যোগ আসনের সাথে ইমিউনিটি বড়ানোর উপায় | 11 Yoga For Immunity in Bengali

আমাদের immunity প্রয়োজন কেন ?

আজ প্রতিটি মানুষের বোঝার সময় এসে গেছে যে আজ আমরা যুদ্ধের গুলি মিসাইল বোমার হাতিয়ারের কম, নিজের মধ্যে immunity Problem ও ভাইরাস জনিত সংক্রমনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

এত মেডিকাল সায়েন্স এত উন্নতির পরেও, মানুষের জীবন আজ বিপন্ন কারন মানুষের শরীরে immunity বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই কমে গেছে ছন্ন ছাড়া লাইফ স্টাইলের জন্য।  

এখন সময় এসে গেছে এই ব্যপারে গুরুত্ত দিয়ে চিন্তা ভাবনা করার, কারন আমার বাহিরের প্রকৃতি গত সমস্যা গুলি কনট্রোল করতে না পারলেও আমাদের আভ্যন্তরীণ শারিরীক অবস্থার স্থিতি নিজেরাই কনট্রোল করতে পারি।  

এখন প্রশ্ন হল আমরা কী ভাবে এটি করতে চাই? Starter, Main course বা Dessert মত সময় সমযে মুঠো মুঠো ওষুধ খেয়ে?

না কী naturally যোগ ব্যয়াম, প্রাণায়ামmeditation মধ্যমে নিজেকে শরীর কে ভিতর থেকে সুস্থ সবল ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে?

তাই আজ আমাদরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ 11টি  Yoga বা যোগ অভ্যাস কথা বলব যা আমরা রেগুলার বাড়িতেই নিজে ও আপনজনের সাথেই প্র্যাক্টিস করতে পারেন।


11 Yoga for Immunity

1. ভুজঙ্গ আসন (bhujangasana):

ভুজঙ্গ আসন পদ্ধতি:

সবার প্রথমে বুকের উপর চাপ রেখে হাত পা সমান করে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। আস্তে আস্তে নিজের হাত দিতি ভাজ করে বুকের দুই পাশে রাখুন।

পেটের নিচের অংশ মাটিতে ঠেকিয়ে রেখে হাতে ভর দিয়ে নিজের বুকের অংশ কে মাটি থাকে উপরে তুলুন ও নিজার মুখ কে উপরের দিকে তুলে রাখুন।

উপকারিতা:

 এই আসন lungs এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এছাড়া শরীরে হরমোন ব্যালান্স করে ও সঠিক ভাবে রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।

এছাড়া শরীরের কমজোর ভাব ও হাতের জয়েন্ট ব্যাথা ইত্যাদি সমস্যার খুবই তাড়া-তাড়ি সমাধান করে ভুজঙ্গ আসন।ব্রেন এর মধ্যে রক্ত ও অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ায় ও চোখের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় এই আসন।


2. শিরশাসন (Sirsasana) :

https://www.youtube.com/watch?v=VrenTA2IFjI

শিরশাসন পদ্ধতি:

প্রথমে একটি সমতল যায়গা বেছে নিন, সবচেয়ে ভাল কোন দেওয়াল আছে। এর পর মাটিতে বসুন হাত দুটি মাটিতে রেখে পা দুটি দেওয়াল গায়ে রাখুন।  

এবার আস্তে আস্তে হাতের উপর ভর দিয়ে দেওয়ালের উপর পা দুটি তুলুন যতক্ষণ না পুরো পা দুটি মাথার দিকে উপরে যাছে।এই অবস্থায় হোল্ড করুন সুবিধা মত ও তার পর আস্তে আস্তে পা নবিয়ে নিন।

উপকারিতা :

 এই আসন pituitary gland যা আমদের শরীরে রক্তের মধ্যে বিভিন্ন হরমোন প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে তার উপর সমতা আনে।

যার ফলে শরীরেব হরমোন সমস্যা যেমন Thyroid, adrenalin ইত্যাদি প্রোব্লেম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এই আসন আমাদের  lymphatic সিস্টেমের উপর প্রভাব ফেলে যার জন্য শরীর বিভিন্ন কোষের মধ্যে জমা বজ্র পদার্থ শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয়।


3. সেতুবন্ধন আসন (Setubandh asana):

