেডিটেশনের টিপস | 6 Meditation Tips In Bengali

আমরা জানি সঠিক Meditation বডির বেনিফিট প্রচুর। কিন্তু আমার হয়ত জানিনা কিছু ছোট ছোট অজানা জিনিসের জন্য মেডিটেশানের সমস্থ উপকার থেকে কিছুটা বঞ্চিত থেকে যাছি।

তাই আজ 6টি Meditation Tips বলব যার মধ্যমে সর্বাধিক উপকার পাবেন।       

1. বৈদিক মুদ্রা  Mudra:

মুদ্রা হল ভারতীয় ঋষিদের তৈরি সর্ব শ্রেষ্ঠ পধুতির মধ্যে একটি, যার অর্থ হাতের নির্দিষ্ট ভঙ্গি বা বিশেষ কোন রূপ।যা আমাদরে সারা শরীরের বিভিন্ন এনার্জি সিষ্টেম অ্যাক্টিভেট করে, এবং যা নিজের চেতনার ও উপলব্ধির এক অন্য স্তরে পৌছতে সাহায্য করে।

তাই ঋষিদের মতে Meditation এর জন্য “ধ্যান মুদ্রা”  “জ্ঞান মুদ্রা” সবচেয়ে বেশি উপযোগী।  

ধ্যান মুদ্রা:

ধ্যান অর্থ চেতনা ও মুদ্রা হাতের বিশেষ পধুটি। এক কথায় চেতনা ও বিকাশের নতুন স্তরের প্রবেশ পদ্ধতি ।

ধ্যান মুদ্রা পদ্ধতি :

ধ্যান মুদ্রা

প্রথমে আপনার দুটি হাত আপনার কোলের উপর রাখুন, নিচে বা-হাত ও তার উপর ডান হাত পরস্পর বিপরীতে।

তার পর দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি গুলি একে অপরের মাথায় মাথায় স্পর্শ করান যাতে হাতের তালুর সাথে টাচ না হয়ে থাকে। সম্পুর্ন এই ভঙ্গিমা কে বলা হয় ধ্যান মুদ্রা।


জ্ঞান মুদ্রা:

জ্ঞান অর্থ বুদ্ধি ও মুদ্রা অর্থ হাতের এক বিশেষ পদ্ধতি। এক কথায় জ্ঞান মুদ্রা হল নিজের অন্তরে জ্ঞানের সন্ধান।

জ্ঞান মুদ্রা পদ্ধতি :

https://www.youtube.com/watch?v=mgj1IvxSVMk
জ্ঞান মুদ্রা

প্রথমে দুটি হাত কে হাটুর উপর রাখুন, এবার হাতের তর্জনী দিযে বৃদ্ধা অঙ্গুলি মাথা স্পর্শ করান। ও বাকি মধ্যমা, অনমিকা ও কনিষ্ঠা কে সমান লম্বা ভাবে রাখুন যাতে কোনও জায়গা বেন্ড না হয়। সম্পুর্ন এই ভঙ্গিমা কে বলা হয় জ্ঞান মুদ্রা।  


2. যোগ আসন :

যোগের জন্মদাতা মহর্ষি পতঞ্জলি জীবনের প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট  আসন সৃষ্ঠী করেছিলেন। তার মধ্যে বিশেষ কিছু আসন Meditation সময় সবচেয়ে বেশি সমতা ও একাগ্রতা প্রদান করি এবং সে গুলি হল “সুখাসন”, “বজ্রাসন” ও “পদ্মাসন” ।  

এই আসন গুলি আপনার বডির নির্দিষ্ট দেহভঙ্গি বজায় রাখতে ও শরীরে এনার্জি ব্লক থাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

কারণ খারাপ বা ভুল দেহভঙ্গি বডির মধ্যে এনার্জি ফ্লো নষ্ঠ করে, তাই মেডিটেশান করার জন্য সঠিক আসন খুবই গুরুত্ত পূর্ণ।

বজ্রাসন পদ্ধতি:

বজ্রাসন

প্রথমে একটি সমতল যায়গা খুজে নরমাল ভাবে বসুন, তার পর হাটুর উপর ভর দিয়ে দাড়ান। এবার দুটি পা পিছনে মুরে এক সাথে গাযে গায়ে ঠেকান ও আস্তে আস্তে পায়ের উপর বসুন সোজা হয়ে।

মারুদণ্ড সোজা রাখুন ও হাত দুটি হাটুতে বা নমস্কার ভঙ্গিতে বুকের কাছে রাখুন। এবার গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।


পদ্মাসন পদ্ধতি :

পদ্মাসন

প্রথমে শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন ও এবার বাঁ পা হাঁটু থেকে ভেঙে ডান থাই এর উপর এবং ডান পা একইভাবে বাঁ থাই উপর রাখুন।

যতটা সম্ভব ততটা করুন প্রথমে জোর করে কোন কিছু করার দরকার নেই। এবার হাত দুটো চিৎ করে অথবা ধ্যান করার ভঙ্গিতে দু’হাঁটুর উপর রাখুন।


