Yoga সাথে ফ্যাট লসের গ্যারান্টি | 10 Yoga for Fat loss in bengali

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) রিপোর্ট অনুজাই বিশ্বের 1.9 বিলিয়ন মানুষ যাদের বয়স ১৮ বছরের উপর তারা Overweight এবং এদের মধ্যে প্রায় বেশি ভাগ মানুষ মেদবৃদ্ধি  obesity সমস্যাতে ভুগছেন।

2018 আর একটি পরিসংখান অনুজাই 40 মিলিযান বাচ্ছা যাদের বয়স 5 বছরে নিচে তারাও obesity বা শরীরে জমা extra Fat এর শিকার।

বর্তমানে এই পরিসংখানের বেশির ভাগ মানুষের অকাল মৃতুর কারন হয়ে দাড়ছে  overweight এবং obesity।

এছাড়াও আছে রোজ কার বাড়তে থাকা স্ট্রেস, ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি হীন জীবন ও খুব কম পরিমাণে টাটকা ফল মূল ও সবুজ শাক সবজি খাওয়া অভ্যাস ।

তাই প্রতিটি মানুষের বয়স অনুজাই নিজের বডির ওজন জেনে নেওয়া উচিত সঠিক BMI চার্ট অনুজাই।   

প্রতিটি মানুষ যাদরে ওজন বেশি তাদরে সবার আগে সতর্ক হওয়া উচিত্‍, রোজ কম বেশি শারিরীক অ্যাক্টিভিটি করা উচিত না হলে পরিণাম খারাপই হবে।

তাই আজ আমার বিশেষ 10টি যোগ আসনের কথা বলব যা ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি ঘাটতি কম করে ও ফ্যাট লস করতে সাহায্য করবে।


1.  নটরাজ আসন (Natarajasana):

নটরাজ আসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=TXNgRNsqcPo

প্রথমে একটি সমতল যায়গা খুজে মেরুদণ্ড সোজা করে দাড়ান, এর পর নিজের বড়িকে ব্যালান্স রেখে ডান পা হাটু থেকে ভাজ করে ব্যুকের কাছে আনুন।

এর পর ডান হাত দিয়ে পায়ের বুড়ো আঙুল ধরে, ডান হাতের সাহায্য নিয়ে পা কে পিঠের দিকে নিয়ে যান, বডি কে ব্যালান্স রাখতে আপনি নিজের বাম হাত সামনের দিকে লম্বা করে রাখতে পারেন।  

এবার পা কে ছেড়ে দিয়ে মাথার উপর দিয়ে 2টি হাত কে ঘুরিয়ে নিয়ে গিয়ে পায়ের পাতা স্পস করুন বা ধরুন।

যদি আপনার ব্যালান্স করতে অসুবিধা হয় আপনি বাম হাত সামনের দিকে ছড়িয়ে রাখতে পারেন বা কোন দেওয়াল স্পর্শ করে সাপোর্ট নিতে পারেন। একই ভাবে হাত ও পা পাল্টে আবার প্র্যাক্টিস করুন।    

নটরাজ আসন উপকারিতা:

এই আসনটি আপনার তল পেট, থাই ও পায়ের পেশী কাছে জমে থাকা extra ফ্যাট কে কমায় ও পেশী গুলির মধ্যে নমনীয়তা আনে।

এই আসন শরীরে মধ্যে তৈরি হওয়া স্ট্রেস হরমোন কে কমায় এবং ইনসুলিন লেভেল কে সঠিক ভাবে ব্যালান্স করে এই আসন।


2. নবাসন (Navasana):   

নবাসন আসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=QVEINjrYUPU

প্রথমে একটি সমতল যায়গা তে বসুন দুটি পা কে সামনের দিকে ছড়িয়ে ও মেরুদণ্ড কে সোজা করে।

এর পর মাটিতে দুটি হাত রেখে ও হাতের উপর জোর দিয়ে নিজের আপার বডি কে পিছনের দিকে 45 ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে নিয়ে আসুন।