সেতুবন্ধন আসন পদ্ধতি:

প্রথমে একটি সমতল যায়গা বছে নিন ও লম্বা ভাবে শুয়ে পড়ুন। এবার হাটু থাকে পা ভাজ করে নিন ও নিজের দুটি হাত কে শরীরে দুই পাশে লম্বা ভাবে টান টান করে পায়ের দিকে ছড়িয়ে রাখুন।

এবার হাতের উপর চাপ দিয়ে কোমর থাকে শরীর কে উপরে দিকে তুলুন ও হোল্ড করুন ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।  

উপকারিতা:

এই আসন আমাদের নার্ভের উদ্দীপনা ও ব্রেন এর মধ্যে রক্তের অক্সিজেন প্রবাহ সঠিক পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ  করে। এ আসন আমাদরে শরীরের শ্বেত রক্ত কণিকা পরিমাণ বৃদ্ধি করে যাতে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।  

এছাড়াও মাইগ্রানে, মাথা ব্যথা, সাইনাস ও ঘাড়ের ব্যথা ইত্যাদি প্রবলেম এর জন্য এই আসনের চেয়ে উপকারী আসন আর কিছু নেই।  


4.  হ্যালাসন (Halasana) :

হ্যালাসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=guM2w_i55Vw

সবার প্রথম একটি পূর্ণ্য সমতল যায়গা তে শুয়ে পড়ুন, দুটি হাত থাকবে  কোমরে দুই পাশে লম্বা ভাবে।দুটি পায়ের মধ্যে যেন কোন গ্যাপ না থাকে, ও যেন পায়ের দুটি বুড়ো আঙুল এক সাথে স্পর্শ করে থাকে।

এবার দুটি হাতের উপর ভর রেখে পা দুটি মাথার পিছন দিকে নিয়ে যান যত টা সম্ভব্ হয়  ও মাটিতে স্পর্শ করান ।লক্ষ রাখতে হবে পা যেন বেন্ড না হয় ও কোমর যেন মাথার পিছনের দিকে চলে না আসে।

উপকারিতা:

এই আসন আমাদের বডির গুরুত্ত পূর্ণ অঙ্গ যেমন হার্ট এর রক্ত সঞ্চালন করা ও স্ট্রেস হরমোন কনট্রোল করার মত গুরুত পূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

এই আসন সুগার ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে ও শরীরের stiffness কম করে এবং শরীরের মধ্যে ব্যালান্স বজায় রাখে।   


5. উস্তাসন (Ustrasana):

https://www.youtube.com/watch?v=_NNnowkcIqU

উস্ত্‍রসনা পদ্ধতি:

সবার প্রথমে একটি সমতল জায়গায় পা জোর করে বসুন, তার পর আস্তে আস্তে হাটু থাকে পা দুটি ভাজ করে হাটুর উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাড়ান ও মেরুদণ্ড কে সোজা করুন।

তার পর আস্তে আস্তে দুটি হাত কে মাথার উপর দিয়া নিয়ে পিছনে শরীরকে বেন্ড করে পা এর পাতা গুলি কে স্পর্শ করুন যতটা সম্ভব নিজের বডি ব্যালান্স রেখে। এবার নিজেকে হোল্ড করুন এই আসনে ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

উপকারিতা: 

এই আসন আপনার হাত ও পায়ের পেশী কে শক্ত করে, বডি কার্য ক্ষমতা ব্যালান্স  করে। হাত ও পায়ের বাত এর বাথ্যা দূর করে ও শরীরের flexibility আনে।

এই আসন শরীর থাকে অতিরিক্ত লবণ ও বজ্র পদার্থ নিষ্কাশন থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন হরমোন কেন্দ্রিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।   


6. শিশু আসন (Shishuasana)

শিশু আসন পদ্ধতি :

সবার প্রথমে সমতল জায়গায় বসুন, এর পর ডান পা ও বাম পা হাটু থেকে বেন্ড করুন ও হাটুর উপর ভর দিয়ে উয়াথে দাড়ান।

দুটি পা যেন পিছনে থাকে এক সাথে একে অপরের সাথে জোর লেগে, এবার পায়ের উপর বসুন ধীরে ধীরে যেন আপনার মেরুদন্ড একদম সোজা থাক। 

