রাউন্ড শোল্ডার সমস্যার চির সমাধান | 8 yoga to fix rounded shoulders in bengali

রাউন্ড শোল্ডার Round Shoulder:

আজকের দিনে প্রতি ১০ জন মানুষরে মধ্যে ৬ জন মানুষ রাউন্ড শোল্ডারের সমস্যায় ভুগছেন।না জানতে হইত আপনি বা আপনার বাড়ির ছোট বা বড় যে কোন সদস্যরা এই সমস্যায় ভুগছেন কিন্তু হইত বুঝতেও পাছেন না।

তবে দীর্ঘ দিনের এই সমস্যার ফলাফল খুবই মারাত্মক, এই round shoulder প্রোব্লেম থেকে আপনার হতে পারে –

ঘাড়ের পিঠের ও কোমরের টান লাগা ও যন্ত্রনা, রোজই প্রায় মাথার যন্ত্রনা, Arthritis, Disc Herniation বা ঘাড়ের ডিস্ক এর সমস্যা , স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা, back Pain, osteoarthritis ও সব সময় এনার্জি কম ভাব ইত্যাদি।       

রাউন্ড শোল্ডার প্রোব্লেমের সৃষ্টির কারণ কী?

  • বেশি smart phone বা tablet ব্যবহার করা
  • বেশি কম্পিউটার ব্যবহার করা
  • সারা দিন একই ভাবে গাড়ি চালানো
  • chair এর মধ্যে half বসা ও half শুয়ে থাকা অবস্থা বসা
  • অতিরিক্ত ওজন বহন করা
  • হাটা সময় কাধ কে সামনের দিকে ঝুকিয়ে রাখা
  • মাথা নিচু করে হাটা
  • অনেক ক্ষণ ঘাড় কে নিচু করে বা হেলিয়ে mobile এর মধ্যে কথা বলা
  • বুক ফুলিয়ে শরীর কে সামনে হেলিয়ে হাটা ও আরও অনেক কিছু।  

আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার রাউন্ড শোল্ডার প্রোব্লেম আছে?   

প্রথম উপায়:

নরমাল আপনি এখন যে ভেবে বসে আছে এই ভাবে বডি কে একই জায়গায় ফিক্স করে রাখুন।দেখুন আপনার দুটি কান কাধের সাথে এক সরল রেখা বরাবর আছে নাকি এগয়ে আছে কিছুটা।

যদি এক সরল রেখায় যদি কান না থাকে তবে বুঝে নিতে হবে আপনার রাউন্ড শোল্ডার প্রোব্লেম রয়েছে।

দ্বিতীয় উপায়:

একটি দেওয়ালের সামনে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়ান, এর পর নরমাল ভাবে থাকেন সেই posture এ দাড়ান।দেখুন আপনার মাথা পিঠ ও কোমর কী এক সরল রেখায় আসছে কিনা যদি না থাকে তবে জানবেন আপনার রাউন্ড শোল্ডার প্রোব্লেম আছে।

উপরে দেওয়া দুটি উপায় থেকে যদি বুঝতে পারেন এই problem আছে  তবে এই 6টি যোগ অভ্যাস রোজ বাড়িতে করুন ভাল হতে।       


8 Yoga To Fix Rounded Shoulders:

1.  ভুজঙ্গ আসন (Bhujangasana):

ভুজঙ্গ আসন পদ্ধতি:

সবার প্রথমে বুকের উপর চাপ রেখে হাত পা সমান করে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। আস্তে আস্তে নিজের হাত দিতি ভাজ করে বুকের দুই পাশে রাখুন।

পেটের নিচের অংশ মাটিতে ঠেকিয়ে রেখে হাতে ভর দিয়ে নিজের বুকের অংশ কে মাটি থাকে উপরে তুলুন ও নিজার মুখ কে উপরের দিকে তুলে রাখুন।

উপকারিতা:

এই আসন আমাদরে cuff rotator muscles এর position ঠিক করে যাতে কধের বক্র ভাব কম হয়।

এছাড়া এই আসন আমাদরে lungs এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও heart রেট কে ব্যালান্স  করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।


গোমুখ আসন (Gomukhasana):

গোমুখ আসন পদ্ধতি:

https://youtu.be/-qbPrlf1oxE

প্রথমে একদম সমতল যায়গা খুজে বসুন একদম মেরুদণ্ড সোজা করে নরমাল ভাবে, এবার আপনার বা হাটু ভাজ করে রাখুন ও ডান পা লম্বা করে ছরান ও বা পায়ের উপর দিয়ে বাজ করে নিন।

লক্ষ্য রাখবেন দুটি হাটু মাথা সমান সমান ভাবে থাকে, তার পর নিজের বা হাত কনুই থাকে বেন্ড করে পিঠের পিছনে নিয়ে যান।

