মেডিটেশন কি? (What is Meditation)
মেডিটেশন হলো একটি মানসিক অনুশীলন, যেখানে আপনি নিজের মনকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত করেন—যেমন শ্বাস, শব্দ, মন্ত্র বা অনুভূতি।
সহজভাবে বললে, মেডিটেশন মানে হলো “বর্তমান মুহূর্তে থাকা”। আমাদের মন সাধারণত অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
মেডিটেশন সেই অস্থিরতা কমিয়ে মনকে বর্তমানের মধ্যে স্থির করে।
মেডিটেশন করার ৬টি সঠিক ধাপ
এখন আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে আসি—
👉 কীভাবে সঠিকভাবে মেডিটেশন করবেন
1. শরীর প্রস্তুতি বা শারিরীক স্থিতি (Preparation Phase) :
মেডিটেশনের প্রথম ধাপ হল হল শারিরীক স্থিতির সঠিক মূল্যায়ন। কারণ যোগ গুরু ও সিদ্ধ মুনি ঋষিরা বলছেন ধ্যান প্রক্রিয়া কোন সাধারন ক্রিয়া নয়।
প্রতিটি কাজের মত ধ্যান সাধনার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা জরুরী। ধ্যান ক্রিয়ার জন্য উত্তম অবস্থা হল প্রথম অহার পূর্বের অবস্থায় বা খালি পেটে থাকা অবস্থা।
কারণ ভরা পেটে শরীর শুধু মাত্র খাদ্য হজম স্থিতি কে প্রাধান্য দেয় যা আমাদের বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শারিরীক পুষ্ঠী সাধন করে। তাই মেডিটেশন শুরু করার আগে নিজের শারিরীক স্থিতির কথা ভাবা অতি গুরুত পূর্ণ।
2. সঠিক আসন:

দ্বিতীয় ধাপ হল সঠিক আসন দ্বারা ধ্যান প্রক্রিয়া অবলম্বন করা। যার দ্বারা মেরুদণ্ড সোজা ও নির্দিষ্ট স্থিতি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।তাই মেডিটেশনের জন্য কিছু বিশেষ আসন গ্রহণ করা আবশ্যক হল পদ্মাসন, সুখাসন ও বজ্রাসন ইত্যাদি।
যা মেডিটেশন বা ধ্যান প্রক্রিয়া নিজের সম্পুর্ন রূপে শরীর কে সমর্পণ করতে সাহায্য করে ও নির্দিষ্ট আসনে মনের অস্থিরতা স্থির হয়ে ওঠে।
কারণ যোগ গুরু ও ঋষিদের মতে ধ্যানের অনুসরণের জন্য নির্দিষ্ট আসন অবশই প্রয়োজন।
3. শ্বাস গ্রহণ প্রণালী:
তৃতীয় হল শ্বাস প্রণালী, মেডিটেশন করার সময় সম্পুর্ন গভীর ভাবে নিশ্বাস নিন, কিছু ক্ষন হোল্ড করুন ও আস্তে আস্তে ছারুন যাতে সম্পুর্ন chest ও lungs engage হয়।
কারণ ভিন্ন ভিন্ন নিশ্বাস প্রণালী শরীরের বিভিন্ন এনার্জি সিষ্টেম কে অ্যাক্টিভ করে যাতে মন খুব সহজে শান্ত ও শরীর এবং মনের সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে।
4. সঠিক মুদ্রা বা হাতের অবস্থান ভঙ্গি :
চতুর্থ ধাপ হল সঠিক মুদ্রা ধারন করা, যা ধ্যান বা মেডিটেশন প্রক্রিয়ায় মন সংযোগে সাহায্য করে, এবং শরীরের মধ্যে ধ্যান প্রক্রিয়া অবলম্বনের সঠিক স্থিতি প্রদানে সাহায্য করে।
বিধি গত নিয়ন অনুসারে মুদ্রার মধ্যে ধ্যান মুদ্রা ও জ্ঞান মুদ্রা অন্যতম, এছাড়াও আছে বায়ু মুদ্রা, প্রাণ মুদ্রা ও সূর্য মুদ্রা। প্রতিটি মুদ্রাই নির্দিষ্ট গুণ সম্পন্ন যা ধ্যান প্রক্রিয়ায় অসামান্য ভূমিকা পালন করে।