এর পর নিজের দুটি হাত লম্বা করে মাথার উপর তুলুন ও গভীর একটি নিশ্বাস নিন এবার নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে হাত সমেত উপের বডি কে মাটিতে স্পর্শ করান ও হোল্ড করুন।

উপকারিতা:

এই আসন আমাদের শরীরে স্ট্রেস কমায় ও blood circulation কে বাড়ায় ও শরীরের  কমজোর ভাব কাটায় এবং  নমনীয়তা বৃদ্ধি করে।

পেটের বিভিন্ন সমস্যার উপর এই আসন দুর্দান্ত প্রভাব ফেলে, ও এই আসন শরীর কে detox করতে সাহায্য করে।


 7. বৃশ্চিকাশন  (Vrischik asana):

বৃশ্চিকাশন পদ্ধতি: 

https://www.youtube.com/watch?v=YyFcNzSlI9A

সবার প্রথমে একটি দেয়াল ধরে পিট ঠাকিয়ে বসুন।  তার পর আস্তে আস্তে হাত কে মাটি তে রাখে পা দুটি লম্বা করে আস্তে আস্তে দেয়াল দিয়ে উপরে সোজা করে তুলুন বডির সাথে।

এবার হাতে জোর দিয়ে পা কে মাথার দিকে নামিয়ে আনুন যতটা সম্ভব নিজের বডি ব্যালান্স রেখে হোল্ড করুন এই পজিশনে ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

উপকারিতা: 

এই আসন  ব্রেন এ রক্ত সঞ্চালন প্রবাহ সঠিক  করতে সাহায্য করে ও আমাদের শরীরের lymphatic সিষ্টেম সক্রিয়তার বজায় রাখতে সাহায্য করে।

যাতে শরীরের toxin বা বজ্র পদার্থ গুলি আমাদরে শরীর থেকে বাহিরে বেরিয়ে যায় ফলে শরীর সুস্থ থাকে ও বডির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে    


8.  পশ্চিমত্তান আসন  (paschimottanasana)

পশ্চিমত্তান আসন প্রণালী :

প্রথমে একটি সমতল যায়গা তে নরমাল ভাবে বসুন মেরুদণ্ড একদম সোজা করে। এর পর দুটি পা লম্বা করে ছড়িয়ে দিন, বা পাকে ভাজ করে দান পায়ে পাশে জোর করুন্।

এবার দুটি হাত দিয়ে লম্বা করে ছড়িয়ে রাখা দান পায়ের কাছে নিজের দুটি হাত কে নিয়ে যান, এর পর নিজের মাথা কে ধীরে ধীরে নিজের হাটুর সুপর স্পর্শ করান।

এই অবস্থায হাতের উপর জোর দিয়ে শরীরকে যতটা সম্ভব স্ট্রেচ করুন ও সামনের দিকে টেনে নিয়ে যান।  

লক্ষ্য রাখতে হবে পা যেন কোনও যায়গা থাকে বেন্ড না হয়ে যায় ও শরীরের পিছনের অংশ মাটি স্পর্শ করে।

একই রকম ভাবে পা পরিবর্তণ করে নতুন করে প্র্যাক্টিস করুন নিজের সুবিধা অনুজাই ও আসনের সময় গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

উপকারিতা:

এই আসন খাদ্য পরিপাকের সমস্থ হরমোন গুলি সঠিক মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করে, ও লিভারের সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এবং thymus অ্যাক্টিভেট করে যার ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়।  


9. বক্রাসন (vakrasana):

বক্রাসন পদ্ধতি:

প্রথমে সমতল যায়গা উপর একটি ম্যাট উপর বসুন, ও নিজের দুটি পা সামনের দিকে ছড়িয়ে রাখুন।

এর পর ডান পা হাটু থেকে বেন্ড করে নিজের বুকের কাছে টেনে আনুন, লক্ষ রাখতে হবে পা যেন থাই থেকে দূরে না চলে যায়।

এর পর বা হাত হাটুর ডান ডিকে থেকে ঘুরিয়ে মেরুদণ্ড সোজা রেখে বা পায়ের হাটুয়ে নিচে ধরুন।  