এর পর একই ভাবে নিজের দুটি পা কে সামনের দিকে উপরে তুলুন ঠিক 45 ডিগ্রি আঙ্গেলে, এবার মাটি থেকে দুটি হাত কে তুলে কাধের সমান সমানে লম্বা করে সামনের দিকে ছড়ান।

যেন হাত দুটি পা কে স্পর্শ না করে, এই অবস্থা নিজকে হোল্ড করুন ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন। একই ভাবে হাত ও পা পাল্টে আবার প্র্যাক্টিস করুন।

নবাসন উপকারিতা:

এই আসন আমাদরে পেটের ও থাই এর নিচের দিকে ও দুটি হাতে উপরের অংশে জমে থাকা অতিরিক্ত মেদ কে কমায়।

এবং পেশী গুলি শক্ত, নমনীয় ও সুগঠিত করে, এছাড়া এই আসন শরীরের ও কিডনির কাছে জমে থাকা বজ্র পদার্থ গুলি ন্নিষ্কাশন করেতে ও হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।   


3. ত্রিকোণ আসন (Trikonasana) :

ত্রিকোণ আসন প্রণালী:

প্রথমে একটি সমতল যায়গা খুজে মেরুদণ্ড সোজা রেখে লম্বা ভাবে দাড়ান, এবার দুটি পা কে যতটা সম্ভব দুদিকে ছড়ান।

নিজের দুটি হাত কে সোজা করে দুদিকে ছড়ান ও নিজের পায়ের পাতা গুলিকে ডান দিকে ঘুরিয়ে নিন।এবার আস্তে আস্তে কোমর থেকে বেন্ড করে নিজের হাতকে ডান পায়ের পাশে হাতের তালু মাটিতে স্পর্শ করান।

ও নিজের ডান হাতকে উপরে সমান ভাবে তুলে রাখুন, এবং গভীর ভাবে নিশ্বাস নিয়ে হোল্ড করুন যতটা সম্ভব। একই রকম ভাবে হাত ও পা কে পরিবর্তন করে আসানটি প্র্যাক্টিস করুন।

ত্রিকোণ আসন উপকারিতা:

এই আসন আমাদরে পেট ও কোমরে দুই পাশে হাতের মধ্যে জমে থাকা চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এই আসন মেরুদণ্ড কে শক্ত করে ও হাত ও পায়ের পেশী কে শক্ত করতে সাহায্য করে।


4. ফলকাসন (Phalakasana):

ফলকাসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=MGj1eknWWTo

প্রথমে একটি পূর্ণ সমতল যায়গা খুজে পেটর উপর ভর দিয়ে লম্বা ভাবে সুয়ে পড়ুন।এবার হাত দুটি বুকের দুই পাশে সামান্য একটু দুরুত্বে রাখুন।

এর পর নিজের পায়ের পাতার সামনের অংশ ও দুই হাতের সাহায্যে নিজেকে পুরো শরীরকে উপরে তুলুন।  

শুধু হাত ও পা ছাড়া কোন অংশ মাটিতে টাচ না করে, এই পজিসানে গভীর ভবে নিশ্বাস  নিয়ে নিজেকে হোল্ড করুন।

ফলকাসন উপকারিতা:

শরীরের মেদ বা চর্বি কমানর জন্য এই আসনের মত উপকারী আসন দ্বিতীয় কিছু নেই।

এই আসন সারা পেট, কোমর, হাত ও পায়ের থাই এবং পেটের ও বুকের দুই পাশে জমা চর্বি বা ফ্যাট কে দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।দুটো হাতের জোর পেশী ও কাধের নমনীয়তা ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এই আসন।    


5।  বীরভদ্রা আসন (Virabhadrasana):

বীরভদ্রা আসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=uEc5hrgIYx4

প্রথমে একটি সমতল যায়গা খুজে মেরুদন্ড সোজা করে দাড়ান, এর পর বুকের কাছে হাত জোর করে কোমর থেকে নিজের শরীর থেকে বেন্ড করুন নিচের দিকে।