সুখাসন পদ্ধতি:

সুখাসন

প্রথমে শিরদাঁড়া সোজা করে নরমাল ভাবে বসুন, ও নিজের হাত দুটি নিজের দুই হাটুর উপর রাখুন। মাথা যেন সামান্য উপরের দিকে থাকে। এবং গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।


3. নাডি শোধন প্রাণায়াম :

এই প্রাণায়াম উদ্দেশ্য আমাদের শরীরে মধ্যে থাকা ৭২,০০০ হাজার নাড়ির বা জীবন শক্তির প্রবাহ নালিকর মধ্যে সমতা সৃষ্ঠী করে।এই শোধন প্রক্রিয়ার হল দুটি প্রধান নাড়ির উপর সমতা আনার প্রচেষ্ঠা। যাতে আমদের শরীরের ভিন্ন শক্তির মধ্যে ব্যালান্স বজায় থাকে।

মেডিটেশানের সময় সমস্থ এনার্জি শরীরের মধ্যে পূর্ন সমতায় কাজ করলে তবেই আমরা সঠিক এফেক্ট পাবো।

নাড়ি শোধন প্রণালী : 

https://www.youtube.com/watch?v=LqBorxxdNlI

প্রথমে একটি সমতল যায়গাতে বসুন, সবচেয়ে উপকার যদি আপনি পদ্মাসনে বসতে পারেন। মেরুদণ্ড সোজা করে মাথা কিছুটা উপরে তুলে গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

আপনার বা হাত আপনার কোলের উপর রাখুন, তার পর ডান হাত দিয়ে নাকের ডান দিক বন্ধ করুন খুব জোরে নয় আস্তে যাতে নিশ্বাস না নিতে পারেন।

তার পর বা দিক দিয়ে গভীর নিশ্বাস নিন ৫ সেকেন্ড হোল্ড করুন। তার পর ডান হাত টা বা দিকের নাকের উপর আনুন ও ডান নাক দিয়ে নিশ্বাস ছারুন।এবার ডান নাক দিয়ে নিশ্বাস নিন আবার হাত পাল্টে বা দিক দিয়ে নিশ্বাস ছারুন।


4. মেডিটেশানের দিক (Direction):

ভারতের সমস্থ শাস্ত্রে দিক খুবই গুরুত্ত পূর্ণ ভূমিকা পালন করে তবে অনেকেই এই বেপার সম্বন্ধে জানেন না, কারণ নির্দিস্থ এক একটি দিক নির্দিস্থ কিছু বিশেষ শক্তির প্রতিনিধিত্ত করে।

তার মধ্যে Meditation এর জন্য পূর্ব দিন হল উপকারী কারণ পূর্ব দিক্ সূর্য বা জীবন শক্তির সূচনার প্রতীক।

ঋষিরা বলেছেন এই পূর্ব দিকে মুখ করে যদি আপনি meditation করেন তবে আপনি প্রচুর পরিমনে পজিটিভ এনার্জি পাবেন যা আমাদের জীবনে খুবই প্র্য়োজন। এছাড়া পূর্ব দিক মুখ করে ধ্যান করলে তার গভীরতা ও অনুভব সবচেয়ে প্রবল হয়।   


5. মেডিটেশানের সময় Time:  

এই মহাবিশের সবচেয়ে শক্তিশালী বস্তু হল সময় যা আমাদরে জীবনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ভারতের মুনি ঋষিরা প্রতিটিই কাজের জন্য বিশেষ সমযে ভাগ করেছেন। মেডিটেশান এর জন্য সঠিক সময় বলা হয়েছে ব্রহ্ম মুহূর্ত বা সূর্য উদয়ের আগের মুহূর্ত।

এই সময় প্রকৃতি মধ্যে বিশেষ কিছু পরিবর্তণ হয় যার ফলে আমাদের বডির প্রকৃতি থাকে পজিটিভ চার্জ সংগ্রহ করতে পারে। এই সময় মেডিটেশান করলে আমরা ধ্যানের গভীর খুব সহজই প্রবেশ করতে পারি।  

6. খাদ্য অভ্যাস:

সবসময় মনে রাখা উচিত মেডিটেশন খালি পেটে করা উচিত বিশেষত সকালে।যদি খাবার পর meditation করা হয় তবে মাইন্ড ও বডির নিজের মধে তাল মেলর সমস্যা সৃষ্ঠী হয়। তাই সবসময় খালি পেটে মেডিটেশান করা উচিত।


সুস্থ থাকতে ও আমাদের সমস্থ নতুন article আপডেট পেতে উপরে বা নিচে থাকা Bell Icon ক্লিক করুন

যদি আপনার অনলাইন বা অফলাইনে meditation শিখতে চান তবে দেরি না করে এখুনি ফোন করুন এই নাম্বারে – +91-9433-657-349

Exit mobile version
0