এবার আপনার ডান হাত পিঠের সমানে রাখুন ও নিজের মাথা স্টেচ করে ডান দিকে নিয়ে যান ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিয়ে হোল্ড করুন হোল্ড করুন। আবার হাত ও পা কে পাল্টে একই ভাবে প্র্যাক্টিস করুন আপনার সুবিধা মত।

উপকারিতা:

এই আসন আমাদের পেটের সমস্যা থেকে দূরে রাখতে ও শরীর কে detox করতে সাহায্য করে। বডির ব্লাড সুগার লেভেল কে কনট্রোল করতে ও পাকস্থলীর মধ্যে থাকা acid কে ব্যালান্স করে ও যারা ফ্যটি লিভারের সমস্যা ভুগছেন তাদের জন্য অন্যতম উপকারী আসন এটি।  


১০. গোমুখ আসন(Gomukhasana):

গোমুখ আসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=-qbPrlf1oxE

প্রথমে একদম সমতল যায়গা খুজে বসুন একদম মেরুদণ্ড সোজা করে নরমাল ভাবে, এবার আপনার বা হাটু ভাজ করে রাখুন ও ডান পা লম্বা করে ছরান ও বা পায়ের উপর দিয়ে বাজ করে নিন।

লক্ষ্য রাখবেন দুটি হাটু মাথা সমান সমান ভাবে থাকে, তার পর নিজের বা হাত কনুই থাকে বেন্ড করে পিঠের পিছনে নিয়ে যান।

তার পর নিজের ডান হাত কনুই থেকে বেন্ড করে মাথার উপর থেকে নিচের দিকে নাবিয়ে আনুন ও নিজের বা হাত কে ধরুন ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

তার পর একই ভাবে হাত পাল্টে ও পা পাল্টে আবার প্র্যাক্টিস করুন নিজের সুবিধা অনুজাই ও শরীরের নমনীয়তা অনুজাই।

উপকারিত:

এই আসন শরীরের নমনীয়তা ও হাত ও পায়ের নার্ভের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ও শরীরের ক্লান্তি বা স্ট্রেস দূর করে এই আসন।

এছাড়াও এই আসন পেটের সমস্যা যেমন হজম না হওয়া গ্যাস অম্বল অ্যাসিড এর সমস্যা সমাধান করে এই আসন।


11. বিপরীত করণি:

বিপরীত করণি পদ্ধতি:

প্রথমে এমন একটি সমতল যায়গা বছে নিন যার কাছেই দেওয়াল আছে, এই জায়গাতে শুয়ে পড়ুন লম্বা ভাবে। এবার নিজের দুটি হাত শরীর থেকে দূরে রাখুন একদম লম্বা করে ও হাত কে উপর করে।

এবার পা দুটি লম্বা করে দেওয়ালে তুলুন যাতে কোমরের নিচের অংশ দেওয়ালে টাচ করে থাকে এবং গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।   

উপকারিতা:

এই বিপরীত করণি আসন আমাদের ডায়াস্টলিক(diastolic) ব্লাড প্রেসারকে কমায় ও আমাদরে শরীরে মধ্যে cortisol লেভেল কমায় এবং শ্বেত রক্ত কণিকার প্রবাহ মাত্র সঠিক ভাবে ব্যালান্স করে।এছারও শরীরে স্ট্রেস হরমোন ও সুগার জন্য ইনসুলিন হরমনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।  


সুস্থ থাকতে ও আমাদের সমস্থ নতুন article আপডেট পেতে উপরে বা নিচে থাকা Bell Icon ক্লিক করুন

যোগ প্রকৃত অর্থ কি | What is Yoga in Bengali

যোগ আসন কী (What is Yoga) :

সংস্কৃত শব্দ “যোগ” কেই ইংরেজী ভাষাতে YOGA বলে । আসলে যোগ মানে কিন্তু ব্যায়াম নয় এটি শরীর, মন, ও আত্মার ক্রম উন্নয়নের পদ্ধতি যার দ্বারা সমাধী  স্তরে পৌঁছান সম্ভব ।

সঠিক ভবে যোগ প্রণালী বুঝতে হলে নিজের সংকীর্ন মনের গন্ডি ছেড়ে সৃষ্টির মূলের দিকে তাকাতে হবেই। কারণ যোগ মানে আদির সঙ্গে প্রান্তের যোগ, অসীমের সঙ্গে সসীমের যোগ এবং জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার যোগ ।