তার পর নিজের ডান হাত কনুই থেকে বেন্ড করে মাথার উপর থেকে নিচের দিকে নাবিয়ে আনুন ও নিজের বা হাত কে ধরুন ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

তার পর একই ভাবে হাত পাল্টে ও পা পাল্টে আবার প্র্যাক্টিস করুন নিজের সুবিধা অনুজাই ও শরীরের নমনীয়তা অনুজাই।

উপকারিত:

এই আসন আমাদরে lower pec muscle কে শক্ত করতে যার ফলে কধের  ও মাথার পজিশন সঠিক হয় শরীরের সাথে।  

এছাড়াও এই আসন শরীরের নমনীয়তা ও হাত ও পায়ের নার্ভের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ও শরীরের ক্লান্তি বা স্ট্রেস দূর সাহায্য করে।


3.  চক্রাসন (Chakrasana):  

আসন পদ্ধতি:

প্রথমে আপনি শুয়ে পড়ুন একটি সমতল যায়গাতে শবাসনে, ও নিজের পায়ের মধ্যে যেন খুব সামান্য ফাক থাকে এবং নিজের হাত মাথার উপর দিকে থাকে।

এর পর পা হাটুতে থেকে ভাজ করুন আস্তে আস্তে বডি কে উপরে দিকে তুলুন।

এবং হাতের তালুর সাহায্যে বডির উপরের অংশ তুলুন ও যতটা সম্ভব হাত কে পায়ের দিকে প্রসারিত করুন। যাতে শরীর একটি চক্র আকার ধারন করে এই পজিশনে গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

উপকারিতা:

এই আসন আমাদরে বুকের ও পিঠের ঘটন গত ভাবে প্রয়োজনীয় পেশী গুলিকে শক্ত করে।    

এছাড়া এই আসন আমাদের স্পাইন ও পেটের মাসেল কে স্ট্রেচ ও এবং শরীরের স্ট্রেস হরমনের মাত্রা কম করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।


4..  হ্যালাসন (Halasana) :

হ্যালাসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=guM2w_i55Vw

সবার প্রথম একটি পূর্ণ্য সমতল যায়গা তে শুয়ে পড়ুন, দুটি হাত থাকবে  কোমরে দুই পাশে লম্বা ভাবে।দুটি পায়ের মধ্যে যেন কোন গ্যাপ না থাকে, ও যেন পায়ের দুটি বুড়ো আঙুল এক সাথে স্পর্শ করে থাকে।

এবার দুটি হাতের উপর ভর রেখে পা দুটি মাথার পিছন দিকে নিয়ে যান যতটা সম্ভব্ হয় ও মাটিতে স্পর্শ করান।

লক্ষ রাখতে হবে পা যেন বেন্ড না হয় ও কোমর যেন মাথার পিছনের দিকে চলে না আসে।

উপকারিতা:

এই আসন পিঠের ও ঘরের নিচে সমস্থ পেশী গুলি কে শক্ত ও নমনীয় করতে সাহায্য করে যাতে কধের ও মাথার alinement সঠিক ভাবে হয়।

এছাড়া এই আসন আমাদের বডির গুরুত্ত পূর্ণ অঙ্গ যেমন হার্ট এর রক্ত সঞ্চালন করা ও স্ট্রেস হরমোন কনট্রোল করার মত গুরুত পূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।


5. মার্জারি আসন (Marjaryasana):

আসন পদ্ধতি:

প্রথমে একটি সমতল যায়গাতে হাত ও পায়ের উপর ভর দিয়ে হামগরি দেওয়ার পজিশানে আসুনমেরুদণ্ড সোজা রেখে।  এর পর মাথা কে উপরের দিকে তুলে পিঠকে নিচের দিকে স্ট্রেচ করুন যতটা সম্ভব।

আবার নরমাল পজিশানে ফিরে মাথাকে নিচের দিকে নামিয়ে পিঠকে উপরের দিকে তুলে স্ট্রেচ করুন ও কিছু খন হোল্ড করুন।

উপকারিতা :

এই আসন আমাদের বুকের ও পিঠের upper muscles কে পুরোপুরি ভাবে স্ট্রেচ করতে এবং দুর্বল ও গঠন গত ভাবে জরুরী পেশী গুলি কে শক্ত করতে সাহায্য করে।

ও স্পাইনাল কর্ডের গঠন গত ত্রুটি, পিঠের ও ঘরের ব্যথার সমস্যা কে খুব সহজে দূর করে।    


6. ধনুর আসন (Dhanurasana):

ধনুর আসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=CZGtSaOvb50

প্রথমে একটি সমতল যায়গা বেছে নিন ও সম্ভব হলে মেঝের উপর কিছু পেতে নিন।

তার পর বুকের উপর ভর দিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ুন, হাত লম্বা ভাবে মাথার দিকের ও পা সমান ভাবে বিনা কোন গ্যাপ দিয়ে লম্বা ভাবে ছড়িয়ে রাখুন।