এর পর আস্তে আস্তে নিজের ডান পা লম্বা করে পিছন দিকে ছড়ান এবং কোমর থেকে নিজেকে বডিকে লক করুন।

এবার নিজের হাত দুটি সামনে লম্বা করে ছড়ান প্রয়োজনে হাত জোর করে প্রণাম পজিশানে দাড়াতে পারেন। এই অবস্থায হোল্ড করুন ও পা পরিবর্তণ করে আবার প্র্যাক্টিস করুন।

বীরভদ্রা আসন উপকারিতা:

এই আসন আমাদরে থাই ও পেটের নিচের দিকে সমস্থ ফ্যাট কমতে, শরীরের সমস্থ হরমোন কে ব্যালান্স করতে ও হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।    


6.  হ্যালাসন (Halasana) :

হ্যালাসন পদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=guM2w_i55Vw

সবার প্রথম একটি পূর্ণ্য সমতল যায়গা তে শুয়ে পড়ুন, দুটি হাত থাকবে  কোমরে দুই পাশে লম্বা ভাবে।দুটি পায়ের মধ্যে যেন কোন গ্যাপ না থাকে, ও যেন পায়ের দুটি বুড়ো আঙুল এক সাথে স্পর্শ করে থাকে।

এবার দুটি হাতের উপর ভর রেখে পা দুটি মাথার পিছন দিকে নিয়ে যান যত টা সম্ভব্ হয়  ও মাটিতে স্পর্শ করান ।লক্ষ রাখতে হবে পা যেন বেন্ড না হয় ও কোমর যেন মাথার পিছনের দিকে চলে না আসে।

উপকারিতা:

এই আসন আমাদের বডির গুরুত্ত পূর্ণ অঙ্গ যেমন হার্ট এর রক্ত সঞ্চালন করা ও স্ট্রেস হরমোন কনট্রোল করার মত গুরুত পূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

এই আসন সুগার ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে ও শরীরের stiffness কম করে এবং শরীরের মধ্যে ব্যালান্স বজায় রাখে।   


7. উস্তাসন পদ্ধতি (Ustrasana):

উস্তাসনপদ্ধতি:

https://www.youtube.com/watch?v=_NNnowkcIqU

সবার প্রথমে একটি সমতল জায়গায় পা জোর করে বসুন, তার পর আস্তে আস্তে হাটু থাকে পা দুটি ভাজ করে হাটুর উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাড়ান ও মেরুদণ্ড কে সোজা করুন।

তার পর আস্তে আস্তে দুটি হাত কে মাথার উপর দিয়া নিয়ে পিছনে শরীরকে বেন্ড করে পা এর পাতা গুলি কে স্পর্শ করুন যতটা সম্ভব নিজের বডি ব্যালান্স রেখে। এবার নিজেকে হোল্ড করুন এই আসনে ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

উস্তাসন উপকারিতা: 

এই আসন আপনার হাত ও পায়ের পেশী কে শক্ত করে, বডি কার্য ক্ষমতা ব্যালান্স  করে। হাত ও পায়ের বাত এর বাথ্যা দূর করে ও শরীরের flexibility আনে।

এই আসন শরীর থাকে অতিরিক্ত লবণ ও বজ্র পদার্থ নিষ্কাশন থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন হরমোন কেন্দ্রিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।   


8. অর্ধ পিঞ্চা মযুরাসন (Dolphin pose):

অর্ধ পিঞ্চা মযুরাসন পদ্ধতি :

প্রথমে  একটি  পূর্ণ সমতল যায়গা বেছেনিন ও নিজের শরীর কে হামগরী দেওয়ার পজিশানে নিয়ে আসুন হাটু ও কোনুই সাহায্যে।

এবার দুটি হাত কাছে এনে  হাতের 10টি  আঙুল একে অপরের সাথে interlock করুন ও নিজের মাথা নিচে দিকে সমান করুন। এর পর হাতের কোনুই ও সামনের অংশ মাটিতে রেখে কোমর থেকে নিচের অংশ কে ধীরে ধীরে উপরে তুলুন।