এবং কেমন করে পরম তন্ময়তা লাভ করা যায়, যাতে মনের আয়নায় স্পষ্টভাবে জেগে থাকবে নিজের আসল স্বরূপের ছবি, এবং এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়াই যোগের আসল প্রয়াস।

“যোগসূত্র” গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় সূত্রে মহর্ষি পতঞ্জলি যোগের বর্ননা দিয়েছেন – ‘চিত্তবৃত্তি নিরোধ’। চিত্ত অর্থাত্‍ মন যা যোগ প্রণালীতে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত ।

চিত্তবৃত্তি নিরোধ’ অর্থ যোগ দ্বারা কাম, ক্রোধ, মোহ, অনুরাগ, স্নেহ এই পাঁচটি চিত্তবৃত্তি পরিহার। যা সম্পুর্ন করতে পারলে মানুষের মুক্তি লাভ ও নিজের জীবন কে নিজের নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।


যোগেশারিরীক ও মানসিক সংযুক্তি :

জানলে অবাক লাগবে আমাদের শরীর, কোনও না কোনও ভাবে এই অসীম মহাবিশ্বের এর সাথে কানেকটেড ও আমাদের শরীরের মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের সব সমসার সমাধানের পথ ।

আমাদের শরীর দেখতে সাধারন কিন্তু এটি খুবই জটিল | আপনি হয়তো জানেনই না এটি আসলে অনেক গুলি লেয়ার দিয়ে তৈরি | প্রতিটা স্তর এক এক প্রকার ভাবে মুক্তি ও জ্ঞানের দ্বার, শুধু আমাদের এই প্রণালীকে গভীরভাবে অনুভব করা ও প্রতি স্তরের সাথে সমতায় আসা প্রয়োজন ।

১। মনময় কোষ:

মনময় কোষের কাজ হলো মনকে উন্মুক্ত ও নিজের ভাবনাকে স্থিরতা প্রদান করা। কারণ আপনি যা ভাবছেন তার প্রভাব কোনও না কোন ভাবে আপনার শরীর ও আপনার জীবন এ প্রভাব ফেলে।

তাছাড়া ডাক্তাররাও মনে করেন আপনার সমস্থ শারিরীক সমসার 90 ভাগ আপনার মনের সাথে যুক্ত | আপনার চঞ্চল এবং সন্দেহবাতিক মনই হলো আপনার বেশিরভাগ রোগের মূল কারণ |

তাইতো মনের স্থিরতা থাকার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, আর সেই কাজকেই সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে মনময় কোষ | আর এই কোষের সর্বোচ্চ উপকারিতা তখনই পাওয়া সম্ভব যখন আপনি যেকোনো যোগ সাধনায় নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে সময় দেবেন |

২। প্রাণময় কোষ:      

প্রাণময় কোষ আপনার শরীরের একপ্রকারে এনার্জি সিষ্টেম । যদি আপনার এই এনার্জি সিষ্টেম আপনার শরীরের alignment-এর সাথে সঠিক অবস্থায় থাকে তবে কোনোদিন আপনার শারিরীক সমস্যা হবে না ।

আমাদের শরীরে তখনই সমস্যা তৈরী হয় যখন এই alignment কোনো ভাবে নষ্ট হয় । তাই এই alignment-কে সঠিক রাখতে প্রাণময় কোষের নিয়ন্ত্রণ সাধনে প্রাণায়াম বিশেষ ভূমিকা পালন করে |

৩। বিজ্ঞানময় কোষ:

বিজ্ঞানময় কোষের উন্নতি সাধনে আপনি পেতে পারেন অভূতপূর্ব জ্ঞান । আপনার শরীর নিজের ভিতরেই অসীম জ্ঞানকে ধরে রেখেছে | যা আপনার জেনে অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে | কিন্তু এটা সত্যি |

 আমরা আজ প্রত্যেকেই বাইরের সব জ্ঞান এতটাই খুঁজতে ব্যস্ত যে নিজের অন্তরের এই জ্ঞান হাতের কাছে থেকেও সেটাকে আমরা অনুভব করতে পারছি না | যেটা খুবই প্রয়োজন অনুভব করার ।