এর পর পা দুটি হাটু থেকে ভাজ করুন ও ধীরে ধীরে মাথার দিকে নিয়ে আসুন লক্ষ রাখবেন পায়ের মধ্যে বেশি গ্যাপ না হয় ও পেট যেন মাটিতে স্পর্শ করে থাকে।

এবার মাথার পিছন দিক হাত দুটি স্ট্রেচ করে নিয়ে আসুন ও পায়ের বুড়ো আঙুল কে স্পর্শ করুন।

উপকারিতা:  

এই আসন আমাদের upper ও lower pec muscle কে stretch করে ও কাধের গঠন গত আকার সঠিক ভাবে ব্যালান্স করে।  

এই আসন আমাদরে endocrine gland কে উদ্দীপিত করতে শরীরের ইনসুলিন ও নানা হরমোনের সমতা সৃষ্ঠী হয়।  


7. সেতুবন্ধন আসন (Setubandh asana):

আসন পদ্ধতি:

প্রথমে একটি সমতল যায়গা বছে নিন ও লম্বা ভাবে শুয়ে পড়ুন।এবার হাটু থাকে পা ভাজ করে নিন ও নিজের দুটি হাত কে শরীরে দুই পাশে লম্বা ভাবে টান টান করে পায়ের দিকে ছড়িয়ে রাখুন।

এবার হাতের উপর চাপ দিয়ে কোমর থাকে শরীর কে উপরে দিকে তুলুন ও হোল্ড করুন ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।  

উপকারিতা:

সেতুবন্ধন আসন আমাদরে স্পাইন stretch করতে ও কাধের ও ঘাড়ের aliment ঠিক করতে সাহায্য করে।

এছাড়া এই আসন আমাদরে শরীরের শ্বেত রক্ত কণিকা পরিমাণ বৃদ্ধি করে যাতে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও দুর্বলতা কমে।   


8. রাজকপত আশন (Rajakapotasana) :

রাজকপত আশন পদ্ধতি

https://www.youtube.com/watch?v=U2oimBogB4k

প্রথমে একটি যায়গাতে পা ছড়িয়ে বসুন। তার পর আস্তে আস্তে ডান পা হাটু থকে মুড়ে আপনের থাই এ ঠেকান।

এবার বা পা মুড়ে হাত এর সাহায্যে উল্টো করে পিছনে টেন নিয়ে যান। হাটু কে মাটিতে রেখে পা কে মাথার দিকে তুলুন।

এবার হাত দুটি বুকের কাছে প্রণাম করার মত জোর করুন, তার পর আস্তে আস্তে মথার পিছনে নিয়ে গিয়ে পা এর পাতার বুড় আঙুল ধরুন নিজের বডি ব্যালান্স রেখে।

উপকারিতা:

এই আসন আপনার পিঠের কমজোর পেশী যেমন Upper Traps কে শক্ত করতে সাহায্য করে যাতে বুকের শক্ত  হয়ে থাকা পেশী গুলি নরম হয় ও রাউন্ড শোল্ডার প্রোব্লেম থেকে মুক্তি দেয়।  

এছাড়া এই আসন পায়ের পেশীকে শক্ত করে, যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শারিরীক দুর্বলতা দূর করে।


আসা করছি আপনাদের সঠিক উত্তর দিতে পেরেছি যাতে আপনাদের উপকার হয়। আপনার কোন মতামত থাকলে আমাদরে Email করতে পারেন contact@wisdomcue.com এর মধ্যে। ধন্যবাদ

আমাদের সমস্থ ব্লগ আপডেট পেতে উপরে বা নিচে দেওয়া bell icon ক্লিক করুন ধন্যবাদ ।

৬টি যোগ আসন নতুন Entrepreneur দের জন্য – 6 Yoga Poses For Entrepreneurs

6 Yoga Poses For Entrepreneurs


1. গরুরাসন (Garur Asan):

উত্‍স: 

এই একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে,যার মনে হল বন্ধন মুক্তি,সাহস ও একাগ্রতা । ঈগল পাখিকেই sanskrit গরুর বলা হয় এবং  হিন্দু পূরণ অনুজাই পক্ষীরাজ ও ভগবান বিষ্ণুর বাহন ও বলা হয়।

 এছাড়াও হিন্দু পুরাণে ঈগল বা গরুর কে  ক্ষমতা বা তেজ , সাহস , সচেতনতা , শুভ শক্তির প্রতীক বলা হয়। 

যোগের অনুপ্রেরণা:

যোগীরা বলেছেন গরুরাসন বলতে বোঝায় জীবনের  সমস্থ বন্ধন ও সীমা থাকে মুক্তি,বিস্তার ও অসীম একাগ্রতা । কারণ ঈগল এক মাত্র পাখি যে সমস্থ সীমা থাকে মুক্ত,যে সাহস ও একাগ্রতার জোরে মেঘ এর সীমা পার করে আকাশে উড়তে পারে।