ধ্যান মুদ্রা প্রক্রিয়া:
প্রথমে নিজের ডান হাত কোলের উপর রেখে তার উপর নিজের বাম হাত লম্বা লম্বি ভাবে রাখুন দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি মাথা এক অপরের সাথে যুক্ত করলে ধ্যান মুদ্রা তৈরি হবে।
জ্ঞান মুদ্রা প্রক্রিয়া:
প্রথমে নিজের দুটি হাত দুটি পায়ের হাটুর উপর রাখুন্, এর পর হাতের সমস্থ আঙুল লম্বা লম্বি ভাবে রেখে শুধু বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী এক সাথে যুক্ত করলে তৈরি হয় জ্ঞান মুদ্রা।
প্রতিটি মুদ্রাই নির্দিষ্ট কিছু গুণ সম্পন্ন যা ধ্যান প্রক্রিয়ায় অসামান্য ভূমিকা পালন করে।
5. মন সমর্পণ:
পঞ্চম ধাপ হল পূর্ণ মন সমর্পণ যার দ্বারা একমাত্র ধ্যান মগ্ন হওয়া প্রক্রিয়া সম্ভব, বীনা মন সমর্পণে মেডিটেশন করা কোন ভাবেই সম্ভব না।
মন্ সমর্পণ অর্থ হল মন কে পর্ণ রূপে একটি মাত্র কাজে সম্পুর্ন রূপে কেন্দৃভূত করা ও পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে সমগ্র প্রক্রিয়া গ্রহণ করা।
এক মাত্র মনে পূর্ণ একাগ্রতা ও স্থিরতা দ্বারা মন সমর্পণ সম্ভব। এবং অবাক করা বিষয় হল মেডিটেশন আগে 2টি ধাপ অর্থাত্ সঠিক আসন ও সঠিক শ্বাস প্রণালী আমাদের মন সমর্পণ অনেক খানি সাহায্য করে।
6. মেডিটেশন বা সাধনা প্রণালী অনুসরণ:

ষষ্ঠ ধাপ হল নির্দিষ্ট সাধনা প্রণালী অনুসরণ, অর্থাত আমরা কোন প্রকারের মেডিটেশন ধরনের প্রক্রিয়া সম্পুর্ন করছি।
যেমন হল Guided Meditation, Gratitude meditation, Body Scan meditation, Yoga Nidra meditation ইত্যাদি হল প্রথম কিছু সহজ ধরনের মেডিটেশন যা সবাই খুব সহজে অভ্যাস করতে পারেন। নতুনদের জন্য Guided Meditation সবচেয়ে সহজ।
আর পড়ুন: মেডিটেশনের সম্পর্কে বিশেষ কিছু প্রশ্ন উত্তর।
মেডিটেশন বা ধ্যান প্রণালীর গুরুত্ব পূর্ণ নিয়ম বিধি (Important Rules for meditation) :
- মেডিটেশন করার সময় মুখ সর্বদা পূর্ব দিকে থাকা উচিত।
- মুখ ধ্যান বা মেডিটেশন সময় মেরুদণ্ড সোজা ও মাথা সামান্য পরের দিকে থাকে।
- ভরা পিটে কখনো মেডিটেশন করা উচিত না।
- শুয়ে শুয়ে কখনো মেডিটেশন বা ধ্যান অভ্যাস করা উচিত্ না।
- চারি দিক বদ্ধ স্থানে কখনো ধ্যান অভ্যাস করা উচিত না।
আর পড়ুন প্রাথমিক অবস্থায করা 10টি মেডিটেশন সম্পর্কিত ভুল অভ্যাস।