মন যখন বিস্তারিত হয়ে একটি বিশেষ স্তরে পৌঁছায় তখন তাঁর মধ্যে ‘বোধি জ্ঞান’ জাগ্রত হয়। ধারণার দ্বারা বিজ্ঞানময় কোষ পুষ্ট হয়।

৪। আনন্দময় কোষ:

আনন্দময় কোষ হচ্ছে যোগের সবচেয়ে উচ্চতম অবস্থা যেখানে আছে শুধু পরমানন্দের অনুভুতি । এই কোষে বৈয়ষ্টিক চেতনা বা ছোট আমি বোধ থাকে বটে তবে তা অস্পষ্ট ও আবছা ভাবে। এই অবস্থায় বড় আমি বোধ অর্থাৎ আমিই ঈশ্বর এই ভাব জেগে ওঠে।

এই স্তরে মন সেই অনন্ত সত্তাকে পেতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই সূক্ষ্ম কারণ মন হ’ল পূর্ণত্বের দ্বার পথ। এখানে সামান্য একটা অতি সূক্ষ্ম আবরণ থেকে যায় মাত্র যা অতিক্রম করলেই আত্মার সেই আত্যুজ্জ্বল আলোকের দর্শন লাভ হয়। 

আমরা যা চাই সবই শরীর এর পক্ষে সম্ভব যেমন সুস্থ শরীর, সুস্থ মন, আনন্দ , শান্তি ও চিন্তা মুক্ত জীবন কিন্তু আমাদের শরীর সাধারণত সেই সমতায়ে নেই তাই যোগ বা yoga এমন এক প্রক্রিয়া যা আমাদের সেই সমতা প্রদান করে এই গুলো achieve করতে সাহায্য করে ।


আরো পড়ুন: যোগব্যায়াম করার টিপস

যোগের প্রকার (Types of Yoga) :

যোগ প্রধানত চার ভাগে বিভক্ত | যেমন- কর্ম যোগ, জ্ঞান যোগ, ভক্তি যোগ এবং রাজ যোগ |

১।   কর্ম যোগ:

কর্ম যোগে বলা হয়, ভালো কর্মই মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং আমাদের সর্বদা ব্যক্তিগত ফলাফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে ধর্ম অনুযায়ী কাজ করা উচিত । কর্মের মধ্যেই ধর্ম এবং ধর্মের মধ্যেই কর্ম লুকিয়ে রয়েছে | যে যোগী নিষ্কাম মনোভাব নিয়ে করে অর্থাৎ ফলের চিন্তা ছাড়া কাজই যার একমাত্র উদ্দেশ্য হয় সেই একমাত্র আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকে লাভ করতে পারে |

২।  জ্ঞান যোগ:

জ্ঞানযোগ হল নাম ও রূপের বাইরে গিয়ে পরম সত্যকে উপলব্ধির পথ । এই অনুসারে, সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমেও মোক্ষ লাভ কিংবা আত্মজ্ঞান সম্ভব।

যে যোগী, সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে যাবে, সে দ্রুতই নিজের আসল স্বরূপকে উপলব্ধি করতে পারবে এবং অবশেষে এর মাধ্যমে সে আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে | 

৩।  ভক্তি যোগ:

ভক্তিযোগ হচ্ছে  ভগবানকে লাভ করার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় ভক্তির নয়টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে । যেমন – শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, বন্দন,অর্চন, পাদসেবন, দাস্য,সখ্য ও আত্মনিবেদন ।

যে যোগী নিজেকে শুধু ভগবান কিংবা পরমাত্মার কাছে নিজেকে পুরোপুরি অর্পণ করে দেবেন ভক্তির মাধ্যমে, সেও শেষে আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে|  

৪। রাজ যোগ :

রাজযোগের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে রাজার মতো নিজের অন্তরকে আত্মবিশ্বাসী, ভয়হীন এবং আত্মনিয়ন্ত্রিত বানানো | এই যোগকে অষ্টাঙ্গ যোগও বলা হয়ে থাকে |

যেটা এই ৮টি অংশ দ্বারা গঠিত- যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি | যে যোগী এই অষ্টাঙ্গ যোগ সাধন করতে পারবে সেও আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে অনায়াসে |  


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন কিংবা আমাদের সেন্টারে এসে অফলাইনে শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

Exit mobile version
0