তাই যোগের মধ্যে এই আসন অন্যতম আসন যা entrepreneur জীবনের সমস্থ শারিরীক বন্ধন ও মানসিক বন্ধন থাকে মুক্তি দেয়। 

নামকরণ: এই আসন নাম গরুরাসন কারণ, এই আসন দেখতে গরুড়ের মুখ আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম গরুরাসন।  

গরুরাসন পদ্ধতি:

 সবার প্রথমে সোজা হয়ে দাড়ান, ডান হাতের কনুয়ে বেন্ড করে বা হাতের কনুই দিয়ে নিয়ে গিয়ে দান হাতের তালু বা হাতের তালুটে স্পর্শ করান ।

তার পর আস্তে আস্তে বা পা মাটিতে রাখে দান পা  দিয়ে বা পা কে জড়িয়ে ধরুন নিজের বডি ব্যালান্স রেখে।হোল্ড করুন 20 থাকে 30 সেকন্ড। আবার পা ও হাত পাল্টে 5 থাকে 6  বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন।

উপকীরিতা: 

এই আসন করলে আপনার হাত ও পায়ের পেশী কে শক্ত করে, বডি ব্যালান্স ঠিক করে ও পাটের সমসা দূর করে।হাত ও পায়ের বাত এর বাথ্যা দূর করে।

মারুদণ্ড শক্ত ও সোজা করে এই আসন । শরীর এর মধ্য তৈরি হওয়া toxin কে কমাতে ও হরমোন ব্যালান্স করতে সবচায়ে বেশি সাহায্য করে এই গরুরাসন 

আপনার নতুন skills শিখতে ও বুঝতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে ও এই যোগ আসন আপনার ডিসিপ্লিন তৈরি করে, যা একটি Entrepreneurs জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ।     


2. ভুজঙ্গ আসন (Bhujang Asana):

উত্‍স:

এটি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে। ভুজঙ্গ মনে সর্প ও এই আসন  জ্ঞান, পরিবর্তণ, ক্ষমতা, রাজকীয়তা ও ঔষধ বিদ্যার  সরূপ।এ ছাড়াও হিন্দু পূরণ অনুজাই সর্প ও ভগবান শিব এর অলংকার বিষ্ণুর সেবক।

যোগের অনুপ্রেরণা:

যোগীরা বলেছেন ভুজঙ্গ আসন বোঝায় জীবনের পরিবর্তণ ও জ্ঞান, ক্ষমতা। কারণ সর্প এক মাত্র জীব যাকে জীব জগতের পরম যোগী বলা হয়।এই  সর্প সময়ের সাথে তার খোলস বা স্কিন পাল্টায় কারণ পরিবর্তণ সর্পের প্রধান গুণ। এছাড়াও সর্প হল রাজকীয়তা, ঔষধ বিদ্যার প্রধান প্রতিরূপ।

তাই যোগের মধ্যে এই আসন অন্যতম আসন যা আমাদের জীবনের সমস্থ রোগ, চিন্তা ও অলসতার বন্ধন থাকে মুক্তি দেয়।

নামকরণ: এই আসন নাম ভুজঙ্গ   কারণ , এই আসনে আপনাকে দেখতে ফণা তুলে রাহা সর্প আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম ভুজঙ্গ  আসন।  

ভুজঙ্গ আসন পদ্ধতি:

সবার প্রথমে বুকের উপর চাপ রেখে হাত পা সমান করে মাটিতে সুয়ে পড়ুন । আস্তে আস্তে নিজের হাত দিতি ভাজ করে বুকের দুই পাশে রাখুন।

পেটের নিচের অংশ মাটিতে ঠাকিয়ে রেখে হাতে ভর দিয়ে নিজের বুকের অংশ কে মাটি থাকে উপরে তুলুন ও নিজার মুখ কে উপরের দিকে তুলে রাখুন । হোল্ড করুন ১০ থাকে ২০ সেকন্ড । আবার পা ও হাত পাল্টে ২ থাকে ৪ বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন ।

উপকীরিতা:

এই আসন করলে আপনার lungs এর ক্ষমতা বারে । বুকের  বা বুকের পজর শক্ত করে যাতে আকার গত ভাবে সঠিক হয় । এছাড়া  শরীরে হরমোন ব্যালান্স করে , সর্দি কাশির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় এই আসন । আপনার ক্রীয়েটিভ চিন্তা ভাবনা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও এই যোগ আপনাকে জীবনে লক্ষ স্থির করতে ও সবচেয়ে বেশি  সাহায্য করে ।


3. রাজকপত আশন (Rajakapot Asana):

https://www.youtube.com/watch?v=U2oimBogB4k

উত্‍স:

এই শব্দ টি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে, যার মনে হল শান্তি , সরলতা ও চেতনার বিস্তর । এছাড়াও হিন্দু পুরাণে কপত বা পয়রা  কে প্রেম , প্রভু ভক্তি , পরিবর্তণ গ্রহণ কারি সচেতনতা ও  শুভ শক্তির প্রতীক বলা হয়।