যেন আপনার বডি কে দেখতে উল্টো V আকারের মনে হয়, এই পজিশন নিজেকে হোল্ড করুন ও গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

অর্ধ পিঞ্চা মযুরাসন উপকারিতা:

এই আসন আমাদের ব্রেন এর মধ্যে রক্ত সঞ্চালন থেকে শুরু করে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।

এছাড়াও Heart ও lungs এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও হাত ও কোমরেরে বিভিন্ন পেশী কে শক্ত সমর্থ করে। 


9. ধনুর আসন (Dhanurasana):

ধনুর আসন পদ্ধতি:

প্রথমে একটি সমতল যায়গা বেছে নিন ও সম্ভব হলে মেঝের উপর কিছু পেতে নিন।তার পর বুকের উপর ভর দিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ুন, হাত লম্বা ভাবে মাথার দিকের ও পা সমান ভাবে বিনা কোন গ্যাপ দিয়ে লম্বা ভাবে ছড়িয়ে রাখুন।

এর পর পা দুটি হাটু থেকে ভাজ করুন ও ধীরে ধীরে মাথার দিকে নিয়ে আসুন লক্ষ রাখবেন পায়ের মধ্যে বেশি গ্যাপ না হয় ও পেট যেন মাটিতে স্পর্শ করে থাকে।

এবার মাথার পিছন দিক হাত দুটি স্ট্রেচ করে নিয়ে আসুন ও পায়ের বুড়ো আঙুল কে স্পর্শ করুন।

ধনুর আসন উপকারিতা:  

এই আসন আমাদরে পেট ও কোমররে কাছে দীর্ঘ দিন ধরে জমে থাকা ফ্যাট কে কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া আসন আমাদরে endocrine gland কে উদ্দীপিত করতে শরীরের ইনসুলিন ও নানা হরমোনের সমতা আনতে সাহায্য করে।         


10. চক্রাসন (Chakrasana):  

চক্রাসন আসন পদ্ধতি:

প্রথমে আপনি শুয়ে পড়ুন একটি সমতল যায়গাতে শবাসনে, ও নিজের পায়ের মধ্যে যেন খুব সামান্য ফাক থাকে এবং নিজের হাত মাথার উপর দিকে থাকে।এর পর পা হাটুতে থেকে ভাজ করুন আস্তে আস্তে বডি কে উপরে দিকে তুলুন।

এবং হাতের তালুর সাহায্যে বডির উপরের অংশ তুলুন ও যতটা সম্ভব হাত কে পায়ের দিকে প্রসারিত করুন। যাতে শরীর একটি চক্র আকার ধারন করে এই পজিশনে গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন।

চক্রাসন উপকারিতা:

এই আসন আমাদের স্পাইন ও পেটের মাসেল কে স্ট্রেচ ও পেটের চর্বি কমাতে এবং শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা কম করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে।

এছাড়াও বডির স্ট্রেস হরমোন ও অক্সিজেন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং হার্ট প্রোব্লেম থেকে মানুষ কে দূরে রাখে এই আসন।  


আর পড়ুন : meditation ও উপকারিতা, আর পড়ুন : yoga nidra কী ?


সুস্থ থাকতে ও আমাদের সমস্থ নতুন article আপডেট পেতে উপরে বা নিচে থাকা Bell Icon ক্লিক করুন


আশা করি আমি আপনাদের উত্তর দিতে পারেছি , আপনার মূল্য বান মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানতে পারেন। ধন্যবাদ


যোগব্যায়াম করার টিপস | Yoga Tips in Bengali

যোগব্যায়াম পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ একটি অনুশীলন প্রক্রিয়া | যে মানুষ রোজ যোগব্যায়াম করে, তার শরীর ও মন হয়ে ওঠে সতেজ এবং সুস্থ | কিন্তু এই যোগ ব্যায়াম করার আগে যোগ ব্যায়ামকারীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানার প্রয়োজন আছে |

সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হলো:

১. যোগব্যায়াম করার নির্দিষ্ট একটি বয়স আছে | যেকোনো বয়স থেকেই যোগব্যায়াম শুরু করে দেওয়া যায় না | যোগব্যায়াম অভ্যাসকারীর কমপক্ষে ৫ বছরের উপরে বয়স হওয়া প্রয়োজন | যদি আপনার সন্তানের ৫ বছর উর্ধ্বে বয়স না হয়ে থাকে তাহলে তাকে কখনোই জোর করবেন না এটা করার জন্য |

2. যোগব্যায়াম কিন্তু নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে | যোগের অনেক ব্যায়াম কিন্তু একজন নারীর পক্ষে এবং একজন ৭০ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তির পক্ষে করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা | তাই আপনি যদি এমন একটি যোগাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে থাকেন যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সব ধরনের ব্যায়াম করানো হয়, তাহলে সাবধান হয়ে যান এবং দ্রুত নিজের যোগাসন কেন্দ্রটিকে পরিবর্তন করুন |

৩. বছর ১০-১৫ বয়সই ছেলে-মেয়েরা, প্রত্যেকটি যোগাসন প্রথম প্রথম ৩০ সেকেন্ড করে 8 বার অভ্যাস করবে | তারপর ধীরে ধীরে যখন তুমি প্রত্যেক আসন ৩০ সেকেন্ড করতে সাবলীল হয়ে যাবে তখন সেটা করার সময় সীমাকে আসতে আসতে ১৫ সেকেন্ড করে বাড়াও |  

8. অনেকদিন অভ্যাসের ফলে একআসনে বসে থাকার ক্ষমতা আমাদের বৃদ্ধি পায় | তখন সমস্ত যোগাসন অভ্যাসকারীরা একের পর এক আসন ৪বার করে অভ্যাস না করে বরং সেই প্রত্যেকটিকে অন্তত 8 থেকে ৫ মিনিট ধরে অভ্যাস করলে ভালো হয় | তারপর প্রত্যেকটি আসন এইভাবে 8-৫ মিনিট ধরে করার পর ১ মিনিটের শবাসনের মাধ্যমে বিরতি নেওয়া যেতে পারে |

৫. যোগাসন অভ্যাসকারীর প্রত্যেকটি আসন অভ্যাসকালে যেই আসনটি অভ্যাস করছে তার উপকারিতা সম্পর্কে নিজ মনে চিন্তা করা উচিত এবং নিজ শরীর ও মনের উপর সেটির প্রভাবকে উপলব্ধি করতে চেষ্টা করা উচিত |

৬. যোগব্যায়াম শেষে মিছরি, আখের রস কিংবা আখের গুড়ের সরবৎ একটু লবন মিশিয়ে পান করা স্বাস্থের পক্ষে ভালো |

৭. মেয়েদের পিরিয়ডসের সময় কখনোই যোগাসন করা উচিত নয়, অন্তত এক সপ্তাহের জন্য এইসবের থেকে বিশ্রাম নেওয়া উচিত |

৮. আপনি যদি রোজ যোগাসন করেন তাহলে সপ্তাহে একদিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিন | প্রতিদিন জোর করে এবং শরীরকে বিশ্রাম না দিয়ে যেকোনো ধরনের শারীরিক চর্চা আপনার স্বাস্থ্য অবনতির মূল কারণ হয়ে উঠতে পারে | তাই নিজেকে সপ্তাহে একদিন করে বিশ্রাম দিন |

৯. যোগাসন করার সময় পায়ের নীচে পাতলা গদির মতো কোনো আসন রাখলে যোগাসন করার ক্ষেত্রে আপনার অনেক সুবিধা হতে পারে |

১০. অনেকেই মনে করেন যোগব্যায়াম করার নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে | তা কিন্তু মোটেই নয় | অভ্যাসকারী নিজের সুবিধা মত ভোরবেলা কিংবা রাত্রে শোবার আগে এটি অভ্যাস করতে পারে | কিন্তু সকালে ছাড়া অন্য কোনো সময়, খালি পেটে যোগাসন করা একদমই উচিত নয়, এমনকি ভরা পেটেও যোগাসন করা উচিত নয় |