যোগের অনুপ্রেরণা:

যোগীরা বলেছেন রাজকপত আশন  বলতে বোঝায় জীবনের সরলতা , চেতনা ও বিশ্বাস । কারণ কপত বা পয়রা এক মাত্র পাখি যে শান্তির দূত , এই পাখি পরিবতন এর সাথে সবচেয়ে বেশি তাল মিলিয়ে চলতে পারে ।

তাই যোগের মধ্যে এই আসন অন্যতম আসন যা আমাদের জীবনের সমস্থ মানসিক বন্ধন, প্রেম জটিলতা ও কষ্ট থাকে মুক্তি দেয়।

নামকরণ: এই আসন নাম রাজকপত আশন কারণ ,  এই আসনে আপনাকে দেখতে ডানা মেলা কপোত এর  আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম রাজকপত আশন।  

রাজকপত আশন  পদ্ধতি:

প্রথমে একটি যায়গাতে পা ছড়িয়ে বসুন। তার পর আস্তে আস্তে ডান পা হাটু থকে মুড়ে আপনের থাই এ ঠেকান। এবার বা পা মুড়ে হাত এর সাহায্যে উল্টো করে পিছনে টেন নিয়ে যান। হাটু কে মাটিতে রেখে পা কে মাথার দিকে তুলুন।

এবার হাত দুটি বুকের কাছে প্রণাম করার মত জোর করুন, তার পর আস্তে আস্তে মথার পিছনে নিয়ে গিয়ে পা এর পাতার বুড় আঙুল ধরুন নিজের বডি ব্যালান্স রেখে। হোল্ড করুন 20 থাকে 30 সেকন্ড। আবার পা ও হাত পাল্টে 5 থাকে 6 বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন।

উপকারিতা:

 পা এর সব পেশীকে শক্ত করে , যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে , শারিরীক দুর্বলতা দূর করে। মারুদণ্ড সোজা ও মজবুত করে এই আসন। এছাড়া আপনার ক্রীয়েটিভ চিন্তা ভাবনা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য এই আসন অন্যতম।


4. বৃশ্চিকাশন  (Vrischik asana):

এই শব্দটি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে ও নানা হিন্দু পুরাণে যার মনে হল শক্তি ,পুনর্জন্ম ও সর্ববিজয়। এছাড়াও হিন্দু পুরাণে বির্শ্চিক  কে অহংকার , মৃতু , শত্রু বিজয় ও শুভ শক্তির ও প্রতীক বলা হয়।

যোগের অনুপ্রেরণা:

 যোগীরা বলেছেন বৃশ্চিকাশন বলতে বোঝায় জীবনের সব দিক থেকে বিজয় ও ভয় কে হারিয়ে প্রভুত্ত বিস্তার ।তাই যোগের মধ্যে এই আসন অন্যতম আসন যা আমাদের জীবনের সমস্থ মানসিক বন্ধন, ভয় ও সর্ব বাধা  মুক্তি দেয়।

নামকরণ: এই আসন নাম বৃশ্চিকাশন  কারণ, এই আসনে আপনাকে দেখতে বৃশ্চিক এর আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম বৃশ্চিকাশন।

বৃশ্চিকাশন পদ্ধতি:

 সবার প্রথমে একটি দেয়াল ধরে পিট ঠাকিয়ে বসুন।  তার পর আস্তে আস্তে হাত কে মাটি তে রাখে পা দুটি লম্বা করে আস্তে আস্তে দেয়াল দিয়ে উপরে সোজা করে তুলুন বডির সাথে।

এবার হাতে জোর দিয়ে পা কে মাথার দিকে নামিয়ে আনুন যতটা সম্ভব   নিজের বডি ব্যালান্স রেখে।হোল্ড করুন ১০ থাকে ২0 সেকন্ড। 5 থাকে 6 বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন ।

উপকারিতা: 

Nerve এর প্রোব্লেম দূর করে , হাত এর জোর ও পেশী শক্ত করে এই আসন । এই আসন আপনার ব্রেন এ রক্ত সঞ্চালন ঠিক  করতে সাহায্য করে । এই আসন চিন্তা ভাবনার মধ্যে সমতা আনে এবং নতুন skills শিখতে ও বুঝতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে ।


5. উস্তাসন (Ushtra Asana):

উত্‍স:  

এই শব্দটি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে, যার মনে হল নিজের দিশা কে খুজে পাওয়া। এছাড়াও হিন্দু পুরাণে উট  কে ক্ষমতার , অন্তরের জ্ঞান প্রদানকারী , কষ্ট সহিষ্ণু ও  শুভ শক্তির প্রতীক বলা হয়।

যোগের অনুপ্রেরণা:

যোগীরা বলেছেন উস্ত্‍রসনা (Ushtrasana) বলতে বোঝায় জীবনের লক্ষ ও লক্ষ পুরণের রাস্তা খুজে পাওয়া।  

কারণ উট এক মাত্র পশু  যে মরুভূমিতে রাস্তা বুঝে ফিরতে পারে গন্তব্য স্থানে , মরিচিকা এই প্রাণীর দিক ভ্রষ্ট করতে পারে না । সবচেয়ে কঠোর সময়ের সাথে  সবচেয়ে বেশি তাল মিলিয়ে চলতে পারে এক মাত্র উট ।

নামকরণ: এই আসন নাম উস্ত্‍রসনা (ushtrasana) কারণ ,  এই আসনে আপনাকে দেখতে মুখ উচু করা উট এর আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির নাম উস্ত্‍রসনা (ushtrasana) ।  

আসন পদ্ধতি:

সবার প্রথমে পা জোর করে বসুন , তার পর আস্তে আস্তে হাটু থাকে পা দুটি ভাজ করে বডি কে সোজা করুন ।তার পর আস্তে আস্তে দুইট হাত কে মাথার উপর দিয়া নিয়ে  গিয়ে পা এর পাতা গুলি কে স্পর্শ করুন যতটা সম্ভব নিজের বডি ব্যালান্স রেখে।

হোল্ড করুন ১০ থাকে ২০ সেকন্ড ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন। ৩ থাকে ৪ বার এই আসন প্র্যাক্টিস করুন।

উপকারিতা: 

এই আসন আপনার হাত ও পায়ের পেশী কে শক্ত করে, বডি ব্যালান্স  করে ও পাটের সমসা দূর করে। হাত ও পায়ের বাত এর বাথ্যা দূর করে ও শরীরের flexibility আনে।

এই যোগ আসন ডিসিপ্লিন তৈরি করে যা একটি Entrepreneurs জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন । এই যোগ আসন আপনার স্ট্রেস হরমন ব্যালান্স করতে অন্যতম।


6. কূর্মাসন (kurmasana): 

এই শব্দ টি একটি sanskrit শব্দ যা বিবরণ পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে, যার মনে একাগ্রতা ও  ক্ষমতা । ক্ছপ কে snaskrit এ কূর্মা বলা হয় এবং এ ছাড়াও হিন্দু পূরণ অনুজাই ভগবান বিষ্ণুর রূপ যাকে আমরা কূর্মা অবতার বলি ।

এছাড়াও হিন্দু পুরাণে ক্ছপ বা কূর্মা  কে  ক্ষমতা বা জ্ঞান , সমতা বজায়কারি , দীর্ঘ আয়ুর  ও  শুভ শক্তির প্রতীক বলা হয়।

যোগের অনুপ্রেরণা: 

ক্ছপ এক মাত্র প্রাণী যে জল ও স্থল দুই যায় যায়গা তে বহু বছর  বাচতে  পারে তার ফলে এই প্রাণীর জ্ঞান অনেক বেশি । এই প্রাণী ক্ষমতার ও বুদ্ধির  প্রতীক কারণ এই প্রাণী জানে বিপদে নিজেকে রক্ষা করতে ও সঠিক সময় নিজের কাজ কে পূরণ করতে যা জানা নতুন entrepreneur দের জীবনে খুবই প্রয়োজন।

নামকরণ: এই আসন নাম কূর্মাসন কারণ ,এই আসনে আপনাকে দেখতে খোলসে থাকা ক্ছপ  এর আকাররে মনে হয় তাই এই আসনটির কূর্মাসন ।  

কূর্মাসন পদ্ধতি:

প্রথমে পা কে লম্বা ভাবে ছড়িয়ে দিন , পা কে এবার ডিম্বাকৃতি করুন। আস্তে আস্তে কোমর থাকে শরীর কে ভাজ করে আপনার মাথা পা এর পাতার কাছে নিয়ে গিয়ে মাটিতে ঠেকান যত টা সম্ভব ।

এবার পা এর তলা দিয়ে দুটি হাত বার করে কোমর এআর পিছনে নিয়ে  গিয়ে প্রণাম ভঙ্গিমাতে নিজে কে হোল্ড করুন ২০ থাকে ৩০ সেকন্ড । তার পর রিল্যাক্স করে বার প্র্যাক্টিস করুন ৩ থাকে ৪ বার ।   

উপকারিতা:

 আপনার গাস্টিক , আলসর , কিডনি তে পাথর হওয়া হাত থাকে মুক্তি দেয় এই আসন । আপনার বডির সমস্থ স্ট্রেস হরমোন কে সঠিক ভাবে ব্যালান্স করে এই আসন ।  এই আসন চিন্তা ভাবনার মধ্যে সমতা আনে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতার জন্য এই অন্যতম ।