১১. যোগাসন শুরু করার আগে খালি হাতের ব্যায়াম করে নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন | শরীরকে ওয়ার্ম আপ না করে ব্যায়াম করলে, আপনার ভয়াবহ চোট লাগতে পারে | তাই সাবধান |

১২. শীর্ষাসন করার পর কখনোই কিন্তু শবাসন করা উচিত নয় | যদি আপনি এটা করে থাকেন তাহলে আপনার মাথা যন্ত্রণা হবেই | কারণ আমরা যখন শীর্ষাসন করে থাকি তখন আমাদের শরীরের সমস্ত রক্ত মাথার দিকে যেতে শুরু করে, যদি তখনই আমরা আসনটি শেষ করার পর সাধারন আসনে না বসে থাকি এবং শবাসন করা শুরু করে দিই তাহলে মাথার রক্ত শরীরের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে পারেনা, যারফলে শুরু হয় মাথা ব্যথা |

১৩. আসন অভ্যাসকালে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিকভাবে নিতে এবং ছাড়তে হয় | কোনো অবস্থাতেই দম বন্ধ করে যোগাসন করা উচিত নয় |

১৪. যোগমুদ্রা ছাড়া আর অন্য কোনো মুদ্রা ১০ থেকে ১২ বছরের কম বয়সই ছেলেমেয়েদের করা উচিত নয় এমনকি ঋতুচক্র তৈরী হয়নি এমন মেয়েদেরও এটি করা উচিত নয় |

১৫. শুধুমাত্র রোগীরা যারা কোনো বিশেষ রোগ নিরাময়ের জন্য যোগাসন করবে, তারা কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি আসনের শেষে প্রয়োজন মতো শবাসন অভ্যাস করবে |

১৬. রক্তচাপ অনেক বেশি হলে শবাসন ছাড়া আর কোনো আসন করা উচিত নয়, নাহলে আপনার জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে |

১৭. লিভার বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে পশিমোত্তানাসন, শলভাষণ ও ভুজঙ্গাসন করা উচিত নয় |

১৮. হার্টের সমস্যা থাকলে শীর্ষাসন করা উচিত নয় |

১৯. প্রেগনেন্ট হওয়ার ৩ মাস পর্যন্ত যোগ ব্যায়াম করা যেতে পারে এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার ৩ মাস পর থেকে যোগ ব্যায়াম শুরু করা ভালো এতে প্রসবের পর থলথলে ঝোলা পেটের সমস্যা দূর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি |

20. আপনার যদি অনিদ্রা কিংবা স্বপ্নদোষের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে গোমুখাসন করা শুরু করুন | আপনার এই সমস্যা অতি তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যাবে |

২১. যোগব্যায়াম এক প্রকার হালকা ধরনের অনুশীলন প্রক্রিয়া | এই ব্যায়াম অভ্যাসে মানুষের শরীরে স্নায়ুর ক্ষমতাবৃদ্ধি পায় এবং বয়সকালে বিভিন্ন মাংশপেশীর স্বাভাবিক গঠন এবং শক্তিলাভ সম্ভব হয় |

২২. হার্নিয়া হলে কোনো প্রকারের পেটের ব্যায়াম করা উচিত নয় | আপনি যদি তা করেন তাহলে আপনার হার্নিয়া ফেটে যেতে পারে |

বি: দ্র: যোগাসন সম্পর্কে আরো বিস্তরভাবে জানতে চাইলে অবশ্যই আপনি নীলমনি দাসের যোগাসনের বই পড়ুন |


আশা করি মেডিটেশন নিয়ে আপনার সমস্ত doubt আমরা clear করতে পেরেছি | লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই এটিকে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানান আপনার মতামত |


এছাড়া আপনি যদি সত্যিই মেডিটেশন অনলাইন কিংবা আমাদের সেন্টারে এসে অফলাইনে শিখতে চান তাহলে এখুনি কল করুন +91 9433-657-349 এই নাম্বারে |

Exit mobile version
0