আসা করছি আপনাদের পোস্টটি ভাল লেগেছে, আপনার কোন মোট মোট থাকলে কমেন্ট বক্সে জানতে ভুলবেন না, ধন্যবাদ।

আপনার যদি অনলাইনে মেডিটেশন শিখতে চান তবে call করুন +91 9433 657 349 এই নাম্বারে, ধন্যবাদ

যোগ প্রকৃত অর্থ কি | What is Yoga in Bengali

যোগ আসন কী (What is Yoga) :

সংস্কৃত শব্দ “যোগ” কেই ইংরেজী ভাষাতে YOGA বলে । আসলে যোগ মানে কিন্তু ব্যায়াম নয় এটি শরীর, মন, ও আত্মার ক্রম উন্নয়নের পদ্ধতি যার দ্বারা সমাধী  স্তরে পৌঁছান সম্ভব ।

সঠিক ভবে যোগ প্রণালী বুঝতে হলে নিজের সংকীর্ন মনের গন্ডি ছেড়ে সৃষ্টির মূলের দিকে তাকাতে হবেই। কারণ যোগ মানে আদির সঙ্গে প্রান্তের যোগ, অসীমের সঙ্গে সসীমের যোগ এবং জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার যোগ ।

এবং কেমন করে পরম তন্ময়তা লাভ করা যায়, যাতে মনের আয়নায় স্পষ্টভাবে জেগে থাকবে নিজের আসল স্বরূপের ছবি, এবং এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়াই যোগের আসল প্রয়াস।

“যোগসূত্র” গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় সূত্রে মহর্ষি পতঞ্জলি যোগের বর্ননা দিয়েছেন – ‘চিত্তবৃত্তি নিরোধ’। চিত্ত অর্থাত্‍ মন যা যোগ প্রণালীতে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত ।

চিত্তবৃত্তি নিরোধ’ অর্থ যোগ দ্বারা কাম, ক্রোধ, মোহ, অনুরাগ, স্নেহ এই পাঁচটি চিত্তবৃত্তি পরিহার। যা সম্পুর্ন করতে পারলে মানুষের মুক্তি লাভ ও নিজের জীবন কে নিজের নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।


যোগেশারিরীক ও মানসিক সংযুক্তি :

জানলে অবাক লাগবে আমাদের শরীর, কোনও না কোনও ভাবে এই অসীম মহাবিশ্বের এর সাথে কানেকটেড ও আমাদের শরীরের মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের সব সমসার সমাধানের পথ ।

আমাদের শরীর দেখতে সাধারন কিন্তু এটি খুবই জটিল | আপনি হয়তো জানেনই না এটি আসলে অনেক গুলি লেয়ার দিয়ে তৈরি | প্রতিটা স্তর এক এক প্রকার ভাবে মুক্তি ও জ্ঞানের দ্বার, শুধু আমাদের এই প্রণালীকে গভীরভাবে অনুভব করা ও প্রতি স্তরের সাথে সমতায় আসা প্রয়োজন ।

১। মনময় কোষ:

মনময় কোষের কাজ হলো মনকে উন্মুক্ত ও নিজের ভাবনাকে স্থিরতা প্রদান করা। কারণ আপনি যা ভাবছেন তার প্রভাব কোনও না কোন ভাবে আপনার শরীর ও আপনার জীবন এ প্রভাব ফেলে।

তাছাড়া ডাক্তাররাও মনে করেন আপনার সমস্থ শারিরীক সমসার 90 ভাগ আপনার মনের সাথে যুক্ত | আপনার চঞ্চল এবং সন্দেহবাতিক মনই হলো আপনার বেশিরভাগ রোগের মূল কারণ |

তাইতো মনের স্থিরতা থাকার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, আর সেই কাজকেই সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে মনময় কোষ | আর এই কোষের সর্বোচ্চ উপকারিতা তখনই পাওয়া সম্ভব যখন আপনি যেকোনো যোগ সাধনায় নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে সময় দেবেন |

২। প্রাণময় কোষ:      

প্রাণময় কোষ আপনার শরীরের একপ্রকারে এনার্জি সিষ্টেম । যদি আপনার এই এনার্জি সিষ্টেম আপনার শরীরের alignment-এর সাথে সঠিক অবস্থায় থাকে তবে কোনোদিন আপনার শারিরীক সমস্যা হবে না ।

আমাদের শরীরে তখনই সমস্যা তৈরী হয় যখন এই alignment কোনো ভাবে নষ্ট হয় । তাই এই alignment-কে সঠিক রাখতে প্রাণময় কোষের নিয়ন্ত্রণ সাধনে প্রাণায়াম বিশেষ ভূমিকা পালন করে |

৩। বিজ্ঞানময় কোষ:

বিজ্ঞানময় কোষের উন্নতি সাধনে আপনি পেতে পারেন অভূতপূর্ব জ্ঞান । আপনার শরীর নিজের ভিতরেই অসীম জ্ঞানকে ধরে রেখেছে | যা আপনার জেনে অবিশ্বাস্য লাগতেই পারে | কিন্তু এটা সত্যি |

 আমরা আজ প্রত্যেকেই বাইরের সব জ্ঞান এতটাই খুঁজতে ব্যস্ত যে নিজের অন্তরের এই জ্ঞান হাতের কাছে থেকেও সেটাকে আমরা অনুভব করতে পারছি না | যেটা খুবই প্রয়োজন অনুভব করার ।

মন যখন বিস্তারিত হয়ে একটি বিশেষ স্তরে পৌঁছায় তখন তাঁর মধ্যে ‘বোধি জ্ঞান’ জাগ্রত হয়। ধারণার দ্বারা বিজ্ঞানময় কোষ পুষ্ট হয়।

৪। আনন্দময় কোষ:

আনন্দময় কোষ হচ্ছে যোগের সবচেয়ে উচ্চতম অবস্থা যেখানে আছে শুধু পরমানন্দের অনুভুতি । এই কোষে বৈয়ষ্টিক চেতনা বা ছোট আমি বোধ থাকে বটে তবে তা অস্পষ্ট ও আবছা ভাবে। এই অবস্থায় বড় আমি বোধ অর্থাৎ আমিই ঈশ্বর এই ভাব জেগে ওঠে।

এই স্তরে মন সেই অনন্ত সত্তাকে পেতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই সূক্ষ্ম কারণ মন হ’ল পূর্ণত্বের দ্বার পথ। এখানে সামান্য একটা অতি সূক্ষ্ম আবরণ থেকে যায় মাত্র যা অতিক্রম করলেই আত্মার সেই আত্যুজ্জ্বল আলোকের দর্শন লাভ হয়। 

আমরা যা চাই সবই শরীর এর পক্ষে সম্ভব যেমন সুস্থ শরীর, সুস্থ মন, আনন্দ , শান্তি ও চিন্তা মুক্ত জীবন কিন্তু আমাদের শরীর সাধারণত সেই সমতায়ে নেই তাই যোগ বা yoga এমন এক প্রক্রিয়া যা আমাদের সেই সমতা প্রদান করে এই গুলো achieve করতে সাহায্য করে ।


আরো পড়ুন: যোগব্যায়াম করার টিপস

যোগের প্রকার (Types of Yoga) :

যোগ প্রধানত চার ভাগে বিভক্ত | যেমন- কর্ম যোগ, জ্ঞান যোগ, ভক্তি যোগ এবং রাজ যোগ |

১।   কর্ম যোগ:

কর্ম যোগে বলা হয়, ভালো কর্মই মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং আমাদের সর্বদা ব্যক্তিগত ফলাফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে ধর্ম অনুযায়ী কাজ করা উচিত । কর্মের মধ্যেই ধর্ম এবং ধর্মের মধ্যেই কর্ম লুকিয়ে রয়েছে | যে যোগী নিষ্কাম মনোভাব নিয়ে করে অর্থাৎ ফলের চিন্তা ছাড়া কাজই যার একমাত্র উদ্দেশ্য হয় সেই একমাত্র আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকে লাভ করতে পারে |

২।  জ্ঞান যোগ:

জ্ঞানযোগ হল নাম ও রূপের বাইরে গিয়ে পরম সত্যকে উপলব্ধির পথ । এই অনুসারে, সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমেও মোক্ষ লাভ কিংবা আত্মজ্ঞান সম্ভব।

যে যোগী, সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে যাবে, সে দ্রুতই নিজের আসল স্বরূপকে উপলব্ধি করতে পারবে এবং অবশেষে এর মাধ্যমে সে আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে | 

৩।  ভক্তি যোগ:

ভক্তিযোগ হচ্ছে  ভগবানকে লাভ করার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় ভক্তির নয়টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে । যেমন – শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, বন্দন,অর্চন, পাদসেবন, দাস্য,সখ্য ও আত্মনিবেদন ।

যে যোগী নিজেকে শুধু ভগবান কিংবা পরমাত্মার কাছে নিজেকে পুরোপুরি অর্পণ করে দেবেন ভক্তির মাধ্যমে, সেও শেষে আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে|  

৪। রাজ যোগ :

রাজযোগের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে রাজার মতো নিজের অন্তরকে আত্মবিশ্বাসী, ভয়হীন এবং আত্মনিয়ন্ত্রিত বানানো | এই যোগকে অষ্টাঙ্গ যোগও বলা হয়ে থাকে |

যেটা এই ৮টি অংশ দ্বারা গঠিত- যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি | যে যোগী এই অষ্টাঙ্গ যোগ সাধন করতে পারবে সেও আত্মজ্ঞান কিংবা পরমাত্মাকেও লাভ করতে পারবে অনায়াসে |  


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন কিংবা আমাদের সেন্টারে এসে অফলাইনে শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

Exit mobile version
0